সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

আর্টেমিস অভিযান

৪০ মিনিট চাঁদের অন্ধকারে হারাবেন নভোচারীরা!


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

৪০ মিনিট চাঁদের অন্ধকারে হারাবেন নভোচারীরা!
চাঁদের অন্ধকার দিক।

চাঁদ অভিযানে যাওয়া আর্টেমিস-২ এর চার নভোচারী সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) চাঁদের পেছনে চলে যাবেন। তখন প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ বলয়ে প্রবেশ করলে মহাকাশযান থেকে পাঠানো রেডিও ও লেজার সিগন্যাল ব্লক হয়ে যাবে- কারণ চাঁদ নিজেই সিগন্যালের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

নাসার এই ইতিহাসগত মিশনের নভোচারীরা ওই সময় পুরোপুরি একা থাকবেন। চারজনের প্রত্যেকেই নিজের চিন্তা ও অনুভূতি নিয়ে অন্ধকার মহাশূন্যে ভেসে বেড়াবেন। এটি হবে নিঃসঙ্গতা ও নীরবতার এক গভীর মুহূর্ত।

মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, ‘আমরা যখন চাঁদের পেছনে পৃথিবীর সংস্পর্শহীন থাকব, সেই সময়টাকে আমরা সুযোগ হিসেবে নিতে চাই। সবার কাছে অনুরোধ থাকবে, তারা যেন আমাদের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানান, যাতে আমরা নিরাপদে ফিরে আসতে পারি।’

প্রায় ৫০ বছর আগে অ্যাপোলো ১১-এর নভোচারী মাইকেল কলিন্সও একই রকম নিঃসঙ্গতা অনুভব করেছিলেন। ১৯৬৯ সালে নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন চাঁদের মাটিতে নামার সময় তিনি চাঁদের কক্ষপথে একাই ছিলেন। 

তখন ৪৮ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে তার সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তিনি পরে নিজের স্মৃতিচারণায় লিখেছিলেন, ‘আমি পুরোপুরি একা অনুভব করছিলাম, কোনো পরিচিত জীবনের অস্তিত্ব যেন ছিল না।’

পৃথিবীতে ফিরে এই ৪০ মিনিট উদ্বেগের হবে। কর্নওয়ালের গুনহিলি আর্থ স্টেশনের প্রযুক্তি কর্মকর্তারা নভোচারীদের অবস্থান ট্র্যাক করে চলেছেন। গুনহিলির চিফ টেকনোলজি অফিসার ম্যাট কজবি বলেন, ‘এই প্রথম আমরা মানুষের বহনকারী মহাকাশযান ট্র্যাক করছি। এটি চাঁদের পেছনে চলে গেলে আমরা কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে যাব। তবে আবার সিগন্যাল পেলে খুবই উত্তেজিত হব, কারণ তখন আমরা বুঝতে পারব সবাই নিরাপদ আছে।’

নাসা ও অন্যান্য মহাকাশ সংস্থা চাঁদে স্থায়ী উপনিবেশ গড়ার পরিকল্পনা করছে। ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সির ‘মুনলাইট’ প্রোগ্রামে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এই নীরব সময় আর না থাকে।

আর্টেমিস নভোচারীরা এই সংকেতবিহীন সময়টি কাজে লাগাবেন চাঁদের ছবি তোলা, ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণে। চাঁদের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে যখন আবার সংকেত স্থাপিত হবে, তখন সারা বিশ্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। আর এই ইতিহাসগত নভোচারীরা তাদের দেখা অবিশ্বাস্য দৃশ্য সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


৪০ মিনিট চাঁদের অন্ধকারে হারাবেন নভোচারীরা!

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চাঁদ অভিযানে যাওয়া আর্টেমিস-২ এর চার নভোচারী সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) চাঁদের পেছনে চলে যাবেন। তখন প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ বলয়ে প্রবেশ করলে মহাকাশযান থেকে পাঠানো রেডিও ও লেজার সিগন্যাল ব্লক হয়ে যাবে- কারণ চাঁদ নিজেই সিগন্যালের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

নাসার এই ইতিহাসগত মিশনের নভোচারীরা ওই সময় পুরোপুরি একা থাকবেন। চারজনের প্রত্যেকেই নিজের চিন্তা ও অনুভূতি নিয়ে অন্ধকার মহাশূন্যে ভেসে বেড়াবেন। এটি হবে নিঃসঙ্গতা ও নীরবতার এক গভীর মুহূর্ত।

মিশনের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, ‘আমরা যখন চাঁদের পেছনে পৃথিবীর সংস্পর্শহীন থাকব, সেই সময়টাকে আমরা সুযোগ হিসেবে নিতে চাই। সবার কাছে অনুরোধ থাকবে, তারা যেন আমাদের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানান, যাতে আমরা নিরাপদে ফিরে আসতে পারি।’

প্রায় ৫০ বছর আগে অ্যাপোলো ১১-এর নভোচারী মাইকেল কলিন্সও একই রকম নিঃসঙ্গতা অনুভব করেছিলেন। ১৯৬৯ সালে নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন চাঁদের মাটিতে নামার সময় তিনি চাঁদের কক্ষপথে একাই ছিলেন। 

তখন ৪৮ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে তার সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তিনি পরে নিজের স্মৃতিচারণায় লিখেছিলেন, ‘আমি পুরোপুরি একা অনুভব করছিলাম, কোনো পরিচিত জীবনের অস্তিত্ব যেন ছিল না।’

পৃথিবীতে ফিরে এই ৪০ মিনিট উদ্বেগের হবে। কর্নওয়ালের গুনহিলি আর্থ স্টেশনের প্রযুক্তি কর্মকর্তারা নভোচারীদের অবস্থান ট্র্যাক করে চলেছেন। গুনহিলির চিফ টেকনোলজি অফিসার ম্যাট কজবি বলেন, ‘এই প্রথম আমরা মানুষের বহনকারী মহাকাশযান ট্র্যাক করছি। এটি চাঁদের পেছনে চলে গেলে আমরা কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে যাব। তবে আবার সিগন্যাল পেলে খুবই উত্তেজিত হব, কারণ তখন আমরা বুঝতে পারব সবাই নিরাপদ আছে।’

নাসা ও অন্যান্য মহাকাশ সংস্থা চাঁদে স্থায়ী উপনিবেশ গড়ার পরিকল্পনা করছে। ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সির ‘মুনলাইট’ প্রোগ্রামে চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এই নীরব সময় আর না থাকে।

আর্টেমিস নভোচারীরা এই সংকেতবিহীন সময়টি কাজে লাগাবেন চাঁদের ছবি তোলা, ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণে। চাঁদের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে যখন আবার সংকেত স্থাপিত হবে, তখন সারা বিশ্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। আর এই ইতিহাসগত নভোচারীরা তাদের দেখা অবিশ্বাস্য দৃশ্য সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত