সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রেলস্টেশনগুলো চালু হোক


হোসেন আবদুল মান্নান
হোসেন আবদুল মান্নান
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

রেলস্টেশনগুলো চালু হোক
গত দেড়শ বছরের অধিককালে এ জনপদের মানুষের চলাচলের প্রধান বাহন বলতে হয় নৌকা, না হয় ট্রেনই ছিল প্রধান

অতিসম্প্রতি একটা জাতীয় ˆদনিকে প্রকাশিত খবরে দেখা গেল, বাংলাদেশ রেলওয়ের কেবল পূর্বাঞ্চলেরই অর্ধশতাধিক রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে| সংবাদটি তাৎক্ষণিকভাবে নজরে পড়ে এবং এর পেছনের যৌক্তিকতা কী তা জানার কৌতূহল জাগ্রত হয়| রেলপথ, রেলস্টেশন, ট্রেন ইত্যাদি নিয়ে প্রকাশিত যেকোনো সংবাদই দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে থাকে| কারণ গত দেড়শ বছরের অধিককালে এ জনপদের মানুষের চলাচলের প্রধান বাহন বলতে হয় নৌকা, না হয় ট্রেনই ছিল প্রধান| বলাবাহুল্য, এ অঞ্চলে ট্রেন এবং রেলস্টেশনের যাত্রা শুরু হয় ১৮৬২ সালের নভে¤^র মাসে| এর আগে জলপথই ছিল এই নিম্নগাঙেয় বদ্বীপের সাধারণ মানুষের নড়াচড়ার একমাত্র অবল¤^ন| বিশ্বব্যাপী গবেষকদের হাতে পরিসংখ্যানের যে ডায়েরি রয়েছে, এতে গণযোগাযোগের নিরাপত্তার প্রশ্নে রেলপথই প্রথম স্থানে আছে| তাকে অতিক্রম করে আর কোনো পরিবহন এখনও যায়নি| আর এ কারণেই বোধহয়, আজকের তথ্য-প্রযুক্তির উচ্চ শিখরে আরোহনকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে আকাশ পথকে টপকে গিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে আধুনিক ট্রেন|

পক্ষান্তরে এশিয়া, আফ্রিকার চিত্র কিছুটা ভিন্ন হলেও ব্যতিক্রম চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এমনকি ভারতও রেলপথে বিপ্লব ঘটিয়েছে| সাধারণ নিম্নআয়ের মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থলের আরেক নাম হয়েছে রেলপথ এবং রেলওয়ে স্টেশন|

২.

বিশ্বায়নের এমন রূপচিত্রে বাংলাদেশের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা| এখানে রেলের বিস্তার বা সম্প্রসারণের পরিবর্তে দিনের পর দিন নানাভাবে সংকুচিত হয়েছে| গত কয়েক দশকে কিছু ভালো ট্রেন, ডাবল লাইন, দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সংযোগকারী ট্রেনলাইন হলেও প্রশাসনিক অবহেলায় বেহাত হয়ে গেছে রেলের বিপুল পরিমাণ সম্পদ এবং স্থাবর জমি| এখানে উল্লেখ করা যায়, ¯^াধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশ রেলওয়ে অধীনে রাস্তা ছিল ২৮৫৮.৪৩ কি.মি., স্টেশন ছিল ৪৪৬টি, জমি ছিল ৬০,৬৩৩ একর| বর্তমানে এবিসি গ্রেডে স্টেশনের সংখ্যা মোট ৪৫৫টি, রেললাইন ২৮৭৭ কি.মি.|

অথচ ১৯৭২ সালে দেশের একই ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতরে জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৫০ লাখ| আর আজকের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি| যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমের সঙ্গে তুলনার বিচারে রেলের অগ্রগতি হয়েছে নিতান্তই সামান্য| বলা হয়, এদেশের রেলপথ সেবা আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ প্রযুক্তিনির্ভর না হওয়ার পেছনের রহস্যময়তাকে উন্মোচন করা হয়নি বা কখনও করা যায়নি|

৩.

রেলের পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যেই ৫১টি ছোট স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়| এমন সংবাদ কখনও সুখকর হতে পারে না| কর্তৃপক্ষ বলছে লোকবল সংকট প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায়, সেবার গুরুত্ব কমে যাওয়া ইত্যাদি| স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টসম্যানের অভাবজনিত কারণ বলা হয়েছে— যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক| এসব অরক্ষিত, অনিরাপদ স্টেশনগুলোর কথা ভাবতে গেলে হৃদয়ের গহীনে বেদনার উদ্রেক হয়| চোখের কোণে জল আসে| এর স্থাপনাগুলো অন্তত একশতাব্দী ধরে ¯^ ¯^ এলাকার জনগণের সেবায় দাঁড়িয়ে ছিল| এদের গৌরবময় ও জৌলুস ভরা অতীত ছিল| প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচিহ্নে সরব জীবন্ত ছিল, ত্রস্ত-ব্যস্ত ছিল মাস্টার, কুলি-মজুর আর মাটিসংলগ্ন কোলাহল মুখর প্ল্যাটফর্মগুলো| আজ হয়তো জনশূন্য বিরানভূমি, যাত্রী মানুষের বদলে ভবনের চারপাশটা দখলে নিয়েছে মাদকাসক্ত তরুণের দল, স্থানীয় মস্তান, অসাধু ব্যবসায়ী, ভূমিখেকো সন্ত্রাসী এবং কিছু বেওয়ারিশ কুকুর| হয়তো এটাই বাস্তবতা| এটা কী ভাবা যায়!

৪.

খবরটা পড়ে ভীষণ শঙ্কিত হয়েছি নিজেও| রেলস্টেশনের কাছাকাছি এক পাড়াগাঁয়ে জন্মেছি বলে| সারাদিন ট্রেনের হুঁইসেল শুনে শুনে ˆশশব, ˆকশোর, যৌবন পেরিয়ে এখন বার্ধক্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছি| দেখলাম, বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশনের তালিকায় ˆভরববাজার জং টু গৌরীপুর জং এর মধ্যবর্তী একাধিক স্টেশন রয়েছে| ˆভরবের সন্নিকটে কালিকাপ্রসাদসহ রয়েছে বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অনন্য সৃষ্টি ও বহুল আলোচিত সেই নীলগঞ্জ ও সোহাগী| ভাবছিলাম, একই অজুহাতে নিজের আজন্ম লালিত নস্টালজিক রেলস্টেশন মানিকখালীও একদিন বন্ধ হয়ে যাবে কী? এমন দুঃ¯^প্নের কথা কে ভাবতে পারে? একই ভাবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অবধি অসংখ্য পরিচিত স্টেশনের নাম রয়েছে| কুমিল্লা, লাকসাম, চাঁদপুর বরাবর লাইনে রয়েছে একাধিক ঐতিহ্যবাহী রেলস্টেশনের নাম| রেলস্টেশন বন্ধ হয়ে যাক এটা কারও কাম্য হতে পারে না| 

জনবল সংকট দ্রুত নিয়োগের মধ্য দিয়ে এর অবসান ঘটানো যেতে পারে| দেশে প্রায় অর্ধকোটি তরুণ-তরুণী বেকারত্বকে বরণ করে স্রেফ মোটরবাইকের ওপর বেঁচে আছে| প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী যুবক, ছাত্রছাত্রী কেবল কর্মসংস্থান আর নিরাপত্তার নামে ¯^দেশ ও মাতৃভূমিকে ত্যাগ করে পাড়ি জমাচ্ছে পৃথিবীর দেশে দেশে| যারা যাচ্ছে তো যাচ্ছেই, ফিরে আসছে খুবই কম| পত্রিকায় বা সামাজিক মাধ্যমে এমন দুঃখজনক প্রতিবেদন হরহামেশাই চোখে পড়ছে| সরকার যায় সরকার আসে| হঠাৎ করে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে উল্লসিত হয়ে ওঠে লক্ষকোটি মানুষের মনপ্রাণ| কিন্তু কেউ ঠেকাতে পারছে না মেধার পতন, ব্রেনড্রেন আর প্রজন্মের হতাশা| অথচ সরকারের খাতায় হিসাব আছে, শুধু রাজ¯^ খাতেই হাজার হাজার পদ শূন্য হয়ে পড়ে আছে বছরের পর বছর ধরে| কে রাখে কার খবর?

