সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা : নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেন আরিফ-গউছ-বাবর


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, সিলেট
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, সিলেট
প্রকাশ: ৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা : নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেন আরিফ-গউছ-বাবর
ছবি : সংবাদ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সংসদের সরকার দলীয় হুইপ জি কে গৌছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে তারা এই দাবি করেন। শুনানির সময় এই মামলাকে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান তারা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এ টি এম ফয়েজ জানান, মামলার রায় ঘোষণার আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ (আসামি পরীক্ষা) করা হয়।

এ সময় লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গৌছসহ অন্য আসামিরা সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং নির্দোষ দাবি করেন।

আদালতে নিজের বক্তব্যে সংসদের হুইপ জি কে গৌছ বলেন, ‘এই মামলার কারণে আমি ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত আমাকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমি এই মামলার বাদীর শাস্তি দাবি করছি।’

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আবুল হোসেন জানান, আসামি পরীক্ষা শেষে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল মামলার যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিরা আদালত চত্বরে হাজির হন। এ সময় বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতা-কর্মী তাঁদের ঘিরে রাখেন। শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন ও মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ অন্য আইনজীবীরা অংশ নেন।

২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী নিহত এবং ২৯ জন আহত হন। ওই হামলায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য রক্ষা পান।

ঘটনার পর দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গৌছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় মোট ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬


সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা : নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেন আরিফ-গউছ-বাবর

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সংসদের সরকার দলীয় হুইপ জি কে গৌছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে তারা এই দাবি করেন। শুনানির সময় এই মামলাকে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান তারা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এ টি এম ফয়েজ জানান, মামলার রায় ঘোষণার আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ (আসামি পরীক্ষা) করা হয়।

এ সময় লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গৌছসহ অন্য আসামিরা সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং নির্দোষ দাবি করেন।

আদালতে নিজের বক্তব্যে সংসদের হুইপ জি কে গৌছ বলেন, ‘এই মামলার কারণে আমি ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত আমাকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমি এই মামলার বাদীর শাস্তি দাবি করছি।’

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আবুল হোসেন জানান, আসামি পরীক্ষা শেষে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল মামলার যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিরা আদালত চত্বরে হাজির হন। এ সময় বিপুল সংখ্যক আইনজীবী ও দলীয় নেতা-কর্মী তাঁদের ঘিরে রাখেন। শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন ও মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরীসহ অন্য আইনজীবীরা অংশ নেন।

২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী নিহত এবং ২৯ জন আহত হন। ওই হামলায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য রক্ষা পান।

ঘটনার পর দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গৌছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় মোট ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত