সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা


আব্দুল মান্নান খান
আব্দুল মান্নান খান
প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

প্রথম শ্রেণীতে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি আর থাকছে না| পত্রিকায় এসেছে মানণীয় শিক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যে বলে দিয়েছেন, ২০২৭ থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে ভর্তি করা হবে|

সচেতন অভিভাবকরা চান তাদের সন্তানদের মানসম্মত কোনো একটা ভালো স্কুলে ভর্তি করতে| এনিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কমাতে ২০১১ সাল থেকে চলে আসছে লটারির মাধ্যমে ভর্তি| এখন বলা হচ্ছে পরীক্ষা নিয়ে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে| অর্থাৎ আবার সেই হুলুস্থুল কাণ্ড| তাই বলতে চাচ্ছি ওদিকে আর না গিয়ে খোঁজা দরকার ভিন্ন কোনো পথ| 

বলা হয় মানসম্মত স্কুলের অভাবে এই পরিস্থিতি| এটা কেন হবে| সরকারি প্রাইমারি স্কুলের কথায় যদি আসি দেখা যাবে দেশব্যাপী বিরাট এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন এসব স্কুলের শিক্ষক মহোদয়রা| তারপর রয়েছে এক বছরের পিটিআই ট্রেনিংসহ নানা রকম কারিকুলামের সহিত তাদের সম্পৃক্ততা| রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসন পরিদর্শন ইত্যাদি কার্যে নিয়োজিত মাঠ পর্যায় থেকে অধিদপ্তর পর্যন্ত সুবিশাল এক কর্মী বাহিনী| গড়ে উঠেছে মজবুত এক প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক| তাহলে কেন এই শিক্ষক সাহেবরা এসব শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারবেন না| কেন স্কুলগুলো মানসম্মত হবে না| কেন আমাদের শুনতে হয় সরকারি প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া হয় না| কেন একটা দুধের শিশুকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হতে পরীক্ষায় বসিয়ে তাকে বিচলিত করতে হবে| ভর্তি পরীক্ষা মানেই তো সেই কোচিং বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো| কাজেই প্রথম শ্রেণীতে ভর্তিতে ভিন্ন কোনো পথ খুঁজতে হবে| অবশ্যই গ্রহণযোগ্য ভালো কোনো পথ বেরিয়ে আসবে| 

শহরের স্কুলগুলোতে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি নিয়ে এখানে কথা| এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানসম্মত স্কুল নিয়েও কথা| প্রাইমারি শিক্ষার মান নিয়ে যেসব কথা লোকে বলে অনেকাংশে তার সত্যতা রয়েছে| একটু খোঁজ নিলে আরও অনেক সত্য জানা যাবে| যেমন শহরের সরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলোতে কারা পড়ে| নিম্ন আয়ের যেমন বাসার কাজের বেটিদের ছেলে-মেয়ে রিকসাওয়ালা চা বিক্রেতা দিনমজুর এদের ছেলে-মেয়েরাই এসব সরকারি স্কুলগুলোতে লেখাপড়া করে| ব্যতিক্রম থাকতেই পারে, সেটা কোনো বিষয় না| সরকারি স্কুল সবার জন্য এটাই কথা| কী কারণে সেখানে মানসম্মত লেখাপড়া হয় না সেটাই দেখার বিষয়| 

প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূর করতে আজ লটারি, কাল মেধা যাচাই পরীক্ষা পরশু আরেকটা এসব করে সমস্যার কোনো সমাধান হবে মনে হয় না| তাই খুঁজতে হবে ভিন্ন কোনো পথ| প্রাথমিক শিক্ষায় সুদীর্ঘ সময় চাকরি এবং বাইরের দুএকটা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হয় এই সমস্যার সমাধানে প্রথমেই যে কাজটা করা যেতে পারে তা হলো—

