সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

'সততা ও সেবায় বদলে যাবে বিশ্ববিদ্যালয়'

বিএমইউর ভিসি হিসেবে ডা. এফ এম সিদ্দিকীর দায়িত্বগ্রহণ


প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

বিএমইউর ভিসি হিসেবে ডা. এফ এম সিদ্দিকীর দায়িত্বগ্রহণ

  • দায়িত্ব পালনে অবহেলা নয়
  • ৬ মাসের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের অঙ্গীকার

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। রবিবার বিকেলে দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার সকালে কর্মস্থলে যোগদানের মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথম কর্মদিবস শুরু করেন।

প্রথম কর্মদিবসেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সকালে কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য।

সময় বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) ডা. মো. শাহিনুল আলম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা উন্নয়ন) ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ ডা. নাহরীন আখতারসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, "আজকের দিনটি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিষ্ঠানে আমি ইন্টার্নশিপ করেছি, আরপি হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যেমন সুনাম আছে, তেমন কিছু সমস্যাও বিদ্যমান। গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। যার যে দায়িত্ব, সেটি সঠিকভাবে পালন করলেই এই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে। প্রত্যেকে নিজের পদের গুরুত্ব উপলব্ধি করে কাজ করলে দৃশ্যমান উন্নতি সম্ভব।"

মেডিক্যাল অফিসারদের উদ্দেশে তিনি বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, "রোগীদের চিকিৎসাসেবার মূল ভিত্তি হলেন আপনারা। আপনাদের আচরণের মাধ্যমেই চিকিৎসকদের প্রতি সাধারণ মানুষের মনোভাব তৈরি হয়। ব্যক্তিগত জীবনে যত কষ্টই থাকুক না কেন, রোগীদের হাসিমুখে সেবা দিতে হবে।"

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, "সরকার রাষ্ট্র আমাকে একটি বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে এখানে পাঠিয়েছে। ক্লিনার থেকে ভাইস-চ্যান্সেলর সকলের একটাই ধ্যান থাকতে হবে, তা হলো অর্পিত কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করা। আগামী ছয় মাসের মধ্যে আমি এখানে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চাই।"

নিজের কর্মপন্থা তুলে ধরে ডা. সিদ্দিকী বলেন, "বিগত কঠিন সময়ে যখন দেশে ন্যায়বিচার মেধার মূল্যায়ন ছিল না, তখনও আমি নির্ভয়ে কথা বলেছি। আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। আমার সাহসের মূল উৎস হলো সততা। আমি চাই এখানে সবাই শৃঙ্খলার সাথে সততার সাথে কাজ করবেন।"

বক্তব্যের পর তিনি বহির্বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা এক রোগীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

এর আগে, গত মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আগামী বছরের জন্য ডা. এফ এম সিদ্দিকীকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


বিএমইউর ভিসি হিসেবে ডা. এফ এম সিদ্দিকীর দায়িত্বগ্রহণ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • দায়িত্ব পালনে অবহেলা নয়
  • ৬ মাসের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের অঙ্গীকার

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। রবিবার বিকেলে দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার সকালে কর্মস্থলে যোগদানের মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথম কর্মদিবস শুরু করেন।

প্রথম কর্মদিবসেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সকালে কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য।

সময় বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) ডা. মো. শাহিনুল আলম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা উন্নয়ন) ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ ডা. নাহরীন আখতারসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, "আজকের দিনটি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিষ্ঠানে আমি ইন্টার্নশিপ করেছি, আরপি হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যেমন সুনাম আছে, তেমন কিছু সমস্যাও বিদ্যমান। গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। যার যে দায়িত্ব, সেটি সঠিকভাবে পালন করলেই এই বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে। প্রত্যেকে নিজের পদের গুরুত্ব উপলব্ধি করে কাজ করলে দৃশ্যমান উন্নতি সম্ভব।"

মেডিক্যাল অফিসারদের উদ্দেশে তিনি বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, "রোগীদের চিকিৎসাসেবার মূল ভিত্তি হলেন আপনারা। আপনাদের আচরণের মাধ্যমেই চিকিৎসকদের প্রতি সাধারণ মানুষের মনোভাব তৈরি হয়। ব্যক্তিগত জীবনে যত কষ্টই থাকুক না কেন, রোগীদের হাসিমুখে সেবা দিতে হবে।"

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, "সরকার রাষ্ট্র আমাকে একটি বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে এখানে পাঠিয়েছে। ক্লিনার থেকে ভাইস-চ্যান্সেলর সকলের একটাই ধ্যান থাকতে হবে, তা হলো অর্পিত কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করা। আগামী ছয় মাসের মধ্যে আমি এখানে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চাই।"

নিজের কর্মপন্থা তুলে ধরে ডা. সিদ্দিকী বলেন, "বিগত কঠিন সময়ে যখন দেশে ন্যায়বিচার মেধার মূল্যায়ন ছিল না, তখনও আমি নির্ভয়ে কথা বলেছি। আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। আমার সাহসের মূল উৎস হলো সততা। আমি চাই এখানে সবাই শৃঙ্খলার সাথে সততার সাথে কাজ করবেন।"

বক্তব্যের পর তিনি বহির্বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা এক রোগীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

এর আগে, গত মার্চ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আগামী বছরের জন্য ডা. এফ এম সিদ্দিকীকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত