পটুয়াখালীর দুমকিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির তীব্র সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ থাকলেও পানির অভাবে আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে দুমকিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩১১ হেক্টর। বাস্তবে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বেশি জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। বিশেষ করে লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারোগাছিয়া, কার্তিকপাশা এবং শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাদুয়া ও শ্রীরামপুর এলাকায় বোরোর ব্যাপক চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌষের শেষ দিকে বীজতলা তৈরি করে মাঘের মাঝামাঝি সময়ে মূল জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ খেত সবুজে ভরে উঠেছে। কোথাও ধানের শিষ বের হয়েছে, আবার কোথাও ‘গামর’ বা থোড় আসতে শুরু করেছে। কৃষকেরা এখন নিড়ানি দেওয়া, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং সেচ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কার্তিকপাশা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার ১০০ শতাংশ জমিতে ব্রি ধান-৮৯ ও ৭৪ আবাদ করেছি। গত বছরের চেয়ে ফলন ভালো হওয়ার আশা থাকলেও পানির অভাবে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা কৃষিবিদ শুভঙ্কর চন্দ্র শীল নিজেও ৫০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে আমন চাষ কঠিন হয়, আর শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে বোরো চাষে সেচ দিতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এলাকার মরা খালগুলো দ্রুত খনন করা জরুরি।’
কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং স্লুইসগেটগুলো অকেজো থাকায় পানি পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দূর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পাইপ টেনে সেচ দিতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। সরকারিভাবে ট্রাক্টর সরবরাহ এবং মরা খাল খননের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইমরান হোসেন বলেন, ‘কৃষি প্রণোদনার আওতায় ১০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি, তবে সেচ একটি বড় সমস্যা। খালগুলো খনন ও স্লুইসগেটগুলো মেরামত করা হলে এই অঞ্চলে ফসল উৎপাদন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।’
আপনার মতামত লিখুন