বাংলাদেশের মানচিত্রে দীর্ঘকাল ধরে ঝুলে থাকা এক অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর মিলতে যাচ্ছে খুব শিগগিরই। কেওক্রাডং, তাজিনডং নাকি সাকাহাফঙ; কোনটি আসলে দেশের সর্বোচ্চ চূড়া, সেই অমীমাংসিত বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টায় বান্দরবান সার্কিট হাউসে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূর-ই-আলম মোহাম্মদ জোবায়ের সারওয়ার জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ পাহাড়ের নাম ঘোষণা করা হবে।
পার্বত্য বান্দরবানের গহিন অরণ্য আর মেঘের রাজ্যে গত কয়েকদিন ধরে চলা এই 'রোমাঞ্চকর কর্মযজ্ঞের' বিস্তারিত তুলে ধরেন মহাপরিচালক।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "একসময় কেবল কেওক্রাডং পর্বতকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলা হতো। তবে সময়ের সাথে সাথে সাকাহাফঙ ১-২, যৌথলাং, যৌগিহাফং, আইত্লাং এবং তজিংডং ১-২ কে নিয়ে নানা মহলে দাবি উঠতে থাকে।"
এই জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতেই এবার বিজ্ঞানসম্মত পথ বেছে নিয়েছে সরকার। ৪ এপ্রিল থেকে জরিপ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৪টি আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে ২৭ জন বিশেষজ্ঞ সদস্য এই পরিমাপের কাজ শুরু করেছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূর-ই-আলম আরও যোগ করেন, তাদের এই বিশেষ জরিপ কার্যক্রম ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকবে।
জরিপ দলটির কর্মতৎপরতা সম্পর্কে মহাপরিচালক জানান, এরই মধ্যে বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ৮টি বড় পর্বতশৃঙ্গ নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা হয়েছে এবং আগামীকাল আরও কয়েকটি চূড়ায় এই পরীক্ষা চালানো হবে।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, "মাঠপর্যায়ের এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণের পর সরকারি সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আমরা দেশবাসীকে চূড়ান্তভাবে জানাতে পারবো আসলে কোন চূড়াটি বাংলাদেশের আকাশকে সবচেয়ে উঁচুতে স্পর্শ করেছে।"
মতবিনিময় সভায় মহাপরিচালকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল রব হাওলাদার, টিম লিডার দেবাশীষ সরকার, মেজর তৌহিদ ও মো. বশির উদ্দিনসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের মানচিত্রে দীর্ঘকাল ধরে ঝুলে থাকা এক অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর মিলতে যাচ্ছে খুব শিগগিরই। কেওক্রাডং, তাজিনডং নাকি সাকাহাফঙ; কোনটি আসলে দেশের সর্বোচ্চ চূড়া, সেই অমীমাংসিত বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টায় বান্দরবান সার্কিট হাউসে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূর-ই-আলম মোহাম্মদ জোবায়ের সারওয়ার জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ পাহাড়ের নাম ঘোষণা করা হবে।
পার্বত্য বান্দরবানের গহিন অরণ্য আর মেঘের রাজ্যে গত কয়েকদিন ধরে চলা এই 'রোমাঞ্চকর কর্মযজ্ঞের' বিস্তারিত তুলে ধরেন মহাপরিচালক।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "একসময় কেবল কেওক্রাডং পর্বতকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলা হতো। তবে সময়ের সাথে সাথে সাকাহাফঙ ১-২, যৌথলাং, যৌগিহাফং, আইত্লাং এবং তজিংডং ১-২ কে নিয়ে নানা মহলে দাবি উঠতে থাকে।"
এই জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতেই এবার বিজ্ঞানসম্মত পথ বেছে নিয়েছে সরকার। ৪ এপ্রিল থেকে জরিপ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৪টি আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে ২৭ জন বিশেষজ্ঞ সদস্য এই পরিমাপের কাজ শুরু করেছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূর-ই-আলম আরও যোগ করেন, তাদের এই বিশেষ জরিপ কার্যক্রম ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকবে।
জরিপ দলটির কর্মতৎপরতা সম্পর্কে মহাপরিচালক জানান, এরই মধ্যে বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ৮টি বড় পর্বতশৃঙ্গ নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা হয়েছে এবং আগামীকাল আরও কয়েকটি চূড়ায় এই পরীক্ষা চালানো হবে।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, "মাঠপর্যায়ের এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণের পর সরকারি সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আমরা দেশবাসীকে চূড়ান্তভাবে জানাতে পারবো আসলে কোন চূড়াটি বাংলাদেশের আকাশকে সবচেয়ে উঁচুতে স্পর্শ করেছে।"
মতবিনিময় সভায় মহাপরিচালকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল রব হাওলাদার, টিম লিডার দেবাশীষ সরকার, মেজর তৌহিদ ও মো. বশির উদ্দিনসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

আপনার মতামত লিখুন