ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমে এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৩৪২ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ১৭ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর এবং উচ্চফলনশীল (উফশী) জাত ১৫ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উপজেলায় এবার ৭৬ হাজার ৬৩২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ফসলের অবস্থা সন্তোষজনক হওয়ায় এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবার সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে ‘ব্রি ধান-৯২’ জাতের ধান। ইউনিয়নভিত্তিক হিসেবে গোকর্ণ ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪১৪ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ।
মেদিনী হাওরের কৃষক শফিকুল মিয়া বলেন, ‘ফলন খুব ভালো দেখা যাচ্ছে। দুই-এক দিনের মধ্যে বিআর-২৮ ধান কাটা শুরু করব। ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত কালবৈশাখী বা বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলেই হয়।’ স্থানীয় বাজারে এখন প্রতি মণ ধান প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার বোরোর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া একটি ইতিবাচক দিক। তবে ধান পুরোপুরি ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে হবে।’ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন