সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

গুম ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’, সংসদে ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী পাস

বিল পাসের পর জামায়াত আমিরের আপত্তি, জবাব দিলেন আইনমন্ত্রী


প্রকাশ: ৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

বিল পাসের পর জামায়াত আমিরের আপত্তি, জবাব দিলেন আইনমন্ত্রী

গুমকেমানবতাবিরোধী অপরাধহিসেবে সংজ্ঞায়িত করেইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার ( এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

এর আগে, এদিন সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

বিল পাসের কার্যক্রমের মধ্যে গুমের বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানেরবাড়তি বক্তব্যেআপত্তি জানান বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনেইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালসসংশোধন বিল পাসের আগে এর উদ্দেশ্য প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, “এটি এমন একটি বিল যে বিলের মধ্যে ক্রাইম এগেইন্স্ট হিউম্যানিটির ডেফিনেশনের মধ্যে গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, “এই বিলের মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছি। যারা বলছেন আমরা গুমের বিচার চাচ্ছি না, তাদের বলবো, এই আইনটা ভালো করে পড়ে দেখবেন। গুম আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের তালিকায় ছিল না। আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করে বিচারের ব্যাপারে আমাদের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছি।

বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকেঅনাহুতবলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এই অংশটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করবো। এখানে এই ব্যাপারে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।

সময় স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিরোধী দল থেকে তো বিল আসার সময় কোন আপত্তি দেওয়া হয়নি। এরপর স্পিকার পুনরায় আইনমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন।

জামায়াত আমিরের প্রতিক্রিয়ার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাইরে গুমের বিচার করার ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে অনেকেপ্রশ্ন তোলার চেষ্টাকরেছেন। সে কারণেই সরকার বিষয়েকতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন।

তখন স্পিকার আইনমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “মন্ত্রী, বাইরে কত লোক কত কথা বলে। আপনি সংসদের আলোচনা সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে আপনার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। বাইরের কথা শোনার প্রয়োজন এখানে সংসদীয় আইনে নেই। বিধি অনুযায়ী যেটুকু করতে হবে সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি।

১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট-এর অধিকতর সংশোধন কল্পে এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিলটি পাসের মধ্য দিয়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পৃথকগুম অধ্যাদেশবাতিল করে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদেইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (সংশোধন) বিলপাস হওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গুমের বিচারের জন্য পৃথক অধ্যাদেশঅপ্রয়োজনীয়ছিল এবং বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনেই অপরাধের বিচারেরপর্যাপ্ত এখতিয়াররয়েছে।

তিনি আরো বলেন, “গুম অধ্যাদেশটি এখন ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের সঙ্গে একীভূত হওয়া একটি সঠিক যথার্থ কাজ হয়েছে। এর মাধ্যমে গুমের বিচার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬


বিল পাসের পর জামায়াত আমিরের আপত্তি, জবাব দিলেন আইনমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গুমকেমানবতাবিরোধী অপরাধহিসেবে সংজ্ঞায়িত করেইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার ( এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

এর আগে, এদিন সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

বিল পাসের কার্যক্রমের মধ্যে গুমের বিচার নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানেরবাড়তি বক্তব্যেআপত্তি জানান বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনেইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালসসংশোধন বিল পাসের আগে এর উদ্দেশ্য প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, “এটি এমন একটি বিল যে বিলের মধ্যে ক্রাইম এগেইন্স্ট হিউম্যানিটির ডেফিনেশনের মধ্যে গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, “এই বিলের মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছি। যারা বলছেন আমরা গুমের বিচার চাচ্ছি না, তাদের বলবো, এই আইনটা ভালো করে পড়ে দেখবেন। গুম আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের তালিকায় ছিল না। আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করে বিচারের ব্যাপারে আমাদের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছি।

বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকেঅনাহুতবলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এই অংশটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করবো। এখানে এই ব্যাপারে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।

সময় স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিরোধী দল থেকে তো বিল আসার সময় কোন আপত্তি দেওয়া হয়নি। এরপর স্পিকার পুনরায় আইনমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন।

জামায়াত আমিরের প্রতিক্রিয়ার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাইরে গুমের বিচার করার ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে অনেকেপ্রশ্ন তোলার চেষ্টাকরেছেন। সে কারণেই সরকার বিষয়েকতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন।

তখন স্পিকার আইনমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “মন্ত্রী, বাইরে কত লোক কত কথা বলে। আপনি সংসদের আলোচনা সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে আপনার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। বাইরের কথা শোনার প্রয়োজন এখানে সংসদীয় আইনে নেই। বিধি অনুযায়ী যেটুকু করতে হবে সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি।

১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট-এর অধিকতর সংশোধন কল্পে এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিলটি পাসের মধ্য দিয়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পৃথকগুম অধ্যাদেশবাতিল করে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদেইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (সংশোধন) বিলপাস হওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গুমের বিচারের জন্য পৃথক অধ্যাদেশঅপ্রয়োজনীয়ছিল এবং বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনেই অপরাধের বিচারেরপর্যাপ্ত এখতিয়াররয়েছে।

তিনি আরো বলেন, “গুম অধ্যাদেশটি এখন ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের সঙ্গে একীভূত হওয়া একটি সঠিক যথার্থ কাজ হয়েছে। এর মাধ্যমে গুমের বিচার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত