সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

পুরোনো দুঃখ ভুলে সুদিনের প্রত্যাশায় চা-বাগানে শুরু হলো চৈত্রপূজা


প্রতিনিধি, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
প্রতিনিধি, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: ৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

পুরোনো দুঃখ ভুলে সুদিনের প্রত্যাশায় চা-বাগানে শুরু হলো চৈত্রপূজা
চৈত্র সংক্রান্তি সামনে রেখে চুনারুঘাটে প্রাচীন রীতিতে ‘দণ্ড’ পূজা পালন। ছবি : সংবাদ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ও চা-বাগানগুলোতে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী শিব-পার্বতীর চৈত্রপূজা বা ‘দণ্ড’। প্রাচীন ঐতিহ্য ধারণ করে প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ১৩ দিনব্যাপী এই উৎসব, যা চলবে চৈত্র সংক্রান্তি পর্যন্ত।

উপজেলার পারকুল চা-বাগানের ‘পারকুল দণ্ড নাট্য সংস্থা’ বর্তমানে দেউন্দি ফাঁড়ি গেলানিয়া চা-বাগান এলাকায় অবস্থান করছে। চা-বাগানের ৮৫টি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও কৃষ্টির মধ্যে ওড়িয়া সম্প্রদায়ের এই ‘দণ্ড’ উৎসব অন্যতম। চৈত্র মাসের অমাবস্যা থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে মূলত মহাদেব ও দেবী কালীর ব্রত পালন করা হয়।

ভক্তরা জানান, টানা ১৩ দিন এই ব্রত পালনকালে তারা কঠোর নিয়ম মেনে চলেন। দিনভর উপবাস থেকে রাতে কেবল সেদ্ধ নিরামিষ আহার করেন। ব্রত পালনের মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট দূর করা এবং নতুন বছর যেন সুখ-সমৃদ্ধিতে কাটে, সেই কামনাই করেন তারা।

উৎসবের রীতি অনুযায়ী, প্রতিদিন ভক্তরা দল বেঁধে দণ্ড যাত্রায় বের হন। ঢাকঢোল আর ধর্মীয় গানের তালে তারা চা-বাগান পরিক্রমা করেন। ঘর ছাড়ার আগে তিন দিন নিজেদের শুদ্ধ করে নেন ভক্তরা।

তাদের স্ত্রীরাও স্বামীর মঙ্গলের জন্য পালন করেন বিশেষ নিয়ম। যেমন ঝাড়ুর বদলে নিজের পরিধেয় শাড়ি দিয়ে ঘর পরিষ্কার করা এবং লবণ-তেল ছাড়া খাবার গ্রহণ করা।

দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে চলে বিশেষ নাটক ও নাচ। ডুলিয়া খেলা, দুনা খেলা, হাড়ি হারিয়ানি, পরবা নৃত্য ও শিব-পার্বতী নৃত্যের মতো নানা পরিবেশনা উপভোগ করতে বাগানবাসী সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন। অনেক এলাকায় চৈত্র মাসের শেষ দিনে চড়কপূজাও অনুষ্ঠিত হয়।

চা-বাগান ও ওড়িয়া সম্প্রদায়ের বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাচীন সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬


পুরোনো দুঃখ ভুলে সুদিনের প্রত্যাশায় চা-বাগানে শুরু হলো চৈত্রপূজা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ও চা-বাগানগুলোতে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী শিব-পার্বতীর চৈত্রপূজা বা ‘দণ্ড’। প্রাচীন ঐতিহ্য ধারণ করে প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ১৩ দিনব্যাপী এই উৎসব, যা চলবে চৈত্র সংক্রান্তি পর্যন্ত।

উপজেলার পারকুল চা-বাগানের ‘পারকুল দণ্ড নাট্য সংস্থা’ বর্তমানে দেউন্দি ফাঁড়ি গেলানিয়া চা-বাগান এলাকায় অবস্থান করছে। চা-বাগানের ৮৫টি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও কৃষ্টির মধ্যে ওড়িয়া সম্প্রদায়ের এই ‘দণ্ড’ উৎসব অন্যতম। চৈত্র মাসের অমাবস্যা থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে মূলত মহাদেব ও দেবী কালীর ব্রত পালন করা হয়।

ভক্তরা জানান, টানা ১৩ দিন এই ব্রত পালনকালে তারা কঠোর নিয়ম মেনে চলেন। দিনভর উপবাস থেকে রাতে কেবল সেদ্ধ নিরামিষ আহার করেন। ব্রত পালনের মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট দূর করা এবং নতুন বছর যেন সুখ-সমৃদ্ধিতে কাটে, সেই কামনাই করেন তারা।

উৎসবের রীতি অনুযায়ী, প্রতিদিন ভক্তরা দল বেঁধে দণ্ড যাত্রায় বের হন। ঢাকঢোল আর ধর্মীয় গানের তালে তারা চা-বাগান পরিক্রমা করেন। ঘর ছাড়ার আগে তিন দিন নিজেদের শুদ্ধ করে নেন ভক্তরা।

তাদের স্ত্রীরাও স্বামীর মঙ্গলের জন্য পালন করেন বিশেষ নিয়ম। যেমন ঝাড়ুর বদলে নিজের পরিধেয় শাড়ি দিয়ে ঘর পরিষ্কার করা এবং লবণ-তেল ছাড়া খাবার গ্রহণ করা।

দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে চলে বিশেষ নাটক ও নাচ। ডুলিয়া খেলা, দুনা খেলা, হাড়ি হারিয়ানি, পরবা নৃত্য ও শিব-পার্বতী নৃত্যের মতো নানা পরিবেশনা উপভোগ করতে বাগানবাসী সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন। অনেক এলাকায় চৈত্র মাসের শেষ দিনে চড়কপূজাও অনুষ্ঠিত হয়।

চা-বাগান ও ওড়িয়া সম্প্রদায়ের বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাচীন সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মীরা।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত