সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ইটভাটায় না যাওয়ায় শ্রমিককে হাত বেঁধে পেটালেন সর্দার, ভিডিও ভাইরাল


প্রতিনিধি, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
প্রতিনিধি, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

ইটভাটায় না যাওয়ায় শ্রমিককে হাত বেঁধে পেটালেন সর্দার, ভিডিও ভাইরাল
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কাজে না ফেরায় শ্রমিক কালু মিয়াকে হাত বেঁধে নির্যাতন করেন সর্দার ইসমাইল হোসেন। ( ছবি ভিডিও থেকে সংগৃহীত)

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ইটভাটায় কাজে না যাওয়ায় কালু মিয়া (৪০) নামে এক শ্রমিককে শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক সর্দারের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী কালু মিয়া উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের চর বসুর বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত শ্রম সর্দারের নাম ইসমাইল হোসেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার ফজুমিয়ার হাটের স্লুইসগেট এলাকায় ইসমাইলের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে ৮০ হাজার টাকা অগ্রিম (দাদন) নিয়ে চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় ছয় মাসের জন্য কাজে চুক্তিবদ্ধ হন কালু মিয়া। সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর অসুস্থ হয়ে তিনি বাড়িতে চলে আসেন। এরপর তিনি তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইসমাইল হোসেনের কার্যালয়ে কালু মিয়ার দুই হাত ওপরের দিকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় ইসমাইল তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাচ্ছেন।

একপর্যায়ে কালু মিয়ার বদলে তার ভাইদের দিয়ে কাজ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ও এ বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবেন না মর্মে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন নির্যাতনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘কালু টাকা নিয়ে ঠিকমতো কাজ করছিল না। বারবার অজুহাত দিয়ে চলে আসছিল। তাকে ভয় দেখানোর জন্য হাত বেঁধে সামান্য কয়েকটা বেত্রাঘাত করেছি।’ তবে কোন ইটভাটায় তাকে পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। এটি গুরুতর অপরাধ। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রচলিত আইনে তার বিচার নিশ্চিত করা হবে, এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


ইটভাটায় না যাওয়ায় শ্রমিককে হাত বেঁধে পেটালেন সর্দার, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ইটভাটায় কাজে না যাওয়ায় কালু মিয়া (৪০) নামে এক শ্রমিককে শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক সর্দারের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী কালু মিয়া উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের চর বসুর বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত শ্রম সর্দারের নাম ইসমাইল হোসেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার ফজুমিয়ার হাটের স্লুইসগেট এলাকায় ইসমাইলের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে ৮০ হাজার টাকা অগ্রিম (দাদন) নিয়ে চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় ছয় মাসের জন্য কাজে চুক্তিবদ্ধ হন কালু মিয়া। সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর অসুস্থ হয়ে তিনি বাড়িতে চলে আসেন। এরপর তিনি তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইসমাইল হোসেনের কার্যালয়ে কালু মিয়ার দুই হাত ওপরের দিকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় ইসমাইল তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাচ্ছেন।

একপর্যায়ে কালু মিয়ার বদলে তার ভাইদের দিয়ে কাজ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ও এ বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবেন না মর্মে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন নির্যাতনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘কালু টাকা নিয়ে ঠিকমতো কাজ করছিল না। বারবার অজুহাত দিয়ে চলে আসছিল। তাকে ভয় দেখানোর জন্য হাত বেঁধে সামান্য কয়েকটা বেত্রাঘাত করেছি।’ তবে কোন ইটভাটায় তাকে পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। এটি গুরুতর অপরাধ। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রচলিত আইনে তার বিচার নিশ্চিত করা হবে, এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত