সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

আসছে তিন নতুন আইন

শেয়ারবাজার হবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মূল উৎস: সংসদে অর্থমন্ত্রী


প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

শেয়ারবাজার হবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মূল উৎস: সংসদে অর্থমন্ত্রী

  • পুঁজিবাজারের ভোল বদলে সরকারের মহাপরিকল্পনা

দেশের পুঁজিবাজারে প্রাণ ফেরাতে গতিশীলতা বাড়াতে একগুচ্ছসুনির্দিষ্ট যুগান্তকারী’ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। শেয়ারবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আইনি সংস্কার, নতুন পণ্যের বৈচিত্র্য এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)

এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি ২০২৬ সাল থেকে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে তিনটি নতুন আইন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

সোমবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে নোয়াখালী- আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সব তথ্য জানান।

সরকারের এই বৃহৎ পরিকল্পনায় বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, পুঁজিবাজারের পরিধি বাড়াতে শুধু মৌলভিত্তিসম্পন্ন বেসরকারি কোম্পানিই নয়, বরং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকেও তালিকাভুক্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গঠন, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), সুকুক বা ইসলামিক বন্ড, গ্রিন বন্ড, কমোডিটি ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভসহ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সুশাসন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আইনি সংস্কারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, "বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সরকার বড় ধরনের আইনি সংস্কারে হাত দিয়েছে। ১৯৬৯ সালের অর্ডিন্যান্স এবং ১৯৯৩ সালের আইনের সংমিশ্রণে সম্পূর্ণ নতুনবিএসইসি আইন ২০২৫প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি দাবিবিহীন ডিভিডেন্ড শেয়ারের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্যক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন ২০২৬এবং পুঁজিবাজারের অনিয়ম প্রকাশকারীদের সুরক্ষা দিতেহুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা বিধিমালা ২০২৬করা হচ্ছে।"

তিনি আরও জানান, করপোরেট গভর্নেন্স কোড সংশোধন করেকরপোরেট গভর্নেন্স রুলস ২০২৬প্রণয়নের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। কারসাজি অনিয়ম বন্ধে বাজারের আধুনিকায়ন সম্পূর্ণ ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে বিনিয়োগ সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ শিক্ষা প্রসারে স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি জেলা-উপজেলায় তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে এবং পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির একটি টেকসই স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে বলে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


শেয়ারবাজার হবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মূল উৎস: সংসদে অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • পুঁজিবাজারের ভোল বদলে সরকারের মহাপরিকল্পনা

দেশের পুঁজিবাজারে প্রাণ ফেরাতে গতিশীলতা বাড়াতে একগুচ্ছসুনির্দিষ্ট যুগান্তকারী’ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। শেয়ারবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আইনি সংস্কার, নতুন পণ্যের বৈচিত্র্য এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)

এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি ২০২৬ সাল থেকে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে তিনটি নতুন আইন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

সোমবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে নোয়াখালী- আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সব তথ্য জানান।

সরকারের এই বৃহৎ পরিকল্পনায় বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, পুঁজিবাজারের পরিধি বাড়াতে শুধু মৌলভিত্তিসম্পন্ন বেসরকারি কোম্পানিই নয়, বরং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকেও তালিকাভুক্ত করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গঠন, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), সুকুক বা ইসলামিক বন্ড, গ্রিন বন্ড, কমোডিটি ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভসহ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সুশাসন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আইনি সংস্কারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, "বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সরকার বড় ধরনের আইনি সংস্কারে হাত দিয়েছে। ১৯৬৯ সালের অর্ডিন্যান্স এবং ১৯৯৩ সালের আইনের সংমিশ্রণে সম্পূর্ণ নতুনবিএসইসি আইন ২০২৫প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি দাবিবিহীন ডিভিডেন্ড শেয়ারের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্যক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন ২০২৬এবং পুঁজিবাজারের অনিয়ম প্রকাশকারীদের সুরক্ষা দিতেহুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা বিধিমালা ২০২৬করা হচ্ছে।"

তিনি আরও জানান, করপোরেট গভর্নেন্স কোড সংশোধন করেকরপোরেট গভর্নেন্স রুলস ২০২৬প্রণয়নের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। কারসাজি অনিয়ম বন্ধে বাজারের আধুনিকায়ন সম্পূর্ণ ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে বিনিয়োগ সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ শিক্ষা প্রসারে স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি জেলা-উপজেলায় তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে এবং পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির একটি টেকসই স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে বলে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত