সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বিএনপি নেতার মৃত্যুর ৭ বছর পর

কুষ্টিয়ায় সাবেক এমপি হানিফ ও সাবেক ডিসি-এসপির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা


জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

কুষ্টিয়ায় সাবেক এমপি হানিফ ও সাবেক ডিসি-এসপির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ শামীম আরজুর মৃত্যুর ঘটনায় সাত বছর পর আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতে মামলাটি করেন নিহতের ছেলে এস এম ফুয়াদ শামীম।

আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ মামলাটি আমলে নিয়েছেন। একই সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে অন্য কোনো মামলা বা আইনি কার্যক্রম চলমান আছে কি না, তা এক মাসের মধ্যে জানাতে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার সোহাগ হোসেন আজ সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়ার সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসলাম হোসেন, সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) তানভির আরাফাত, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সাবেক আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত জেলার আক্তারুজ্জামান এবং কুষ্টিয়া মডেল থানার তৎকালীন ওসি নাসির উদ্দিন।

মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালনকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ ও প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। সেখান থেকে শামীম আরজুসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, আটক অবস্থায় পুলিশের নির্যাতনে আরজু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

বাদী এস এম ফুয়াদ শামীম বলেন, ‘বাবার অসুস্থতার কথা তৎকালীন ডিসিকে জানিয়েও কোনো ফল হয়নি। পুলিশের নির্যাতনে এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবেই কারাগারে বাবার মৃত্যু হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের ভয়ে এতদিন মামলা করতে পারিনি; মামলা করতে গেলে গুমের ভয় দেখানো হতো।’

বাদীর আইনজীবী নুরুল কাদের বলেন, এম এ শামীম আরজু হেফাজতে থাকাকালে পুলিশের নির্যাতনে মারা গিয়েছিলেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তখন মামলা করা সম্ভব হয়নি। এখন ন্যায়বিচারের আশায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘আদালতের কোনো নির্দেশনা এখনো হাতে পাইনি। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬


কুষ্টিয়ায় সাবেক এমপি হানিফ ও সাবেক ডিসি-এসপির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ শামীম আরজুর মৃত্যুর ঘটনায় সাত বছর পর আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতে মামলাটি করেন নিহতের ছেলে এস এম ফুয়াদ শামীম।

আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ মামলাটি আমলে নিয়েছেন। একই সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে অন্য কোনো মামলা বা আইনি কার্যক্রম চলমান আছে কি না, তা এক মাসের মধ্যে জানাতে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার সোহাগ হোসেন আজ সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়ার সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসলাম হোসেন, সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) তানভির আরাফাত, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সাবেক আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত জেলার আক্তারুজ্জামান এবং কুষ্টিয়া মডেল থানার তৎকালীন ওসি নাসির উদ্দিন।

মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালনকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ ও প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। সেখান থেকে শামীম আরজুসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, আটক অবস্থায় পুলিশের নির্যাতনে আরজু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

বাদী এস এম ফুয়াদ শামীম বলেন, ‘বাবার অসুস্থতার কথা তৎকালীন ডিসিকে জানিয়েও কোনো ফল হয়নি। পুলিশের নির্যাতনে এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবেই কারাগারে বাবার মৃত্যু হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের ভয়ে এতদিন মামলা করতে পারিনি; মামলা করতে গেলে গুমের ভয় দেখানো হতো।’

বাদীর আইনজীবী নুরুল কাদের বলেন, এম এ শামীম আরজু হেফাজতে থাকাকালে পুলিশের নির্যাতনে মারা গিয়েছিলেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তখন মামলা করা সম্ভব হয়নি। এখন ন্যায়বিচারের আশায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘আদালতের কোনো নির্দেশনা এখনো হাতে পাইনি। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত