ইরানি সভ্যতাকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি আর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রণপ্রস্তুতির টানটান উত্তেজনার পর নাটকীয়ভাবে সুর নরম করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোররাত থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে স্বস্তির বাতাস। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমাবর্ষণ এবং সম্ভাব্য সকল সামরিক হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।
একে একটি ‘দ্বিমুখী যুদ্ধবিরতি’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, "আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমাবর্ষণ এবং হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছি। এটি হবে একটি দ্বিমুখী যুদ্ধবিরতি!"
তবে এই বার্তার সমান্তরালে তিনি একটি কঠোর শর্তও জুড়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেয়, তবেই কেবল এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বৈরিতার অবসানে একটি কার্যকর পথ খুঁজে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, তেহরানের পক্ষ থেকে তারা একটি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন।
আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, "আমরা ইরানের কাছ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব পেয়েছি এবং আমরা মনে করি এটি আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি।"
ট্রাম্পের মতে, চুক্তির পথে থাকা বড় বাধাগুলো প্রায় অপসারিত হয়েছে এবং অতীতের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সিংহভাগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন একমত। এই দুই সপ্তাহের বিরতি মূলত চুক্তিটিকে একটি চূড়ান্ত ও আইনি রূপ দিতে সহায়তা করবে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধি হিসেবে এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছানোকে নিজের জন্য বড় সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববাসীকে ধন্যবাদ জানান।
এদিকে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণার পরপরই যুদ্ধের ময়দানে থাকা অন্যতম প্রধান পক্ষ ইসরায়েলও সুর মেলাতে শুরু করেছে। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি থেকে ট্রাম্প সরে আসার পরপরই দখলদার ইসরায়েলও দুই সপ্তাহের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি প্রকাশ করেছে।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ইসরায়েলের সরকারি গণমাধ্যম ‘কান’ এই খবরটি প্রচার করে। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ কে নিশ্চিত করেছে, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেই কেবল এই যুদ্ধবিরতি মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হবে। যদিও প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে এখনো গোলাগুলি পুরোপুরি বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত নির্দেশনা আসেনি এবং কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়েনি, তবুও আল জাজিরাসহ বিশ্বের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো একে যুদ্ধের দাবানল নেভানোর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ইরানি সভ্যতাকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি আর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রণপ্রস্তুতির টানটান উত্তেজনার পর নাটকীয়ভাবে সুর নরম করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোররাত থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে স্বস্তির বাতাস। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমাবর্ষণ এবং সম্ভাব্য সকল সামরিক হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।
একে একটি ‘দ্বিমুখী যুদ্ধবিরতি’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, "আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমাবর্ষণ এবং হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছি। এটি হবে একটি দ্বিমুখী যুদ্ধবিরতি!"
তবে এই বার্তার সমান্তরালে তিনি একটি কঠোর শর্তও জুড়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেয়, তবেই কেবল এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বৈরিতার অবসানে একটি কার্যকর পথ খুঁজে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, তেহরানের পক্ষ থেকে তারা একটি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন।
আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, "আমরা ইরানের কাছ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব পেয়েছি এবং আমরা মনে করি এটি আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি।"
ট্রাম্পের মতে, চুক্তির পথে থাকা বড় বাধাগুলো প্রায় অপসারিত হয়েছে এবং অতীতের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সিংহভাগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন একমত। এই দুই সপ্তাহের বিরতি মূলত চুক্তিটিকে একটি চূড়ান্ত ও আইনি রূপ দিতে সহায়তা করবে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধি হিসেবে এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছানোকে নিজের জন্য বড় সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববাসীকে ধন্যবাদ জানান।
এদিকে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণার পরপরই যুদ্ধের ময়দানে থাকা অন্যতম প্রধান পক্ষ ইসরায়েলও সুর মেলাতে শুরু করেছে। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি থেকে ট্রাম্প সরে আসার পরপরই দখলদার ইসরায়েলও দুই সপ্তাহের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি প্রকাশ করেছে।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ইসরায়েলের সরকারি গণমাধ্যম ‘কান’ এই খবরটি প্রচার করে। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ কে নিশ্চিত করেছে, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেই কেবল এই যুদ্ধবিরতি মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হবে। যদিও প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে এখনো গোলাগুলি পুরোপুরি বন্ধ রাখার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত নির্দেশনা আসেনি এবং কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়েনি, তবুও আল জাজিরাসহ বিশ্বের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো একে যুদ্ধের দাবানল নেভানোর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

আপনার মতামত লিখুন