সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

চার মাস বাড়ার পর মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়ালো ৮ শতাংশে


প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

চার মাস বাড়ার পর মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়ালো ৮ শতাংশে

  • মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে
  • ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ
  • আগামীতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, আশঙ্কা অর্থমন্ত্রীর

পরপর চার মাস বাড়ার পর অবশেষে মার্চে মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য দিলো সরকার। ফেব্রুয়ারিতে নয় শতাংশের ঘরে পৌঁছে যাওয়া মূল্যস্ফীতির হার এক মাসের ব্যবধানে আবার আট শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে। একমাস আগেও যা ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার দিয়ে বোঝায়, গত বছর মার্চ মাসে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় মিলেছে, তা চলতি বছরের মার্চে পেতে খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ৭১ পয়সা।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি খাদ্যপণ্যসহ সকল দ্রব্যের দাম বাড়বে বলে ইতোমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এদিন এক সভায় তিনি বলেন, ‘আসলে জ্বালানি সংকটটা অতিরিক্ত সংকট। একটা দুর্যোগ। এই যে সমস্যার কথাগুলো আমি বললাম, এর ওপরে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এটা এখন জ্বালানি সংকটের মাধ্যমে হচ্ছে। শুধু জ্বালানি সংকট নয়, সমস্ত কমোডিটি খাদ্যদ্রব্যের ওপর প্রভাব পড়বে। সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়বে, টোটাল সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সবকিছুতে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।’

সাড়া বিশ্বেই এর প্রভাব পড়ছে বলে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এর ফলে সাপ্লাই চেইন ডিজরাপ্টেড হবে। এটা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটা গ্লোবাল বিষয়। আমেরিকায় তেলের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে, শ্রীলঙ্কায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আমরা কিন্তু এখনো বাড়াইনি। না বাড়িয়ে কতক্ষণ আপনি থাকবেন? যেহেতু আমরা নির্বাচিত সরকার আমরা চেষ্টা করছি জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি না করার জন্য। কিন্তু একটা সময় এই চাপটা নিতে পারবে না সরকার। এবং চাপ যদি নিতে না পারে, সরকারি তহবিলের এভাবে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে আল্টিমেটলি জনগণেরই ক্ষতি হবে।’

মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য বলছে, মার্চ মাসে মূলত দাম কমেছে খাদ্যপণ্যে। তাও বেশ বড় ব্যবধানে। মার্চে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে যা ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ ছিল। অন্যদিকে খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশে যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ০১ শতাংশ।

খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় টানা চতুর্থ মাস মূল্যস্ফীতি বেড়ে ফেব্রুয়ারি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে উঠেছিলো।

মূল্যস্ফীতির এই হার গতবছরের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। ওই সময় এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। মে মাসে তা কমে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ হয়েছিলো। এরপর তা কমতে কমতে গতবছর অক্টোবর মাসে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এসেছিলো, যা ৩৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

এরপর থেকে ফের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির পারদ। গতবছর নভেম্বরে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশের পর জানুয়ারিতে এই হার ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারিতে তা এক লাফে ৯ শতাংশে পৌঁছানোর পর ফের ৮ শতাংশের ঘরে এল মূল্যস্ফীতি।

মার্চে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশে যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ২১ শতাংশ। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারির ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যস্ফীতি কমার সঙ্গে সঙ্গে সামান্য বেড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের মজুরিও। মার্চে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। মজুরি সামান্য বাড়লেও তা এখনও মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম। ফলে খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এখনও স্বস্তির তথ্য নেই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬


চার মাস বাড়ার পর মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়ালো ৮ শতাংশে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে
  • ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ
  • আগামীতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, আশঙ্কা অর্থমন্ত্রীর

পরপর চার মাস বাড়ার পর অবশেষে মার্চে মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য দিলো সরকার। ফেব্রুয়ারিতে নয় শতাংশের ঘরে পৌঁছে যাওয়া মূল্যস্ফীতির হার এক মাসের ব্যবধানে আবার আট শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে। একমাস আগেও যা ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার দিয়ে বোঝায়, গত বছর মার্চ মাসে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় মিলেছে, তা চলতি বছরের মার্চে পেতে খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ৭১ পয়সা।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি খাদ্যপণ্যসহ সকল দ্রব্যের দাম বাড়বে বলে ইতোমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এদিন এক সভায় তিনি বলেন, ‘আসলে জ্বালানি সংকটটা অতিরিক্ত সংকট। একটা দুর্যোগ। এই যে সমস্যার কথাগুলো আমি বললাম, এর ওপরে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এটা এখন জ্বালানি সংকটের মাধ্যমে হচ্ছে। শুধু জ্বালানি সংকট নয়, সমস্ত কমোডিটি খাদ্যদ্রব্যের ওপর প্রভাব পড়বে। সবকিছুর ওপর প্রভাব পড়বে, টোটাল সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সবকিছুতে আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।’

সাড়া বিশ্বেই এর প্রভাব পড়ছে বলে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এর ফলে সাপ্লাই চেইন ডিজরাপ্টেড হবে। এটা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটা গ্লোবাল বিষয়। আমেরিকায় তেলের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে, শ্রীলঙ্কায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আমরা কিন্তু এখনো বাড়াইনি। না বাড়িয়ে কতক্ষণ আপনি থাকবেন? যেহেতু আমরা নির্বাচিত সরকার আমরা চেষ্টা করছি জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি না করার জন্য। কিন্তু একটা সময় এই চাপটা নিতে পারবে না সরকার। এবং চাপ যদি নিতে না পারে, সরকারি তহবিলের এভাবে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে আল্টিমেটলি জনগণেরই ক্ষতি হবে।’

মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য বলছে, মার্চ মাসে মূলত দাম কমেছে খাদ্যপণ্যে। তাও বেশ বড় ব্যবধানে। মার্চে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে যা ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ ছিল। অন্যদিকে খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশে যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ০১ শতাংশ।

খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় টানা চতুর্থ মাস মূল্যস্ফীতি বেড়ে ফেব্রুয়ারি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে উঠেছিলো।

মূল্যস্ফীতির এই হার গতবছরের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। ওই সময় এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। মে মাসে তা কমে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ হয়েছিলো। এরপর তা কমতে কমতে গতবছর অক্টোবর মাসে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এসেছিলো, যা ৩৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

এরপর থেকে ফের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির পারদ। গতবছর নভেম্বরে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ডিসেম্বরে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশের পর জানুয়ারিতে এই হার ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারিতে তা এক লাফে ৯ শতাংশে পৌঁছানোর পর ফের ৮ শতাংশের ঘরে এল মূল্যস্ফীতি।

মার্চে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশে যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ২১ শতাংশ। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারির ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যস্ফীতি কমার সঙ্গে সঙ্গে সামান্য বেড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের মজুরিও। মার্চে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। মজুরি সামান্য বাড়লেও তা এখনও মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম। ফলে খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এখনও স্বস্তির তথ্য নেই।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত