চাহিদার তুলনায় অর্ধেক জ্বালানি তেলও সরবরাহ না করায় রংপুর বিভাগের আট জেলায় সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর ওপর প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে বোরো মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগে মোট ৩৫০টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৩৩০টি বর্তমানে সচল। এই জেলাগুলোতে যানবাহন ও সেচ কাজের জন্য প্রতিদিন ১০ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে সাড়ে ৮ থেকে ৯ লাখ লিটার। অর্থাৎ প্রতিদিন ১ লাখ লিটার ডিজেলের ঘাটতি থাকছে।
পেট্রোল ও অকটেনের চিত্র আরও ভয়াবহ। প্রতিদিন ৫ লাখ ১০ হাজার লিটার পেট্রোলের চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র সোয়া ২ লাখ লিটার। একইভাবে ২ লাখ ৭৫ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৭৫ থেকে ৮০ হাজার লিটার। বিভাগীয় প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ কমিয়ে রেশন পদ্ধতিতে বিক্রি করা হচ্ছে।
তবে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিটি স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
বিপরীত চিত্র তুলে ধরে ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আফজাল হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে। আগে যেখানে একটি ট্যাংক লরি ভর্তি তেল পাওয়া যেত, এখন সেখানে চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।’
রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বরের ইউনিক ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক রিপন জানান, ডিপো থেকে তেল আসার সময় নিয়ে চরম সমন্বয়হীনতা রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ১ হাজার টাকার বেশি তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে চৈত্র মাসের তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বোরো খেতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সেচ প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু পাম্পে ডিজেল না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। রংপুর জেলা কৃষক সমিতির নেতা আরেফিন তিতু বলেন, ‘ভরা মৌসুমে কৃষকেরা পাম্প ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছেন না। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে এবার ধানের ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
আপনার মতামত লিখুন