নিকটতম স্কুলে শিশুর ভর্তি বাধ্যতামূলক করা—

যার মূল কথা হবে কোনো স্কুলই খারাপ না| প্রয়োজনে স্কুলের ক্যাচমেন্ট এরিয়া নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে| প্রয়োজনে নতুন স্কুল বানাতে হবে| পাড়া-মহল্লার সব শিশু যাতে ওই স্কুলে লেখাপড়া করে তার জন্য বাধ্যতামূলক করতে হবে ওই স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করা| এতে ওই মানসম্মত না, খারাপ স্কুল এসব ধারণা আপনা থেকেই চলে যাবে এবং ওই স্কুলই হয়ে উঠবে সানসম্মত| তখন এর সুফল ছড়িয়ে পড়বে সমাজের সব স্তরে| পাড়া-মহল্লার শিশুরা পায়ে গেঁটে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে| গাড়িঘোড়ার হয়রানি আর ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবেন অভিভাবকরা| কেউ তার সন্তানকে তার নিকটতম স্কুলে পড়াতে না চাইলে যেখানে পড়াতে চাইবেন সেখানে গিয়ে তাকে বসবাস করতে হবে| এবং সে ক্ষেত্রে নিকটতম স্কুল থেকে অনাপত্তি প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করতে হবে| 

নেহায়েতই একটা শিশুকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করতে ওই লটারি বা পরীক্ষায় বসানো এর কোনোটাকেই যুক্তিযুক্ত মনে করার কোনো কারণ দেখছি না| বরং পরীক্ষায় বসানোটা হবে লেখাপড়া নিয়ে সেই বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো| তাই খুঁজতে হবে ভিন্ন কোনো পথ| যেমন একটা আমি মনে করি নিকটতম স্কুলে ভর্তি বাধ্যতামূলক করতে হবে| 

প্রাথমিকের শিক্ষার মান নিয়ে এখানে আরও কিছু কথা প্রসঙ্গক্রমে বলা যেতে পারে| এর জন্য একটু পিছনে ফিরতে হবে| যেমন ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলেছিল, ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা চার বছর পিছিয়ে আছে’| এর মানে আমাদের শিশুরা প্রথম শ্রেণীতে যা শিখার কথা তা শিখছে পঞ্চম শ্রেণীতে গিয়ে| ১১ বছরের স্কুলজীবনে ৪ বছরই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাদের| কাছাকাছি সময়ে আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তৃতীয় শ্রেণীর ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণী মান অনুযায়ী বাংলা পড়তে পারে না| পঞ্চম শ্রেণীতে তা বেড়ে হয় ৭৭ শতাংশ| মাতৃভাষায় সাবলীলভাবে পড়া ও লেখার সক্ষমতা অর্জনে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেগে যায়’|

কথা হলো সেই অবস্থার থেকে আমরা কতটুকু বেরিয়ে আসতে পেরেছি, নাকি সেখানেই রয়ে গেছি| বিশ^ ব্যাংকের কথা না হয় বাদই দিলাম, দেশের ভেতরে লোকে কি বলে| বলে, সরকারি প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া হয় না| এমন আরও কত কথা শুনতে হয়| অথচ আমরা সবাই চাই মানসম্মত যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠুক দেশে যার কোনো বিকল্প নেই| সেটা কীভাবে হতে পারে তার একটা ধারণা এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে| যেমন—

০১. শতভাগ শিশুর লেখাপড়া সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে একটা শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং সেখানেই তাদের বসাতে হবে প্রথম পাবলিক পরীক্ষায়—

সেটা কোন শ্রেণী পর্যন্ত হলে যুগোপযোগী হবে মানুষ অধিক উপকৃত হবে সেটা আগে দেখতে হবে| বেশি কথায় না গিয়ে বলা যায় পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত করা হলে সেটা তেমন কোনো কাজে আসবে না| অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করা হলেও তাই হবে| ভালো হবে যদি নবম শ্রেণী পর্যন্ত করা হয়| এবং এখানেই হতে পারে প্রথম পাবলিক পরীক্ষা| কেননা সবাই এর পরের ধাপে লেখাপড়া করতে যাবে না| আবার এর আগে কাউকে ছেড়ে দিলেও সেই লেখাপড়া কোনো কাজে আসবে না| ভুলে যাবে সব| নবম শ্রেণী পর্যন্ত করা হলে যে কেউ তখন একজন লেখাপড়া জানা মানুষ হিসেবে বিবেচিত হতে পারবে| এবং সরকারের সর্বনিম্ন পদে চাকরির যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারবে নবম শ্রেণী পাসের সনদ| এতে গোটা জনগোষ্ঠি একদিন শিক্ষিত জনগোষ্ঠিতে পরিণত হবে| এ পরীক্ষার সনদের ভিত্তিতেই হবে একজন শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন| অর্থাৎ এর পরে সে কী করবে, উচ্চশিক্ষায় যাবে নাকি অন্য কোন পেশায় যাবে তা ওই সনদই বলে দেবে| প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীত করার শুপারিশ শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টেও রয়েছে| এটাকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত করতে হবে এবং সেটা বাধ্যতামূলক করতে হবে আগেই বলেছি| পরের ধাপটা হবে তিন বছরের অর্থাৎ দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত| এতে করে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করতে একজনকে দুইবার পাবলিক পরীক্ষায় বসতে হবে| এর পরে উচ্চশিক্ষা| 

০২. সব শিশুর লেখাপড়া অভিন্ন কারিকুলামে হতে হবে —

দেশের সব শিশুর লেখাপড়া অভিন্ন কারিকুলামে হতে হবে| একই ধারায় গড়ে তুলতে হবে দেশের শিশুদের| প্রাথমিক শিক্ষা, তা সে যে শ্রেণী পর্যন্তই হোক হতে হবে বাধ্যতামূলক এবং পরিচালিত হতে হবে একটা অভিন্ন কারিকুলামের মাধ্যমে| অভিন্ন কারিকুলামের অধীনে দেশের সব শিশুকে আনা একটা কঠিন কাজ ঠিকই| আবার কঠিন না এই অর্থে যে, বাংলাদেশ একটা ভাষারাষ্ট্র-জাতিরাষ্ট্র| কাজটা করতে এখানেই রয়েছে সুবিধা| আমরা এক ভাষায় কথা বলি| ভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি| আমাদের ভাষাদিবস একুশে ফেব্রুয়ারিই এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাদিবস| কাজেই ইচ্ছা থাকলে অসম্ভব না| 

০৩. ব্যাপক হারে গড়ে তুলতে হবে আবাসিক স্কুল—

সবাই তো আর উচ্চশিক্ষায় যাবে না| সেটা হয়ও না| তবে সবাইকে তো কিছু কাজ করে খেতে হবে| কিছু শিখতে হবে| হাতে-কলমে সেই শিক্ষা দিয়েই তাদের ওই আবাসিক স্কুল থেকে ছাড়তে হবে| এজন্য গ্রামে-গঞ্জে অনগ্রসর এলাকায় সবখানে গড়ে তুলতে হবে আবাসিক স্কুল| এতে প্রয়োজন হবে বড় বাজেটের সেটা মেনে নিতে হবে| 

যে শিক্ষার্থীর যেদিকে ঝোক থাকবে সেটাই সে হাতে-কলমে শিখবে| এখানেই হবে একজন শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন| তার ওই সনদই বলে দেবে সে কী করবে, উচ্চশিক্ষায় যাবে নাকি অন্য কোন পেশায় যাবে| এতে করে একটা সময় আসবে যখন ওই সনদ ছাড়া কেউ কোনো কাজ করতে পারবে না এবং দেশে একটা দক্ষ জনশক্তি গড়ে উঠবে |

০৪. স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নে বিত্তবান অভিভাবকদের ডোনেশন দিতে হবে—

ডোনেশনের কথায় পরে আসছি| এই যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক দেয়া হচ্ছে সব শিক্ষার্থীকে এর একটা ভালো দিক আছে| পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারছে না অসাধু ব্যবসায়ীরা| মজুত গড়ে তুলে বা নানা কারসাজিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কেউ| বিনামূল্যে সবশিক্ষার্থীর হাতে যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে যাচ্ছে| তবে এখানে চোখে পড়ার মতো যেটা তা হলো, সচ্ছ্বল-বিত্তবান পরিবারের সন্তানদের হাতে বিনামূল্যের বই তুলে দেয়া হচ্ছে| একটা স্কুল চালাতে সমর্থ যে অভিভাবক তার সন্তানও পাচ্ছে বিনামূল্যে বই এটা কোন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষণ না| তাও যদি ধনী-গরীব বিত্তবানদের ছেলে-মেয়ে সব এক স্কুলে পড়ত তাহলেও একটা কথা ছিল| একজন বই পেল একজন পেল না এনিয়ে শিশুমনে একটা প্রতিক্রিয়া হতে পারত| সেটা তো না| 

এখানে একটা কথা এসেই যায় তা হলো এই শত শত কোটি টাকার বই বিনামূল্যে যাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে বছরের পর বছর দশকের পর দশক ধরে তারা এর সুফল কতটুুকু পাচ্ছে| একজন শিক্ষার্থী তা সে যে ক্লাসেরই হোক যে পরিমাণ টাকার বই বিনামূল্যে সরবার খেকে পাচ্ছে তার থেকে বেশি টাকা দিয়ে তাকে একটা বিষয়ের নোট-গাইড বই কিনতে হচ্ছে| প্রতিটা বিষয়ের বড় বড় নোট গাইড এমন যে অনেক শিক্ষার্থী তা বইতে পারে না— সঙ্গে লোক লাগে| ওই ব্যাগটা যদি কেউ দয়া করে একটু খুলে দেখেন দেখবেন মূল বইয়ের কোনো খবর নেই নোট গাইডে ভরা| অর্থাৎ বলা যায় লেখাপড়া হয়ে গেছে ওই নোট-গাইড আর কোচিং নির্ভর| 

যাহোক যে কথা শুরুতে বলতে চেয়েছি তা হলো নিকটতম স্কুলে শিশুর পড়া যদি বাধ্যতামূলক করা যায় তাহলে কোনো স্কুলই আর পিছিয়ে থাকবে না —মানসম্মত হয়ে উঠবে| অভিভাবক মহোদয়রাও ¯^স্তি পাবেন| এখানেই ডোনেশনের প্রশ্ন এসে যায়| প্রত্যেকে অভিভাবকই চাইবেন তার সন্তান যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করবে সেটা মানসম্মত হোক ভালোভাবে চলুক| এই যে নোট-গাইড, কোচিং, সহায়ক গ্রন্থ, প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা, ভর্তি পরীক্ষা এরকম নানাখাতে নানাভাবে যদি কোন অভিভাবককে টাকা ঢালতে না হয় তার সন্তানের লেখাপড়ার জন্য তাহলে যে স্কুলে তার সন্তান পড়বে সেই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ডোনেট করা তার জন্য কোনো ব্যাপারই না বরং উৎসাহের কারণ হতে পারে| 

প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির সমস্যাটা বড় শহরের হলেও দেশের মাঝারি এবং ছোট শহরগুলোতেও কম যায় না| আর গ্রামের কথা ভিন্ন| সেখানকার সমস্যা অন্যরকম| সেখানকার অনেক স্কুলই এখন ছাত্র সংকটে পড়েছে| দেশের গ্রামগুলোতে শুধু না বলা যায় পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে উঠা ছোটদের মাদ্রাসা এই সংকট সৃষ্টির অন্যতম কারণ বলে অনেকে মনে করছেন|

[লেখক: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬


প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

প্রথম শ্রেণীতে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি আর থাকছে না| পত্রিকায় এসেছে মানণীয় শিক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যে বলে দিয়েছেন, ২০২৭ থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে ভর্তি করা হবে|

সচেতন অভিভাবকরা চান তাদের সন্তানদের মানসম্মত কোনো একটা ভালো স্কুলে ভর্তি করতে| এনিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কমাতে ২০১১ সাল থেকে চলে আসছে লটারির মাধ্যমে ভর্তি| এখন বলা হচ্ছে পরীক্ষা নিয়ে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে| অর্থাৎ আবার সেই হুলুস্থুল কাণ্ড| তাই বলতে চাচ্ছি ওদিকে আর না গিয়ে খোঁজা দরকার ভিন্ন কোনো পথ| 

বলা হয় মানসম্মত স্কুলের অভাবে এই পরিস্থিতি| এটা কেন হবে| সরকারি প্রাইমারি স্কুলের কথায় যদি আসি দেখা যাবে দেশব্যাপী বিরাট এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন এসব স্কুলের শিক্ষক মহোদয়রা| তারপর রয়েছে এক বছরের পিটিআই ট্রেনিংসহ নানা রকম কারিকুলামের সহিত তাদের সম্পৃক্ততা| রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসন পরিদর্শন ইত্যাদি কার্যে নিয়োজিত মাঠ পর্যায় থেকে অধিদপ্তর পর্যন্ত সুবিশাল এক কর্মী বাহিনী| গড়ে উঠেছে মজবুত এক প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক| তাহলে কেন এই শিক্ষক সাহেবরা এসব শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারবেন না| কেন স্কুলগুলো মানসম্মত হবে না| কেন আমাদের শুনতে হয় সরকারি প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া হয় না| কেন একটা দুধের শিশুকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হতে পরীক্ষায় বসিয়ে তাকে বিচলিত করতে হবে| ভর্তি পরীক্ষা মানেই তো সেই কোচিং বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো| কাজেই প্রথম শ্রেণীতে ভর্তিতে ভিন্ন কোনো পথ খুঁজতে হবে| অবশ্যই গ্রহণযোগ্য ভালো কোনো পথ বেরিয়ে আসবে| 

শহরের স্কুলগুলোতে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি নিয়ে এখানে কথা| এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানসম্মত স্কুল নিয়েও কথা| প্রাইমারি শিক্ষার মান নিয়ে যেসব কথা লোকে বলে অনেকাংশে তার সত্যতা রয়েছে| একটু খোঁজ নিলে আরও অনেক সত্য জানা যাবে| যেমন শহরের সরকারি প্রাইমারি স্কুলগুলোতে কারা পড়ে| নিম্ন আয়ের যেমন বাসার কাজের বেটিদের ছেলে-মেয়ে রিকসাওয়ালা চা বিক্রেতা দিনমজুর এদের ছেলে-মেয়েরাই এসব সরকারি স্কুলগুলোতে লেখাপড়া করে| ব্যতিক্রম থাকতেই পারে, সেটা কোনো বিষয় না| সরকারি স্কুল সবার জন্য এটাই কথা| কী কারণে সেখানে মানসম্মত লেখাপড়া হয় না সেটাই দেখার বিষয়| 

প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূর করতে আজ লটারি, কাল মেধা যাচাই পরীক্ষা পরশু আরেকটা এসব করে সমস্যার কোনো সমাধান হবে মনে হয় না| তাই খুঁজতে হবে ভিন্ন কোনো পথ| প্রাথমিক শিক্ষায় সুদীর্ঘ সময় চাকরি এবং বাইরের দুএকটা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হয় এই সমস্যার সমাধানে প্রথমেই যে কাজটা করা যেতে পারে তা হলো—


নিকটতম স্কুলে শিশুর ভর্তি বাধ্যতামূলক করা—

যার মূল কথা হবে কোনো স্কুলই খারাপ না| প্রয়োজনে স্কুলের ক্যাচমেন্ট এরিয়া নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে| প্রয়োজনে নতুন স্কুল বানাতে হবে| পাড়া-মহল্লার সব শিশু যাতে ওই স্কুলে লেখাপড়া করে তার জন্য বাধ্যতামূলক করতে হবে ওই স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করা| এতে ওই মানসম্মত না, খারাপ স্কুল এসব ধারণা আপনা থেকেই চলে যাবে এবং ওই স্কুলই হয়ে উঠবে সানসম্মত| তখন এর সুফল ছড়িয়ে পড়বে সমাজের সব স্তরে| পাড়া-মহল্লার শিশুরা পায়ে গেঁটে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে| গাড়িঘোড়ার হয়রানি আর ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবেন অভিভাবকরা| কেউ তার সন্তানকে তার নিকটতম স্কুলে পড়াতে না চাইলে যেখানে পড়াতে চাইবেন সেখানে গিয়ে তাকে বসবাস করতে হবে| এবং সে ক্ষেত্রে নিকটতম স্কুল থেকে অনাপত্তি প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করতে হবে| 

নেহায়েতই একটা শিশুকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করতে ওই লটারি বা পরীক্ষায় বসানো এর কোনোটাকেই যুক্তিযুক্ত মনে করার কোনো কারণ দেখছি না| বরং পরীক্ষায় বসানোটা হবে লেখাপড়া নিয়ে সেই বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো| তাই খুঁজতে হবে ভিন্ন কোনো পথ| যেমন একটা আমি মনে করি নিকটতম স্কুলে ভর্তি বাধ্যতামূলক করতে হবে| 

প্রাথমিকের শিক্ষার মান নিয়ে এখানে আরও কিছু কথা প্রসঙ্গক্রমে বলা যেতে পারে| এর জন্য একটু পিছনে ফিরতে হবে| যেমন ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলেছিল, ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা চার বছর পিছিয়ে আছে’| এর মানে আমাদের শিশুরা প্রথম শ্রেণীতে যা শিখার কথা তা শিখছে পঞ্চম শ্রেণীতে গিয়ে| ১১ বছরের স্কুলজীবনে ৪ বছরই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাদের| কাছাকাছি সময়ে আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তৃতীয় শ্রেণীর ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণী মান অনুযায়ী বাংলা পড়তে পারে না| পঞ্চম শ্রেণীতে তা বেড়ে হয় ৭৭ শতাংশ| মাতৃভাষায় সাবলীলভাবে পড়া ও লেখার সক্ষমতা অর্জনে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেগে যায়’|

কথা হলো সেই অবস্থার থেকে আমরা কতটুকু বেরিয়ে আসতে পেরেছি, নাকি সেখানেই রয়ে গেছি| বিশ^ ব্যাংকের কথা না হয় বাদই দিলাম, দেশের ভেতরে লোকে কি বলে| বলে, সরকারি প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া হয় না| এমন আরও কত কথা শুনতে হয়| অথচ আমরা সবাই চাই মানসম্মত যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠুক দেশে যার কোনো বিকল্প নেই| সেটা কীভাবে হতে পারে তার একটা ধারণা এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে| যেমন—

০১. শতভাগ শিশুর লেখাপড়া সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে একটা শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং সেখানেই তাদের বসাতে হবে প্রথম পাবলিক পরীক্ষায়—

সেটা কোন শ্রেণী পর্যন্ত হলে যুগোপযোগী হবে মানুষ অধিক উপকৃত হবে সেটা আগে দেখতে হবে| বেশি কথায় না গিয়ে বলা যায় পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত করা হলে সেটা তেমন কোনো কাজে আসবে না| অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করা হলেও তাই হবে| ভালো হবে যদি নবম শ্রেণী পর্যন্ত করা হয়| এবং এখানেই হতে পারে প্রথম পাবলিক পরীক্ষা| কেননা সবাই এর পরের ধাপে লেখাপড়া করতে যাবে না| আবার এর আগে কাউকে ছেড়ে দিলেও সেই লেখাপড়া কোনো কাজে আসবে না| ভুলে যাবে সব| নবম শ্রেণী পর্যন্ত করা হলে যে কেউ তখন একজন লেখাপড়া জানা মানুষ হিসেবে বিবেচিত হতে পারবে| এবং সরকারের সর্বনিম্ন পদে চাকরির যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারবে নবম শ্রেণী পাসের সনদ| এতে গোটা জনগোষ্ঠি একদিন শিক্ষিত জনগোষ্ঠিতে পরিণত হবে| এ পরীক্ষার সনদের ভিত্তিতেই হবে একজন শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন| অর্থাৎ এর পরে সে কী করবে, উচ্চশিক্ষায় যাবে নাকি অন্য কোন পেশায় যাবে তা ওই সনদই বলে দেবে| প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীত করার শুপারিশ শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টেও রয়েছে| এটাকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত করতে হবে এবং সেটা বাধ্যতামূলক করতে হবে আগেই বলেছি| পরের ধাপটা হবে তিন বছরের অর্থাৎ দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত| এতে করে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করতে একজনকে দুইবার পাবলিক পরীক্ষায় বসতে হবে| এর পরে উচ্চশিক্ষা| 


০২. সব শিশুর লেখাপড়া অভিন্ন কারিকুলামে হতে হবে —

দেশের সব শিশুর লেখাপড়া অভিন্ন কারিকুলামে হতে হবে| একই ধারায় গড়ে তুলতে হবে দেশের শিশুদের| প্রাথমিক শিক্ষা, তা সে যে শ্রেণী পর্যন্তই হোক হতে হবে বাধ্যতামূলক এবং পরিচালিত হতে হবে একটা অভিন্ন কারিকুলামের মাধ্যমে| অভিন্ন কারিকুলামের অধীনে দেশের সব শিশুকে আনা একটা কঠিন কাজ ঠিকই| আবার কঠিন না এই অর্থে যে, বাংলাদেশ একটা ভাষারাষ্ট্র-জাতিরাষ্ট্র| কাজটা করতে এখানেই রয়েছে সুবিধা| আমরা এক ভাষায় কথা বলি| ভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি| আমাদের ভাষাদিবস একুশে ফেব্রুয়ারিই এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাদিবস| কাজেই ইচ্ছা থাকলে অসম্ভব না| 


০৩. ব্যাপক হারে গড়ে তুলতে হবে আবাসিক স্কুল—

সবাই তো আর উচ্চশিক্ষায় যাবে না| সেটা হয়ও না| তবে সবাইকে তো কিছু কাজ করে খেতে হবে| কিছু শিখতে হবে| হাতে-কলমে সেই শিক্ষা দিয়েই তাদের ওই আবাসিক স্কুল থেকে ছাড়তে হবে| এজন্য গ্রামে-গঞ্জে অনগ্রসর এলাকায় সবখানে গড়ে তুলতে হবে আবাসিক স্কুল| এতে প্রয়োজন হবে বড় বাজেটের সেটা মেনে নিতে হবে| 

যে শিক্ষার্থীর যেদিকে ঝোক থাকবে সেটাই সে হাতে-কলমে শিখবে| এখানেই হবে একজন শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন| তার ওই সনদই বলে দেবে সে কী করবে, উচ্চশিক্ষায় যাবে নাকি অন্য কোন পেশায় যাবে| এতে করে একটা সময় আসবে যখন ওই সনদ ছাড়া কেউ কোনো কাজ করতে পারবে না এবং দেশে একটা দক্ষ জনশক্তি গড়ে উঠবে |


০৪. স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নে বিত্তবান অভিভাবকদের ডোনেশন দিতে হবে—

ডোনেশনের কথায় পরে আসছি| এই যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক দেয়া হচ্ছে সব শিক্ষার্থীকে এর একটা ভালো দিক আছে| পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারছে না অসাধু ব্যবসায়ীরা| মজুত গড়ে তুলে বা নানা কারসাজিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কেউ| বিনামূল্যে সবশিক্ষার্থীর হাতে যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে যাচ্ছে| তবে এখানে চোখে পড়ার মতো যেটা তা হলো, সচ্ছ্বল-বিত্তবান পরিবারের সন্তানদের হাতে বিনামূল্যের বই তুলে দেয়া হচ্ছে| একটা স্কুল চালাতে সমর্থ যে অভিভাবক তার সন্তানও পাচ্ছে বিনামূল্যে বই এটা কোন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষণ না| তাও যদি ধনী-গরীব বিত্তবানদের ছেলে-মেয়ে সব এক স্কুলে পড়ত তাহলেও একটা কথা ছিল| একজন বই পেল একজন পেল না এনিয়ে শিশুমনে একটা প্রতিক্রিয়া হতে পারত| সেটা তো না| 

এখানে একটা কথা এসেই যায় তা হলো এই শত শত কোটি টাকার বই বিনামূল্যে যাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে বছরের পর বছর দশকের পর দশক ধরে তারা এর সুফল কতটুুকু পাচ্ছে| একজন শিক্ষার্থী তা সে যে ক্লাসেরই হোক যে পরিমাণ টাকার বই বিনামূল্যে সরবার খেকে পাচ্ছে তার থেকে বেশি টাকা দিয়ে তাকে একটা বিষয়ের নোট-গাইড বই কিনতে হচ্ছে| প্রতিটা বিষয়ের বড় বড় নোট গাইড এমন যে অনেক শিক্ষার্থী তা বইতে পারে না— সঙ্গে লোক লাগে| ওই ব্যাগটা যদি কেউ দয়া করে একটু খুলে দেখেন দেখবেন মূল বইয়ের কোনো খবর নেই নোট গাইডে ভরা| অর্থাৎ বলা যায় লেখাপড়া হয়ে গেছে ওই নোট-গাইড আর কোচিং নির্ভর| 

যাহোক যে কথা শুরুতে বলতে চেয়েছি তা হলো নিকটতম স্কুলে শিশুর পড়া যদি বাধ্যতামূলক করা যায় তাহলে কোনো স্কুলই আর পিছিয়ে থাকবে না —মানসম্মত হয়ে উঠবে| অভিভাবক মহোদয়রাও ¯^স্তি পাবেন| এখানেই ডোনেশনের প্রশ্ন এসে যায়| প্রত্যেকে অভিভাবকই চাইবেন তার সন্তান যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করবে সেটা মানসম্মত হোক ভালোভাবে চলুক| এই যে নোট-গাইড, কোচিং, সহায়ক গ্রন্থ, প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা, ভর্তি পরীক্ষা এরকম নানাখাতে নানাভাবে যদি কোন অভিভাবককে টাকা ঢালতে না হয় তার সন্তানের লেখাপড়ার জন্য তাহলে যে স্কুলে তার সন্তান পড়বে সেই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ডোনেট করা তার জন্য কোনো ব্যাপারই না বরং উৎসাহের কারণ হতে পারে| 

প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির সমস্যাটা বড় শহরের হলেও দেশের মাঝারি এবং ছোট শহরগুলোতেও কম যায় না| আর গ্রামের কথা ভিন্ন| সেখানকার সমস্যা অন্যরকম| সেখানকার অনেক স্কুলই এখন ছাত্র সংকটে পড়েছে| দেশের গ্রামগুলোতে শুধু না বলা যায় পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে উঠা ছোটদের মাদ্রাসা এই সংকট সৃষ্টির অন্যতম কারণ বলে অনেকে মনে করছেন|

[লেখক: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা]


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত