মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া একটি পরিত্যক্ত ঘরে ১২টি ঘোড়া জবাই করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৪০ মণ ঘোড়ার মাংস।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, একটি অসাধু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘোড়া জবাই করে তা ‘গরুর মাংস’ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করে আসছিল।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার আনারপুরা এলাকায় মহাসড়কের ১০০ মিটার অদূরে একটি নির্জন পরিত্যক্ত ঘর থেকে এসব মাংস জব্দ করে প্রশাসন। এ সময় কঙ্কালসার একটি জীবিত রুগ্ণ ঘোড়াও উদ্ধার করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, আনারপুরা পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের পেছনের ওই নির্জন ঘরটি গাছগাছালিতে ঘেরা। ঘরের মেঝেতে বিপুল পরিমাণ রক্ত ও মাংস পড়ে আছে। পাশে একটি গর্তে ঘোড়ার হাড় ও চামড়া পুঁতে রাখার চিহ্ন। এমনকি জবাই করা ঘোড়াগুলোর মধ্যে একটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। যার ভ্রূণ পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হোসেন জানান, ‘প্রতি রোববার ও বুধবার গভীর রাতে ওই ঘরের সামনে গাড়ি আসত। ভোরের দিকে প্রায়ই সেখানে হাড় ও রক্ত দেখা যেত। সন্দেহ হওয়ায় আজ ভোরে গ্রামবাসী সেখানে হানা দিলে অসাধু ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যান।’ তিতাস ও রাজিব নামে স্থানীয় দুই বাসিন্দা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, এই মাংসগুলো বস্তাবন্দী করে মহাসড়কের পাশের ৩০টিরও বেশি ছোট-বড় হোটেল ও রেস্তোরাঁয় পাঠানো হতো। ক্রেতারা মূলত ভাসমান হওয়ায় তারা গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস খেয়ে প্রতারিত হতেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আনারপুরা নিউ ফুট ভিলেজ এলাকায় মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী বলেন, ‘আমরা এই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করেছি। এতে সোনারগাঁ ও টঙ্গীর কিছু লোক জড়িত বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং মাংসগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করি। মহাসড়কের পাশের রেস্তোরাঁগুলোতে এ ধরনের মাংস সরবরাহ করা হয় কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালানো হবে।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রিগ্যান মোল্লা জানান, ঘটনাস্থলে ১২টি ঘোড়া জবাইয়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জীবিত উদ্ধার করা অসুস্থ ঘোড়াটিকে বর্তমানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন