সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

পদ্মা সেতুতে প্রযুক্তির ছোঁয়া


প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

পদ্মা সেতুতে প্রযুক্তির ছোঁয়া

পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এখন আর গাড়ির দীর্ঘ সারি কিংবা খুচরা টাকার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকার দিন ফুরিয়ে আসছে। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের রূপকল্পকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং দেশের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সহজতর করতে বুধবার (০৮ এপ্রিল) এক মাইলফলক স্পর্শ করলো বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

সেতুর উভয় প্রান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেমের নিবন্ধন কার্যক্রম। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে স্থাপিত এই আধুনিক প্রযুক্তির ফলে যাতায়াতে শুরু হয়েছে এক নতুন গতি।
​মাঠপর্যায়ে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের জন‌্য গত ৩ এপ্রিল থেকে ফরিদপুরের গোল্ডেনলাইন পরিবহনের বাস ডিপোতে পোর্টাবেল আরএফআইডি (RFID) স্ক্যানার ব্যবহারের মাধ্যমে নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে মাওয়া প্রান্তের নির্ধারিত বুথে সপ্তাহের প্রতিদিন নিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে। যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিয়মিত লিফলেট বিতরণ করছে এবং পর্যায়ক্রমে মাদারীপুর টার্মিনালসহ ঢাকার রাজারবাগ, সায়দাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় ফিল্ড ইটিসি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এই আধুনিকায়ন সম্পর্কে সেতু বিভাগের সচিব ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ ব‌লেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা জনসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইটিসি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পদ্মা সেতুতে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলো দ্রুততম সময়ে পারাপার হতে পারবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”
​প্রযুক্তির এই আধুনিকায়নের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এখন আর টোল প্লাজায় গাড়ি থামানোর প্রয়োজন পড়ছে না; বরং ইটিসি নিবন্ধিত যানবাহনগুলো ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে টোল প্লাজা অতিক্রম করতে পারছে। নগদ টাকা বহনের ঝামেলা ছাড়াই ট্যাপ, বিকাশ, নগদ ও উপায়ের মতো ডিজিটাল ওয়ালেট কিংবা ব্যাংকের অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ হয়ে যাচ্ছে। লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পৌঁছে যাচ্ছে এসএমএস বার্তা। এই ক্যাশলেস ও নন-স্টপ যাতায়াত ব্যবস্থা কেবল সময় ও জ্বালানিই সাশ্রয় করছে না, বরং যানজট মুক্ত এক আধুনিক সড়কের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদারের সই করা তথ্যে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ৫৪৬টি গাড়ি এই সেবা গ্রহণের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল যানবাহনের মালিক ও চালকদের দ্রুত এই নিবন্ধন সম্পন্ন করে পদ্মা সেতুর আধুনিক এই সেবা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬


পদ্মা সেতুতে প্রযুক্তির ছোঁয়া

প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এখন আর গাড়ির দীর্ঘ সারি কিংবা খুচরা টাকার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকার দিন ফুরিয়ে আসছে। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের রূপকল্পকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং দেশের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সহজতর করতে বুধবার (০৮ এপ্রিল) এক মাইলফলক স্পর্শ করলো বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

সেতুর উভয় প্রান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেমের নিবন্ধন কার্যক্রম। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে স্থাপিত এই আধুনিক প্রযুক্তির ফলে যাতায়াতে শুরু হয়েছে এক নতুন গতি।
​মাঠপর্যায়ে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের জন‌্য গত ৩ এপ্রিল থেকে ফরিদপুরের গোল্ডেনলাইন পরিবহনের বাস ডিপোতে পোর্টাবেল আরএফআইডি (RFID) স্ক্যানার ব্যবহারের মাধ্যমে নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে মাওয়া প্রান্তের নির্ধারিত বুথে সপ্তাহের প্রতিদিন নিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে। যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিয়মিত লিফলেট বিতরণ করছে এবং পর্যায়ক্রমে মাদারীপুর টার্মিনালসহ ঢাকার রাজারবাগ, সায়দাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় ফিল্ড ইটিসি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এই আধুনিকায়ন সম্পর্কে সেতু বিভাগের সচিব ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ ব‌লেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা জনসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইটিসি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পদ্মা সেতুতে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলো দ্রুততম সময়ে পারাপার হতে পারবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”
​প্রযুক্তির এই আধুনিকায়নের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এখন আর টোল প্লাজায় গাড়ি থামানোর প্রয়োজন পড়ছে না; বরং ইটিসি নিবন্ধিত যানবাহনগুলো ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে টোল প্লাজা অতিক্রম করতে পারছে। নগদ টাকা বহনের ঝামেলা ছাড়াই ট্যাপ, বিকাশ, নগদ ও উপায়ের মতো ডিজিটাল ওয়ালেট কিংবা ব্যাংকের অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ হয়ে যাচ্ছে। লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পৌঁছে যাচ্ছে এসএমএস বার্তা। এই ক্যাশলেস ও নন-স্টপ যাতায়াত ব্যবস্থা কেবল সময় ও জ্বালানিই সাশ্রয় করছে না, বরং যানজট মুক্ত এক আধুনিক সড়কের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদারের সই করা তথ্যে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ৫৪৬টি গাড়ি এই সেবা গ্রহণের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল যানবাহনের মালিক ও চালকদের দ্রুত এই নিবন্ধন সম্পন্ন করে পদ্মা সেতুর আধুনিক এই সেবা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত