সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রম্যগদ্য: ‘খা খা, ডবল খা’


জাঁ-নেসার ওসমান
জাঁ-নেসার ওসমান
প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

রম্যগদ্য: ‘খা খা, ডবল খা’
আমাদের দেশের ওষুধে অসাধু কোম্পানিগুলো ঠিক পরিমাণ মতো ক্যেমিক্যাল দেয় না| মনে কর, যেখানে ক্যেমিক্যেল লাগবে ২০ গ্রাম ওরা দ্যেয় ১০ গ্রাম| তাই আমাদের প্রতিবেশী দেশের এক ডাক্তার আমাকে বলল, আপনারা আপনাদের দেশের অষুধ ডবল করে খাবেন, তাহলে অষুধ সঠিক কাজ করবে

‘খা খা, ডবল খা, মাইনে কী? পুনারো বছরের খাওন পাঁচ বছরে খাইতে চাইলে তো “ডবল” না ”ট্রিপল” খাওন লাগবো!”

“আরে বুড়বক আমি কী খাওয়ার কথা বলছি, আর তুই কী খাবার কথা ভাবছিস?”

“উঁ কচি খুকা| বুঝি না মিয়া চান্দাবাজীর কথা কোইবার লাগছেন!”

“ওম্মা দেশের বিগত সব চান্দাবাজরা তো এখন বিদেশের মাটিতে তাদের কর্মফল ভোগ করছে| দেশটাকে বাপের দেশ মনে করে যে কর্মকাণ্ড করলি তার ফলশ্রুতিতে এখন চান্দাবাজদের ঘরের চৌকাঠ পর্যন্ত বিলুপ্ত|”

“আপনে কি বলতে চান, দেশের চান্দাবাজী বিগত! এ্যখন দেশে আর চান্দাবাজী নাই! বর্তমানে চান্দাবাজী বন্ধ!”

“আমি সঠিক বিজ্ঞানের নিয়ম মেনে বলছি যে “খা খা, ডবল খা”|

“চান্দাবাজী আবার ˆবজ্ঞানিক! মরে যাই সখী তোর চাঁদনীর গন্ধে...”

“আরে চান্দাবাজী আবার ˆবজ্ঞানিক হবে কেন? চাঁদার বৌ চাঁদনী বললে তো হবে না!”

“আপনে মিয়া নিজে কোইতাছেন “খা খা, ডবল খা” আবার কোইবেন আপনে চান্দাবাজীর কথা কোইতাছেন না| এক মুখে দুই কতা চলে নাকি!”

“আচ্ছা তুই যে তখন থেকে চাঁদাবাজী চাঁদাবাজী করছিস, আমি কি তোকে একবারও চাঁদা ডবল খাওয়ার কথা বলেছি?”

“ঠিক আছে মানলাম, আপনে একবারও চান্দাবাজীর কথা কন নাই| কিন্তু আকাশে ম্যাঘ দেখলে পাবলিক বুইঝা লয় যে অহন বৃষ্টি হোইবো| আপনে যখন কন- “খা খা, ডবল খা” তখন পাবলিকে ধইরাই নেয় যে, আপনে চান্দাবাজীর কথা কোইতাছেন| “খা খা, ডবল খা”| 

“আসলে তুই বিশ্বাস কর, আমি কিন্তু চাঁদাবাজীর কথা বলিনি|”

“না না না না, মিয়া সত্য কথা কইতে আপনের ডর কিয়ের| ইরান যুদ্ধে সব জিনিসপত্রের দাম বাড়তি| তেলের লাইনে পাবলিকের ভিড়| গত দেড় বছরে পেট্রলের দাম বাড়ছে পাঁচবার, তাই “খা খা, ডবল খা” অসুবিধা কি, অহন সবতে যা খাইবো ডবল খাইবো|”

“হেঁ হেঁ এই ডবল খাবার একটা মজার গল্প আছে জানিস?”

“চান্দা ডবল খাইলে মজাতো লাগবোই|”

“আরে না, গল্পটা হচ্ছে এই রকম, একবার জয়াগের এক লোক আরব্য রজনীর এক জ্বীনকে বোতল থেকে চার হাজার বছর পর মুক্ত করে...” 

“হ হ, আমিও দেখছি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ভাষার মাস একুশে ফেব্রুয়ারিতে পিরায় ছয় হাজার বছর পর ঢাকার রাস্তায় কতগুলা জ্বীন নামায়ছিল!” 

“আরে ওগুলোতো চারুকলার ছাত্রদের শোলার ˆতরি জ্বীনস, কিন্তু এটা জ্যান্ত জ্বীন| জ্বীন বোতল থেকে মুক্ত হয়ে কৃতজ্ঞতা ¯^রুপ মুক্তিদাতাকে বলল, “আকা বলুন আপনের কি খেদমত করবো?”

“এইটা কি বলছেন, জ্বীন ভূতের কৃতজ্ঞতা বোধ!”

“আরে সেকালে পশু পাখীরও কৃতজ্ঞতা বোধ থাকতো|”

“হ যেইটা অহন মানুষেরও নাই| আচ্ছা আপনের গল্পটা কন, জ্বীনের বাদশা কি করলো|”

“লোকটা সুযোগ পেয়ে বলল, আমাকে একটা ডুপলেক্স বাড়ি বানিয়ে দাও| ব্যাস শুধু বলতে দেরি, সঙ্গে সঙ্গে লোকটার ডুপ্লেক্স বাড়ি হয়ে গেলো আর পাড়াপড়শি সবের ডবল ডুপ্লেক্স বাড়ি হলো| লোকটা অবাক হয়ে জ্বীনকে জিজ্ঞেস করলো, ব্যাপার কি, আমার বাড়ি হলো একটা আর পাড়াপড়শির বাড়ি হলো ডবল, দুইটা! তখন জ্বীন হেসে বলল, জি জনাব, আপনি যা চাইবেন আপনার পাড়া প্রতিবেশিরা সেটার ডবল পাবে| লোকটা বলল, আমাকে একটা পাজেরো দাও, সঙ্গে সঙ্গে লোকটার একটা পাজেরো এলো, আর সবাই পেলো ডবল পাজেরো|”

“মানে এই ব্যডা যা চাইবো হ্যের লগের লোকেরা হেইডা ডবল পাইবো?”

 “ইয়েস| ফলে লোকটা সব সময় প্রতিবেশির অর্ধেক পাচ্ছে|”

“বড় দুঃখের কথা, ব্যাডায় করলো জ্বীনেরে মুক্তি আর প্রতিবেশি করে ডবল ফুর্তি| না জিনিসটা ঠিক না!”

“লোকটা যা চায় প্রতিবেশিরা ডবল পায়| আর এই ডবল হওয়ার ব্যাপারে লোকটা পরশ্রীকাতরতায় ভুগে, হাইপার টেনশন হওয়ার মত অবস্থা| তখন লোকটা বুদ্ধি করে একটা কাজ করলো|”

“কি কাজ, লোকটা কি প্যাঁচ মারলো?”

“লোকটা তখন রাগে দুঃখে, জ্বীনের বাদশাহকে বলল, ওই ব্যাটা জ্বীন তুই আমার একটা চোখ কানা করে দে| যেই বলা সেই কাজ| সঙ্গে সঙ্গে লোকটার একটা চোখ কানা হয়ে গেলো, আর সারা দেশের সব লোকের ডাবল মানে দুটো চোখ অন্ধ হয়ে গেলো| লোকটা তখন খুশির সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠলো, “আঁধা দেশের কানা রাজা আঁই” মানে অন্ধের দেশে আমি কানা রাজা|”

“হেঁ হেঁ হালার পোলা ক্যেমন খারাপ নিজের ইগোর লাই, পাড়া প্রতিবেশীর ক্যামন ক্ষতিটা করলো| বুঝলাম সারা দেশের লোক অহনও অন্ধ কিন্তু “খা খা ডবল খা” এইডার মাজেজাটা কি?”

“আরে ভেরি সিম্পল, আমাদের দেশের ওষুধে অসাধু কোম্পানিগুলো ঠিক পরিমাণ মতো ক্যেমিক্যাল দেয় না| মনে কর, যেখানে ক্যেমিক্যেল লাগবে ২০ গ্রাম ওরা দ্যেয় ১০ গ্রাম| তাই আমাদের প্রতিবেশী দেশের এক ডাক্তার আমাকে বলল, আপনারা আপনাদের দেশের অষুধ ডবল করে খাবেন, তাহলে অষুধ সঠিক কাজ করবে| তাই আমি ঠাট্টা করে বলেছিলাম, “খা খা ডবল খা”| মানে অষুধ দুটো করে খা|”

“হেঁ হেঁ, কথাটা দারুণ কোইছেন, “খা খা, ডবল খা” মানে ওষুধ দুইটা কোইরা খা|” 

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬


রম্যগদ্য: ‘খা খা, ডবল খা’

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

‘খা খা, ডবল খা, মাইনে কী? পুনারো বছরের খাওন পাঁচ বছরে খাইতে চাইলে তো “ডবল” না ”ট্রিপল” খাওন লাগবো!”

“আরে বুড়বক আমি কী খাওয়ার কথা বলছি, আর তুই কী খাবার কথা ভাবছিস?”

“উঁ কচি খুকা| বুঝি না মিয়া চান্দাবাজীর কথা কোইবার লাগছেন!”

“ওম্মা দেশের বিগত সব চান্দাবাজরা তো এখন বিদেশের মাটিতে তাদের কর্মফল ভোগ করছে| দেশটাকে বাপের দেশ মনে করে যে কর্মকাণ্ড করলি তার ফলশ্রুতিতে এখন চান্দাবাজদের ঘরের চৌকাঠ পর্যন্ত বিলুপ্ত|”

“আপনে কি বলতে চান, দেশের চান্দাবাজী বিগত! এ্যখন দেশে আর চান্দাবাজী নাই! বর্তমানে চান্দাবাজী বন্ধ!”

“আমি সঠিক বিজ্ঞানের নিয়ম মেনে বলছি যে “খা খা, ডবল খা”|

“চান্দাবাজী আবার ˆবজ্ঞানিক! মরে যাই সখী তোর চাঁদনীর গন্ধে...”

“আরে চান্দাবাজী আবার ˆবজ্ঞানিক হবে কেন? চাঁদার বৌ চাঁদনী বললে তো হবে না!”

“আপনে মিয়া নিজে কোইতাছেন “খা খা, ডবল খা” আবার কোইবেন আপনে চান্দাবাজীর কথা কোইতাছেন না| এক মুখে দুই কতা চলে নাকি!”

“আচ্ছা তুই যে তখন থেকে চাঁদাবাজী চাঁদাবাজী করছিস, আমি কি তোকে একবারও চাঁদা ডবল খাওয়ার কথা বলেছি?”

“ঠিক আছে মানলাম, আপনে একবারও চান্দাবাজীর কথা কন নাই| কিন্তু আকাশে ম্যাঘ দেখলে পাবলিক বুইঝা লয় যে অহন বৃষ্টি হোইবো| আপনে যখন কন- “খা খা, ডবল খা” তখন পাবলিকে ধইরাই নেয় যে, আপনে চান্দাবাজীর কথা কোইতাছেন| “খা খা, ডবল খা”| 

“আসলে তুই বিশ্বাস কর, আমি কিন্তু চাঁদাবাজীর কথা বলিনি|”

“না না না না, মিয়া সত্য কথা কইতে আপনের ডর কিয়ের| ইরান যুদ্ধে সব জিনিসপত্রের দাম বাড়তি| তেলের লাইনে পাবলিকের ভিড়| গত দেড় বছরে পেট্রলের দাম বাড়ছে পাঁচবার, তাই “খা খা, ডবল খা” অসুবিধা কি, অহন সবতে যা খাইবো ডবল খাইবো|”

“হেঁ হেঁ এই ডবল খাবার একটা মজার গল্প আছে জানিস?”

“চান্দা ডবল খাইলে মজাতো লাগবোই|”

“আরে না, গল্পটা হচ্ছে এই রকম, একবার জয়াগের এক লোক আরব্য রজনীর এক জ্বীনকে বোতল থেকে চার হাজার বছর পর মুক্ত করে...” 

“হ হ, আমিও দেখছি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ভাষার মাস একুশে ফেব্রুয়ারিতে পিরায় ছয় হাজার বছর পর ঢাকার রাস্তায় কতগুলা জ্বীন নামায়ছিল!” 

“আরে ওগুলোতো চারুকলার ছাত্রদের শোলার ˆতরি জ্বীনস, কিন্তু এটা জ্যান্ত জ্বীন| জ্বীন বোতল থেকে মুক্ত হয়ে কৃতজ্ঞতা ¯^রুপ মুক্তিদাতাকে বলল, “আকা বলুন আপনের কি খেদমত করবো?”

“এইটা কি বলছেন, জ্বীন ভূতের কৃতজ্ঞতা বোধ!”

“আরে সেকালে পশু পাখীরও কৃতজ্ঞতা বোধ থাকতো|”

“হ যেইটা অহন মানুষেরও নাই| আচ্ছা আপনের গল্পটা কন, জ্বীনের বাদশা কি করলো|”

“লোকটা সুযোগ পেয়ে বলল, আমাকে একটা ডুপলেক্স বাড়ি বানিয়ে দাও| ব্যাস শুধু বলতে দেরি, সঙ্গে সঙ্গে লোকটার ডুপ্লেক্স বাড়ি হয়ে গেলো আর পাড়াপড়শি সবের ডবল ডুপ্লেক্স বাড়ি হলো| লোকটা অবাক হয়ে জ্বীনকে জিজ্ঞেস করলো, ব্যাপার কি, আমার বাড়ি হলো একটা আর পাড়াপড়শির বাড়ি হলো ডবল, দুইটা! তখন জ্বীন হেসে বলল, জি জনাব, আপনি যা চাইবেন আপনার পাড়া প্রতিবেশিরা সেটার ডবল পাবে| লোকটা বলল, আমাকে একটা পাজেরো দাও, সঙ্গে সঙ্গে লোকটার একটা পাজেরো এলো, আর সবাই পেলো ডবল পাজেরো|”

“মানে এই ব্যডা যা চাইবো হ্যের লগের লোকেরা হেইডা ডবল পাইবো?”

 “ইয়েস| ফলে লোকটা সব সময় প্রতিবেশির অর্ধেক পাচ্ছে|”

“বড় দুঃখের কথা, ব্যাডায় করলো জ্বীনেরে মুক্তি আর প্রতিবেশি করে ডবল ফুর্তি| না জিনিসটা ঠিক না!”

“লোকটা যা চায় প্রতিবেশিরা ডবল পায়| আর এই ডবল হওয়ার ব্যাপারে লোকটা পরশ্রীকাতরতায় ভুগে, হাইপার টেনশন হওয়ার মত অবস্থা| তখন লোকটা বুদ্ধি করে একটা কাজ করলো|”

“কি কাজ, লোকটা কি প্যাঁচ মারলো?”

“লোকটা তখন রাগে দুঃখে, জ্বীনের বাদশাহকে বলল, ওই ব্যাটা জ্বীন তুই আমার একটা চোখ কানা করে দে| যেই বলা সেই কাজ| সঙ্গে সঙ্গে লোকটার একটা চোখ কানা হয়ে গেলো, আর সারা দেশের সব লোকের ডাবল মানে দুটো চোখ অন্ধ হয়ে গেলো| লোকটা তখন খুশির সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠলো, “আঁধা দেশের কানা রাজা আঁই” মানে অন্ধের দেশে আমি কানা রাজা|”

“হেঁ হেঁ হালার পোলা ক্যেমন খারাপ নিজের ইগোর লাই, পাড়া প্রতিবেশীর ক্যামন ক্ষতিটা করলো| বুঝলাম সারা দেশের লোক অহনও অন্ধ কিন্তু “খা খা ডবল খা” এইডার মাজেজাটা কি?”

“আরে ভেরি সিম্পল, আমাদের দেশের ওষুধে অসাধু কোম্পানিগুলো ঠিক পরিমাণ মতো ক্যেমিক্যাল দেয় না| মনে কর, যেখানে ক্যেমিক্যেল লাগবে ২০ গ্রাম ওরা দ্যেয় ১০ গ্রাম| তাই আমাদের প্রতিবেশী দেশের এক ডাক্তার আমাকে বলল, আপনারা আপনাদের দেশের অষুধ ডবল করে খাবেন, তাহলে অষুধ সঠিক কাজ করবে| তাই আমি ঠাট্টা করে বলেছিলাম, “খা খা ডবল খা”| মানে অষুধ দুটো করে খা|”

“হেঁ হেঁ, কথাটা দারুণ কোইছেন, “খা খা, ডবল খা” মানে ওষুধ দুইটা কোইরা খা|” 

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত