সবুজ ধানক্ষেতের বুক চিরে জ্বলজ্বল করছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। কোনো শিল্পীর রঙ-তুলিতে নয়, বরং দুই জাতের ধানের চারা দিয়ে এই জীবন্ত শিল্পকর্মটি ফুটিয়ে তুলেছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার স্কুলশিক্ষক জাফর সাদিক। তার এই নান্দনিক সৃজনশীলতা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
উপজেলার পৌর এলাকার পূর্ব নাওডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা জাফর সাদিক উলিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষির প্রতি তার গভীর অনুরাগ থেকে প্রতিবছরই তিনি ধানক্ষেতে জাতীয় কোনো প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলেন। এবার তিনি উলিপুর-রাজারহাট-রংপুর সড়কের পাশে তার ১৭ শতক জমিতে ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধ’ তৈরি করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্মৃতিসৌধের এই প্রতিকৃতি তৈরিতে তিনি ব্যবহার করেছেন সবুজ রঙের ‘ব্রি-ধান ১১৩’ এবং ভিয়েতনাম থেকে সংগৃহীত বেগুনি রঙের ‘পার্পল’ জাতের ধান। ব্যস্ততম পাকা সড়কের পাশে নজরকাড়া এই দৃশ্য দেখে পথচারী ও যাত্রীরা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকছেন। অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।
স্থানীয় শিক্ষার্থী শরীফ আহমদ বলে, ‘বন্ধুরা মিলে এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে এসেছি। ধান দিয়ে যে এত সুন্দর করে স্মৃতিসৌধ বানানো যায়, তা আগে দেখিনি।’
এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জাফার সাদিক মাস্টার এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর আগে তিনি জাতীয় পতাকা ও মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এটা দেখতে আসে।’
উদ্যোক্তা জাফর সাদিক বলেন, ‘মূলত কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। বিদ্যালয়ে আমি শিক্ষার্থীদের বইয়ের মাধ্যমে ইতিহাস শেখাই, আর মাঠে ছবির মাধ্যমে বীরত্বের ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করি। নতুন প্রজন্ম যাতে আমাদের জাতীয় ইতিহাস ও বীর শহীদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়, এটিই আমার মূল লক্ষ্য।’
তিনি আরও জানান, কুমিল্লা থেকে ভিয়েতনামের পার্পল জাতের ধানের বীজ সংগ্রহ করে তিনি এই নকশা তৈরি করেছেন। দেশপ্রেমের এই জীবন্ত উদাহরণ তিনি আগামীতেও অব্যাহত রাখতে চান।
আপনার মতামত লিখুন