জুলাই আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিন আসামির পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
রায় ঘোষণার পর আইনজীবী দুলু এই রায়ে সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আলোচিত এই হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একইসাথে পুলিশেরই তিন কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন সাজা। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
আসামিপক্ষের অন্যতম প্রধান আইনি যুক্তি তুলে ধরে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “নিহত আবু সাঈদের জব্দকৃত গেঞ্জিতে কোনো গুলির ছিদ্র ছিল না এবং মরদেহে গুলির কারণে সৃষ্ট কোনো গর্ত (ক্যাভিয়েশন) পাওয়া যায়নি। তাছাড়া নিহতের মরদেহের কোনো এক্স-রে বা রেডিওস্কোপিক পরীক্ষাও করা হয়নি, যার ফলে গুলির অস্তিত্ব সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী যে টুয়েলভ বোর শর্টগানের কার্তুজ দিয়ে গুলি করার কথা বলা হয়েছে, সেটিও জব্দ করা হয়নি।”
আইনজীবী দুলু জানান, “বাংলাদেশ সরকারের ক্রয় কমিটির মাধ্যমে কেনা ওই কার্তুজের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন তলব করার জন্য তারা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন। উৎপাদনকারী কোম্পানির নির্দেশিকায় ওই কার্তুজ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কিনা (নন-হ্যাজার্ডাস), তা যাচাই করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল সেই নথি আনেনি, যা তাদের মতে পুরো বিষয়টিতে একটি সন্দেহের অবকাশ তৈরি করে।”
এক আসামির আংশিক খালাসের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় পাঁচটি চার্জের সম্মুখীন হয়েছিলেন, যার মধ্যে চারটি থেকেই তারা খালাস পেয়েছেন। কেবল একটি চার্জে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আনোয়ার পারভেজ আপেল বাকি চার্জগুলো থেকে খালাস পেয়ে কেবল একটি চার্জে হাজতবাসকালীন মেয়াদের সাজা পেয়েছেন।”
অধিকাংশ চার্জে খালাস পাওয়ার বিষয়টিকে তিনি আসামিপক্ষের যুক্তির আংশিক বিজয় হিসেবেই দেখছেন। মামলার গুরুত্বপূর্ণ নানা প্রশ্নের উত্তর অজানা রয়ে গেছে উল্লেখ করে আপিলে নতুনভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
জুলাই আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিন আসামির পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
রায় ঘোষণার পর আইনজীবী দুলু এই রায়ে সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আলোচিত এই হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একইসাথে পুলিশেরই তিন কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন সাজা। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
আসামিপক্ষের অন্যতম প্রধান আইনি যুক্তি তুলে ধরে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, “নিহত আবু সাঈদের জব্দকৃত গেঞ্জিতে কোনো গুলির ছিদ্র ছিল না এবং মরদেহে গুলির কারণে সৃষ্ট কোনো গর্ত (ক্যাভিয়েশন) পাওয়া যায়নি। তাছাড়া নিহতের মরদেহের কোনো এক্স-রে বা রেডিওস্কোপিক পরীক্ষাও করা হয়নি, যার ফলে গুলির অস্তিত্ব সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী যে টুয়েলভ বোর শর্টগানের কার্তুজ দিয়ে গুলি করার কথা বলা হয়েছে, সেটিও জব্দ করা হয়নি।”
আইনজীবী দুলু জানান, “বাংলাদেশ সরকারের ক্রয় কমিটির মাধ্যমে কেনা ওই কার্তুজের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন তলব করার জন্য তারা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন। উৎপাদনকারী কোম্পানির নির্দেশিকায় ওই কার্তুজ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কিনা (নন-হ্যাজার্ডাস), তা যাচাই করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল সেই নথি আনেনি, যা তাদের মতে পুরো বিষয়টিতে একটি সন্দেহের অবকাশ তৈরি করে।”
এক আসামির আংশিক খালাসের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় পাঁচটি চার্জের সম্মুখীন হয়েছিলেন, যার মধ্যে চারটি থেকেই তারা খালাস পেয়েছেন। কেবল একটি চার্জে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আনোয়ার পারভেজ আপেল বাকি চার্জগুলো থেকে খালাস পেয়ে কেবল একটি চার্জে হাজতবাসকালীন মেয়াদের সাজা পেয়েছেন।”
অধিকাংশ চার্জে খালাস পাওয়ার বিষয়টিকে তিনি আসামিপক্ষের যুক্তির আংশিক বিজয় হিসেবেই দেখছেন। মামলার গুরুত্বপূর্ণ নানা প্রশ্নের উত্তর অজানা রয়ে গেছে উল্লেখ করে আপিলে নতুনভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন