চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আগামী ১৪ মের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ছিল বৃহস্পতিবার। তবে তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।
প্রসিকিউশন
বিভাগের এসআই শাহ আলম
বলেন, এজন্য ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা প্রতিবেদন দাখিলের
জন্য ১৪ মে দিন
রাখেন। সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায়
২৯ বছর পর গত
২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা
চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ
আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার
অপর আসামিরা হলেন, সামিরা হকের মা লতিফা
হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই,
খলনায়ক ডন, ডেডিড, জাভেদ,
ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। মামলার
বিবরণ অনুযায়ী, এজাহারভুক্ত আসামিসহ অচেনা ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে ‘হত্যা’ করেছে।
আসামিরা
যেন দেশত্যাগ করতে না পারে,
সে জন্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের
সহায়তা চেয়েছে রমনা থানা পুলিশ।
দেশের চলচ্চিত্র জগতে জনপ্রিয়তায় তুঙ্গে
থাকা সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ
শাহরিয়ার ইমন) ১৯৯৬ সালের
৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান।
ছেলের
মৃত্যুর পর প্রথমে একটি
অপমৃত্যু মামলা হলেও পরে সালমান
শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ
চৌধুরী ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগে
তুলে ১৯৯৭ সালের ২৪
জুলাই আদালতে একটি আবেদন করেন।
তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ
দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩
নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়,
সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।
সিআইডির
প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী
রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের
১৯ মে মামলাটি বিচার
বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর
২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই
প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম
ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার
অভিযোগ নাকচ করা হয়।
সালমান
শাহ’র বাবার মৃত্যুর পর তার মা
নীলা চৌধুরী মামলাটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের
১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার
বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১
জনের নাম তুলে ধরে
দাবি করেন, তারা তার ছেলে
‘হত্যার’ সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এরপর মামলাটি তদন্ত করে র্যাব।
তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১
আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর
বিচারক ইমরুল কায়েশ র্যাবকে মামলাটি
আর তদন্ত না করার আদেশ
দেন।
তখন
তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো
অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর
তদন্তের পর ২০২০ সালের
২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন
দেয়। সেখানেও বলা হয়, ঘটনার
সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট
৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি
বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা
আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের
কোনো ‘প্রমাণ মেলেনি’।
পিবিআই
তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে,‘চিত্রনায়িকা শাবনূরের
সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী
সামিরা হকের কারণে মা
নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে
ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ
বেছে নিয়েছিলেন।’
ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট নন সালমানের মা
নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিলো, তা জানতে তিনি
আরও তদন্ত চান। ঢাকার মহানগর
হাকিম মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের
৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের
অব্যাহতির আদেশ দেন। এরপর
আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ
থেকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মহানগর
দায়রা জজ আদালতে রিভিশন
দায়েরের আবেদন করা হয়।
২০২২
সালের ১২ জুন ঢাকা
মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন
আবেদন গ্রহণ করেন। তবে বিভিন্ন কারণে
মাঝের কয়েক বছর রিভিশন
শুনানি হয়নি। সম্প্রতি রিভিশন আবেদনের শুনানি শুরু হয়, যা
শেষ হয় গত ১৩
অক্টোবর। এরপর ২০ অক্টোবর
আদালতের আদেশে হত্যা মামলা দায়েরের কথা বলা হয়।
এছাড়া
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায়
করা মামলায় তার মায়ের রিভিশন
আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। এবিষয়ে
সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের
অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত
রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি
সংযুক্ত করে হত্যা মামলা
দায়েরের নির্দেশ দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে
তদন্ত করে রমনা মডেল
থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আগামী ১৪ মের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ছিল বৃহস্পতিবার। তবে তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।
প্রসিকিউশন
বিভাগের এসআই শাহ আলম
বলেন, এজন্য ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা প্রতিবেদন দাখিলের
জন্য ১৪ মে দিন
রাখেন। সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায়
২৯ বছর পর গত
২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা
চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ
আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার
অপর আসামিরা হলেন, সামিরা হকের মা লতিফা
হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই,
খলনায়ক ডন, ডেডিড, জাভেদ,
ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। মামলার
বিবরণ অনুযায়ী, এজাহারভুক্ত আসামিসহ অচেনা ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে ‘হত্যা’ করেছে।
আসামিরা
যেন দেশত্যাগ করতে না পারে,
সে জন্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের
সহায়তা চেয়েছে রমনা থানা পুলিশ।
দেশের চলচ্চিত্র জগতে জনপ্রিয়তায় তুঙ্গে
থাকা সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ
শাহরিয়ার ইমন) ১৯৯৬ সালের
৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান।
ছেলের
মৃত্যুর পর প্রথমে একটি
অপমৃত্যু মামলা হলেও পরে সালমান
শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ
চৌধুরী ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগে
তুলে ১৯৯৭ সালের ২৪
জুলাই আদালতে একটি আবেদন করেন।
তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ
দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩
নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়,
সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।
সিআইডির
প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী
রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের
১৯ মে মামলাটি বিচার
বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর
২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই
প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম
ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার
অভিযোগ নাকচ করা হয়।
সালমান
শাহ’র বাবার মৃত্যুর পর তার মা
নীলা চৌধুরী মামলাটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের
১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার
বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১
জনের নাম তুলে ধরে
দাবি করেন, তারা তার ছেলে
‘হত্যার’ সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এরপর মামলাটি তদন্ত করে র্যাব।
তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১
আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর
বিচারক ইমরুল কায়েশ র্যাবকে মামলাটি
আর তদন্ত না করার আদেশ
দেন।
তখন
তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো
অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর
তদন্তের পর ২০২০ সালের
২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন
দেয়। সেখানেও বলা হয়, ঘটনার
সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট
৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি
বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা
আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের
কোনো ‘প্রমাণ মেলেনি’।
পিবিআই
তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে,‘চিত্রনায়িকা শাবনূরের
সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী
সামিরা হকের কারণে মা
নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে
ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ
বেছে নিয়েছিলেন।’
ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট নন সালমানের মা
নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিলো, তা জানতে তিনি
আরও তদন্ত চান। ঢাকার মহানগর
হাকিম মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের
৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের
অব্যাহতির আদেশ দেন। এরপর
আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ
থেকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মহানগর
দায়রা জজ আদালতে রিভিশন
দায়েরের আবেদন করা হয়।
২০২২
সালের ১২ জুন ঢাকা
মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন
আবেদন গ্রহণ করেন। তবে বিভিন্ন কারণে
মাঝের কয়েক বছর রিভিশন
শুনানি হয়নি। সম্প্রতি রিভিশন আবেদনের শুনানি শুরু হয়, যা
শেষ হয় গত ১৩
অক্টোবর। এরপর ২০ অক্টোবর
আদালতের আদেশে হত্যা মামলা দায়েরের কথা বলা হয়।
এছাড়া
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায়
করা মামলায় তার মায়ের রিভিশন
আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। এবিষয়ে
সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের
অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত
রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি
সংযুক্ত করে হত্যা মামলা
দায়েরের নির্দেশ দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে
তদন্ত করে রমনা মডেল
থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন