বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৈসু, সাংগ্রাই, বিঝু (বৈসাবি) ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে এই শোভাযাত্রা বের করা হয়।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
পাহাড়ের সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে বর্ণিল এই শোভাযাত্রাটি এক সম্প্রীতির মিলনমেলায় রূপ নেয়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলো নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে বাদ্যের তালে তালে নৃত্যে মেতে ওঠে। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। সেখানে ডিসপ্লের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।
উৎসবের আমেজ নিয়ে সুস্মিতা চাকমা বলেন, ‘বন্ধুরা মিলে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছি। খুব ভালো লাগছে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি সবার সামনে তুলে ধরতে পেরে।’
একই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ঋতু ত্রিপুরা। তিনি বলেন, ‘আমি আজ গ্রাম্য বধূ সেজেছি। শোভাযাত্রা শেষে আমরা নাচ-গান উপভোগ করব এবং ‘পানি খেলা’য় মাতব। সারা দিন অনেক আনন্দের পরিকল্পনা রয়েছে।’
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক পিংকি বড়ুয়া বলেন, ‘পাহাড়ের এমন রঙিন উৎসবে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত। সব সম্প্রদায়ের মানুষের একসঙ্গে অংশ নেওয়া অসাম্প্রদায়িকতার এক অনন্য পরিচয় দেয়।’ তিনি জেলা পরিষদের এ আয়োজন প্রতিবছর অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
নিরাপত্তার বিষয়ে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন জানান, উৎসবকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এই অসাম্প্রদায়িক আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, ‘গতবারের চেয়ে এবার উৎসবকে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছে। আজ শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষের শুভ সূচনা করলাম। আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় নিজস্ব সংস্কৃতি অনুযায়ী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন চলবে।’ তিনি এই আনন্দ ভাগ করে নিতে পর্যটকদের পাহাড়ে আসার আমন্ত্রণ জানান।
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ এপ্রিল ‘ফুল বিঝু’র মধ্য দিয়ে পাহাড়ের বৈসাবি উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
আপনার মতামত লিখুন