অতিসম্প্রতি একটা জাতীয় ˆদনিকে প্রকাশিত খবরে দেখা গেল, বাংলাদেশ রেলওয়ের কেবল পূর্বাঞ্চলেরই অর্ধশতাধিক রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে| সংবাদটি তাৎক্ষণিকভাবে নজরে পড়ে এবং এর পেছনের যৌক্তিকতা কী তা জানার কৌতূহল জাগ্রত হয়| রেলপথ, রেলস্টেশন, ট্রেন ইত্যাদি নিয়ে প্রকাশিত যেকোনো সংবাদই দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে থাকে| কারণ গত দেড়শ বছরের অধিককালে এ জনপদের মানুষের চলাচলের প্রধান বাহন বলতে হয় নৌকা, না হয় ট্রেনই ছিল প্রধান| বলাবাহুল্য, এ অঞ্চলে ট্রেন এবং রেলস্টেশনের যাত্রা শুরু হয় ১৮৬২ সালের নভে¤^র মাসে| এর আগে জলপথই ছিল এই নিম্নগাঙেয় বদ্বীপের সাধারণ মানুষের নড়াচড়ার একমাত্র অবল¤^ন| বিশ্বব্যাপী গবেষকদের হাতে পরিসংখ্যানের যে ডায়েরি রয়েছে, এতে গণযোগাযোগের নিরাপত্তার প্রশ্নে রেলপথই প্রথম স্থানে আছে| তাকে অতিক্রম করে আর কোনো পরিবহন এখনও যায়নি| আর এ কারণেই বোধহয়, আজকের তথ্য-প্রযুক্তির উচ্চ শিখরে আরোহনকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে আকাশ পথকে টপকে গিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে আধুনিক ট্রেন|
পক্ষান্তরে এশিয়া, আফ্রিকার চিত্র কিছুটা ভিন্ন হলেও ব্যতিক্রম চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এমনকি ভারতও রেলপথে বিপ্লব ঘটিয়েছে| সাধারণ নিম্নআয়ের মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থলের আরেক নাম হয়েছে রেলপথ এবং রেলওয়ে স্টেশন|
২.
বিশ্বায়নের এমন রূপচিত্রে বাংলাদেশের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা| এখানে রেলের বিস্তার বা সম্প্রসারণের পরিবর্তে দিনের পর দিন নানাভাবে সংকুচিত হয়েছে| গত কয়েক দশকে কিছু ভালো ট্রেন, ডাবল লাইন, দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সংযোগকারী ট্রেনলাইন হলেও প্রশাসনিক অবহেলায় বেহাত হয়ে গেছে রেলের বিপুল পরিমাণ সম্পদ এবং স্থাবর জমি| এখানে উল্লেখ করা যায়, ¯^াধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশ রেলওয়ে অধীনে রাস্তা ছিল ২৮৫৮.৪৩ কি.মি., স্টেশন ছিল ৪৪৬টি, জমি ছিল ৬০,৬৩৩ একর| বর্তমানে এবিসি গ্রেডে স্টেশনের সংখ্যা মোট ৪৫৫টি, রেললাইন ২৮৭৭ কি.মি.|
অথচ ১৯৭২ সালে দেশের একই ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতরে জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৫০ লাখ| আর আজকের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি| যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমের সঙ্গে তুলনার বিচারে রেলের অগ্রগতি হয়েছে নিতান্তই সামান্য| বলা হয়, এদেশের রেলপথ সেবা আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ প্রযুক্তিনির্ভর না হওয়ার পেছনের রহস্যময়তাকে উন্মোচন করা হয়নি বা কখনও করা যায়নি|
৩.
রেলের পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যেই ৫১টি ছোট স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়| এমন সংবাদ কখনও সুখকর হতে পারে না| কর্তৃপক্ষ বলছে লোকবল সংকট প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায়, সেবার গুরুত্ব কমে যাওয়া ইত্যাদি| স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টসম্যানের অভাবজনিত কারণ বলা হয়েছে— যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক| এসব অরক্ষিত, অনিরাপদ স্টেশনগুলোর কথা ভাবতে গেলে হৃদয়ের গহীনে বেদনার উদ্রেক হয়| চোখের কোণে জল আসে| এর স্থাপনাগুলো অন্তত একশতাব্দী ধরে ¯^ ¯^ এলাকার জনগণের সেবায় দাঁড়িয়ে ছিল| এদের গৌরবময় ও জৌলুস ভরা অতীত ছিল| প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচিহ্নে সরব জীবন্ত ছিল, ত্রস্ত-ব্যস্ত ছিল মাস্টার, কুলি-মজুর আর মাটিসংলগ্ন কোলাহল মুখর প্ল্যাটফর্মগুলো| আজ হয়তো জনশূন্য বিরানভূমি, যাত্রী মানুষের বদলে ভবনের চারপাশটা দখলে নিয়েছে মাদকাসক্ত তরুণের দল, স্থানীয় মস্তান, অসাধু ব্যবসায়ী, ভূমিখেকো সন্ত্রাসী এবং কিছু বেওয়ারিশ কুকুর| হয়তো এটাই বাস্তবতা| এটা কী ভাবা যায়!
৪.
খবরটা পড়ে ভীষণ শঙ্কিত হয়েছি নিজেও| রেলস্টেশনের কাছাকাছি এক পাড়াগাঁয়ে জন্মেছি বলে| সারাদিন ট্রেনের হুঁইসেল শুনে শুনে ˆশশব, ˆকশোর, যৌবন পেরিয়ে এখন বার্ধক্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছি| দেখলাম, বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশনের তালিকায় ˆভরববাজার জং টু গৌরীপুর জং এর মধ্যবর্তী একাধিক স্টেশন রয়েছে| ˆভরবের সন্নিকটে কালিকাপ্রসাদসহ রয়েছে বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অনন্য সৃষ্টি ও বহুল আলোচিত সেই নীলগঞ্জ ও সোহাগী| ভাবছিলাম, একই অজুহাতে নিজের আজন্ম লালিত নস্টালজিক রেলস্টেশন মানিকখালীও একদিন বন্ধ হয়ে যাবে কী? এমন দুঃ¯^প্নের কথা কে ভাবতে পারে? একই ভাবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অবধি অসংখ্য পরিচিত স্টেশনের নাম রয়েছে| কুমিল্লা, লাকসাম, চাঁদপুর বরাবর লাইনে রয়েছে একাধিক ঐতিহ্যবাহী রেলস্টেশনের নাম| রেলস্টেশন বন্ধ হয়ে যাক এটা কারও কাম্য হতে পারে না|
জনবল সংকট দ্রুত নিয়োগের মধ্য দিয়ে এর অবসান ঘটানো যেতে পারে| দেশে প্রায় অর্ধকোটি তরুণ-তরুণী বেকারত্বকে বরণ করে স্রেফ মোটরবাইকের ওপর বেঁচে আছে| প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী যুবক, ছাত্রছাত্রী কেবল কর্মসংস্থান আর নিরাপত্তার নামে ¯^দেশ ও মাতৃভূমিকে ত্যাগ করে পাড়ি জমাচ্ছে পৃথিবীর দেশে দেশে| যারা যাচ্ছে তো যাচ্ছেই, ফিরে আসছে খুবই কম| পত্রিকায় বা সামাজিক মাধ্যমে এমন দুঃখজনক প্রতিবেদন হরহামেশাই চোখে পড়ছে| সরকার যায় সরকার আসে| হঠাৎ করে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে উল্লসিত হয়ে ওঠে লক্ষকোটি মানুষের মনপ্রাণ| কিন্তু কেউ ঠেকাতে পারছে না মেধার পতন, ব্রেনড্রেন আর প্রজন্মের হতাশা| অথচ সরকারের খাতায় হিসাব আছে, শুধু রাজ¯^ খাতেই হাজার হাজার পদ শূন্য হয়ে পড়ে আছে বছরের পর বছর ধরে| কে রাখে কার খবর?
৫.
সরকারের কাছে চাওয়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া সব রেলস্টেশন অনতিবিল¤ে^ চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হোক| ৫০টি স্টেশনের বিপরীতে ৩ জন করে মোট ১৫০ জন কর্মচারীর নিয়োগ দান করে দ্রুত প্রশিক্ষণসহ পদায়ন করা যায়| জন¯^ার্থে লোকাল ট্রেন বা কমিউটার ট্রেন চালু করে দেয়া যায়| এতে করে আপাতত রেলের স্থাবর সম্পত্তি ও স্টেশনগুলো বেঁচে যাবে| মৃতপ্রায় ফ্ল্যাটফর্মগুলো তাৎক্ষণিক প্রাণের স্পন্দনে জেগে উঠবে| সরকারের মনোযোগে এমন সমূহ ক্ষতি ও অপচয় থেকে রক্ষা পাবে রেলওয়ে বিভাগ এবং দেশ| বর্তমানে ফাঁকা মাঠে পড়ে থাকা কোটিকোটি টাকার সম্পদ সরাসরি সরকারের তত্ত্বাবধানে ফিরে আসবে| রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে একজন নাগরিকের এরচেয়ে জরুরি আর কী প্রত্যাশা থাকতে পারে?
[লেখক: গল্পকার]

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
অতিসম্প্রতি একটা জাতীয় ˆদনিকে প্রকাশিত খবরে দেখা গেল, বাংলাদেশ রেলওয়ের কেবল পূর্বাঞ্চলেরই অর্ধশতাধিক রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে| সংবাদটি তাৎক্ষণিকভাবে নজরে পড়ে এবং এর পেছনের যৌক্তিকতা কী তা জানার কৌতূহল জাগ্রত হয়| রেলপথ, রেলস্টেশন, ট্রেন ইত্যাদি নিয়ে প্রকাশিত যেকোনো সংবাদই দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে থাকে| কারণ গত দেড়শ বছরের অধিককালে এ জনপদের মানুষের চলাচলের প্রধান বাহন বলতে হয় নৌকা, না হয় ট্রেনই ছিল প্রধান| বলাবাহুল্য, এ অঞ্চলে ট্রেন এবং রেলস্টেশনের যাত্রা শুরু হয় ১৮৬২ সালের নভে¤^র মাসে| এর আগে জলপথই ছিল এই নিম্নগাঙেয় বদ্বীপের সাধারণ মানুষের নড়াচড়ার একমাত্র অবল¤^ন| বিশ্বব্যাপী গবেষকদের হাতে পরিসংখ্যানের যে ডায়েরি রয়েছে, এতে গণযোগাযোগের নিরাপত্তার প্রশ্নে রেলপথই প্রথম স্থানে আছে| তাকে অতিক্রম করে আর কোনো পরিবহন এখনও যায়নি| আর এ কারণেই বোধহয়, আজকের তথ্য-প্রযুক্তির উচ্চ শিখরে আরোহনকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে আকাশ পথকে টপকে গিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে আধুনিক ট্রেন|
পক্ষান্তরে এশিয়া, আফ্রিকার চিত্র কিছুটা ভিন্ন হলেও ব্যতিক্রম চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এমনকি ভারতও রেলপথে বিপ্লব ঘটিয়েছে| সাধারণ নিম্নআয়ের মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থলের আরেক নাম হয়েছে রেলপথ এবং রেলওয়ে স্টেশন|
২.
বিশ্বায়নের এমন রূপচিত্রে বাংলাদেশের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা| এখানে রেলের বিস্তার বা সম্প্রসারণের পরিবর্তে দিনের পর দিন নানাভাবে সংকুচিত হয়েছে| গত কয়েক দশকে কিছু ভালো ট্রেন, ডাবল লাইন, দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সংযোগকারী ট্রেনলাইন হলেও প্রশাসনিক অবহেলায় বেহাত হয়ে গেছে রেলের বিপুল পরিমাণ সম্পদ এবং স্থাবর জমি| এখানে উল্লেখ করা যায়, ¯^াধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশ রেলওয়ে অধীনে রাস্তা ছিল ২৮৫৮.৪৩ কি.মি., স্টেশন ছিল ৪৪৬টি, জমি ছিল ৬০,৬৩৩ একর| বর্তমানে এবিসি গ্রেডে স্টেশনের সংখ্যা মোট ৪৫৫টি, রেললাইন ২৮৭৭ কি.মি.|
অথচ ১৯৭২ সালে দেশের একই ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতরে জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৫০ লাখ| আর আজকের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি| যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমের সঙ্গে তুলনার বিচারে রেলের অগ্রগতি হয়েছে নিতান্তই সামান্য| বলা হয়, এদেশের রেলপথ সেবা আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ প্রযুক্তিনির্ভর না হওয়ার পেছনের রহস্যময়তাকে উন্মোচন করা হয়নি বা কখনও করা যায়নি|
৩.
রেলের পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যেই ৫১টি ছোট স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়| এমন সংবাদ কখনও সুখকর হতে পারে না| কর্তৃপক্ষ বলছে লোকবল সংকট প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায়, সেবার গুরুত্ব কমে যাওয়া ইত্যাদি| স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টসম্যানের অভাবজনিত কারণ বলা হয়েছে— যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক| এসব অরক্ষিত, অনিরাপদ স্টেশনগুলোর কথা ভাবতে গেলে হৃদয়ের গহীনে বেদনার উদ্রেক হয়| চোখের কোণে জল আসে| এর স্থাপনাগুলো অন্তত একশতাব্দী ধরে ¯^ ¯^ এলাকার জনগণের সেবায় দাঁড়িয়ে ছিল| এদের গৌরবময় ও জৌলুস ভরা অতীত ছিল| প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচিহ্নে সরব জীবন্ত ছিল, ত্রস্ত-ব্যস্ত ছিল মাস্টার, কুলি-মজুর আর মাটিসংলগ্ন কোলাহল মুখর প্ল্যাটফর্মগুলো| আজ হয়তো জনশূন্য বিরানভূমি, যাত্রী মানুষের বদলে ভবনের চারপাশটা দখলে নিয়েছে মাদকাসক্ত তরুণের দল, স্থানীয় মস্তান, অসাধু ব্যবসায়ী, ভূমিখেকো সন্ত্রাসী এবং কিছু বেওয়ারিশ কুকুর| হয়তো এটাই বাস্তবতা| এটা কী ভাবা যায়!
৪.
খবরটা পড়ে ভীষণ শঙ্কিত হয়েছি নিজেও| রেলস্টেশনের কাছাকাছি এক পাড়াগাঁয়ে জন্মেছি বলে| সারাদিন ট্রেনের হুঁইসেল শুনে শুনে ˆশশব, ˆকশোর, যৌবন পেরিয়ে এখন বার্ধক্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছি| দেখলাম, বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশনের তালিকায় ˆভরববাজার জং টু গৌরীপুর জং এর মধ্যবর্তী একাধিক স্টেশন রয়েছে| ˆভরবের সন্নিকটে কালিকাপ্রসাদসহ রয়েছে বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অনন্য সৃষ্টি ও বহুল আলোচিত সেই নীলগঞ্জ ও সোহাগী| ভাবছিলাম, একই অজুহাতে নিজের আজন্ম লালিত নস্টালজিক রেলস্টেশন মানিকখালীও একদিন বন্ধ হয়ে যাবে কী? এমন দুঃ¯^প্নের কথা কে ভাবতে পারে? একই ভাবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অবধি অসংখ্য পরিচিত স্টেশনের নাম রয়েছে| কুমিল্লা, লাকসাম, চাঁদপুর বরাবর লাইনে রয়েছে একাধিক ঐতিহ্যবাহী রেলস্টেশনের নাম| রেলস্টেশন বন্ধ হয়ে যাক এটা কারও কাম্য হতে পারে না|
জনবল সংকট দ্রুত নিয়োগের মধ্য দিয়ে এর অবসান ঘটানো যেতে পারে| দেশে প্রায় অর্ধকোটি তরুণ-তরুণী বেকারত্বকে বরণ করে স্রেফ মোটরবাইকের ওপর বেঁচে আছে| প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী যুবক, ছাত্রছাত্রী কেবল কর্মসংস্থান আর নিরাপত্তার নামে ¯^দেশ ও মাতৃভূমিকে ত্যাগ করে পাড়ি জমাচ্ছে পৃথিবীর দেশে দেশে| যারা যাচ্ছে তো যাচ্ছেই, ফিরে আসছে খুবই কম| পত্রিকায় বা সামাজিক মাধ্যমে এমন দুঃখজনক প্রতিবেদন হরহামেশাই চোখে পড়ছে| সরকার যায় সরকার আসে| হঠাৎ করে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে উল্লসিত হয়ে ওঠে লক্ষকোটি মানুষের মনপ্রাণ| কিন্তু কেউ ঠেকাতে পারছে না মেধার পতন, ব্রেনড্রেন আর প্রজন্মের হতাশা| অথচ সরকারের খাতায় হিসাব আছে, শুধু রাজ¯^ খাতেই হাজার হাজার পদ শূন্য হয়ে পড়ে আছে বছরের পর বছর ধরে| কে রাখে কার খবর?
৫.
সরকারের কাছে চাওয়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া সব রেলস্টেশন অনতিবিল¤ে^ চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হোক| ৫০টি স্টেশনের বিপরীতে ৩ জন করে মোট ১৫০ জন কর্মচারীর নিয়োগ দান করে দ্রুত প্রশিক্ষণসহ পদায়ন করা যায়| জন¯^ার্থে লোকাল ট্রেন বা কমিউটার ট্রেন চালু করে দেয়া যায়| এতে করে আপাতত রেলের স্থাবর সম্পত্তি ও স্টেশনগুলো বেঁচে যাবে| মৃতপ্রায় ফ্ল্যাটফর্মগুলো তাৎক্ষণিক প্রাণের স্পন্দনে জেগে উঠবে| সরকারের মনোযোগে এমন সমূহ ক্ষতি ও অপচয় থেকে রক্ষা পাবে রেলওয়ে বিভাগ এবং দেশ| বর্তমানে ফাঁকা মাঠে পড়ে থাকা কোটিকোটি টাকার সম্পদ সরাসরি সরকারের তত্ত্বাবধানে ফিরে আসবে| রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে একজন নাগরিকের এরচেয়ে জরুরি আর কী প্রত্যাশা থাকতে পারে?
[লেখক: গল্পকার]

আপনার মতামত লিখুন