৫.

সরকারের কাছে চাওয়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া সব রেলস্টেশন অনতিবিল¤ে^ চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হোক| ৫০টি স্টেশনের বিপরীতে ৩ জন করে মোট ১৫০ জন কর্মচারীর নিয়োগ দান করে দ্রুত প্রশিক্ষণসহ পদায়ন করা যায়| জন¯^ার্থে লোকাল ট্রেন বা কমিউটার ট্রেন চালু করে দেয়া যায়| এতে করে আপাতত রেলের স্থাবর সম্পত্তি ও স্টেশনগুলো বেঁচে যাবে| মৃতপ্রায় ফ্ল্যাটফর্মগুলো তাৎক্ষণিক প্রাণের স্পন্দনে জেগে উঠবে| সরকারের মনোযোগে এমন সমূহ ক্ষতি ও অপচয় থেকে রক্ষা পাবে রেলওয়ে বিভাগ এবং দেশ| বর্তমানে ফাঁকা মাঠে পড়ে থাকা কোটিকোটি টাকার সম্পদ সরাসরি সরকারের তত্ত্বাবধানে ফিরে আসবে| রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে একজন নাগরিকের এরচেয়ে জরুরি আর কী প্রত্যাশা থাকতে পারে?

[লেখক: গল্পকার]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


রেলস্টেশনগুলো চালু হোক

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image


অতিসম্প্রতি একটা জাতীয় ˆদনিকে প্রকাশিত খবরে দেখা গেল, বাংলাদেশ রেলওয়ের কেবল পূর্বাঞ্চলেরই অর্ধশতাধিক রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে| সংবাদটি তাৎক্ষণিকভাবে নজরে পড়ে এবং এর পেছনের যৌক্তিকতা কী তা জানার কৌতূহল জাগ্রত হয়| রেলপথ, রেলস্টেশন, ট্রেন ইত্যাদি নিয়ে প্রকাশিত যেকোনো সংবাদই দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে থাকে| কারণ গত দেড়শ বছরের অধিককালে এ জনপদের মানুষের চলাচলের প্রধান বাহন বলতে হয় নৌকা, না হয় ট্রেনই ছিল প্রধান| বলাবাহুল্য, এ অঞ্চলে ট্রেন এবং রেলস্টেশনের যাত্রা শুরু হয় ১৮৬২ সালের নভে¤^র মাসে| এর আগে জলপথই ছিল এই নিম্নগাঙেয় বদ্বীপের সাধারণ মানুষের নড়াচড়ার একমাত্র অবল¤^ন| বিশ্বব্যাপী গবেষকদের হাতে পরিসংখ্যানের যে ডায়েরি রয়েছে, এতে গণযোগাযোগের নিরাপত্তার প্রশ্নে রেলপথই প্রথম স্থানে আছে| তাকে অতিক্রম করে আর কোনো পরিবহন এখনও যায়নি| আর এ কারণেই বোধহয়, আজকের তথ্য-প্রযুক্তির উচ্চ শিখরে আরোহনকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে আকাশ পথকে টপকে গিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে আধুনিক ট্রেন|

পক্ষান্তরে এশিয়া, আফ্রিকার চিত্র কিছুটা ভিন্ন হলেও ব্যতিক্রম চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এমনকি ভারতও রেলপথে বিপ্লব ঘটিয়েছে| সাধারণ নিম্নআয়ের মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থলের আরেক নাম হয়েছে রেলপথ এবং রেলওয়ে স্টেশন|

২.

বিশ্বায়নের এমন রূপচিত্রে বাংলাদেশের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা| এখানে রেলের বিস্তার বা সম্প্রসারণের পরিবর্তে দিনের পর দিন নানাভাবে সংকুচিত হয়েছে| গত কয়েক দশকে কিছু ভালো ট্রেন, ডাবল লাইন, দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সংযোগকারী ট্রেনলাইন হলেও প্রশাসনিক অবহেলায় বেহাত হয়ে গেছে রেলের বিপুল পরিমাণ সম্পদ এবং স্থাবর জমি| এখানে উল্লেখ করা যায়, ¯^াধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশ রেলওয়ে অধীনে রাস্তা ছিল ২৮৫৮.৪৩ কি.মি., স্টেশন ছিল ৪৪৬টি, জমি ছিল ৬০,৬৩৩ একর| বর্তমানে এবিসি গ্রেডে স্টেশনের সংখ্যা মোট ৪৫৫টি, রেললাইন ২৮৭৭ কি.মি.|

অথচ ১৯৭২ সালে দেশের একই ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতরে জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৫০ লাখ| আর আজকের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি| যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমের সঙ্গে তুলনার বিচারে রেলের অগ্রগতি হয়েছে নিতান্তই সামান্য| বলা হয়, এদেশের রেলপথ সেবা আধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ প্রযুক্তিনির্ভর না হওয়ার পেছনের রহস্যময়তাকে উন্মোচন করা হয়নি বা কখনও করা যায়নি|

৩.

রেলের পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যেই ৫১টি ছোট স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়| এমন সংবাদ কখনও সুখকর হতে পারে না| কর্তৃপক্ষ বলছে লোকবল সংকট প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায়, সেবার গুরুত্ব কমে যাওয়া ইত্যাদি| স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টসম্যানের অভাবজনিত কারণ বলা হয়েছে— যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক| এসব অরক্ষিত, অনিরাপদ স্টেশনগুলোর কথা ভাবতে গেলে হৃদয়ের গহীনে বেদনার উদ্রেক হয়| চোখের কোণে জল আসে| এর স্থাপনাগুলো অন্তত একশতাব্দী ধরে ¯^ ¯^ এলাকার জনগণের সেবায় দাঁড়িয়ে ছিল| এদের গৌরবময় ও জৌলুস ভরা অতীত ছিল| প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচিহ্নে সরব জীবন্ত ছিল, ত্রস্ত-ব্যস্ত ছিল মাস্টার, কুলি-মজুর আর মাটিসংলগ্ন কোলাহল মুখর প্ল্যাটফর্মগুলো| আজ হয়তো জনশূন্য বিরানভূমি, যাত্রী মানুষের বদলে ভবনের চারপাশটা দখলে নিয়েছে মাদকাসক্ত তরুণের দল, স্থানীয় মস্তান, অসাধু ব্যবসায়ী, ভূমিখেকো সন্ত্রাসী এবং কিছু বেওয়ারিশ কুকুর| হয়তো এটাই বাস্তবতা| এটা কী ভাবা যায়!


৪.

খবরটা পড়ে ভীষণ শঙ্কিত হয়েছি নিজেও| রেলস্টেশনের কাছাকাছি এক পাড়াগাঁয়ে জন্মেছি বলে| সারাদিন ট্রেনের হুঁইসেল শুনে শুনে ˆশশব, ˆকশোর, যৌবন পেরিয়ে এখন বার্ধক্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছি| দেখলাম, বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশনের তালিকায় ˆভরববাজার জং টু গৌরীপুর জং এর মধ্যবর্তী একাধিক স্টেশন রয়েছে| ˆভরবের সন্নিকটে কালিকাপ্রসাদসহ রয়েছে বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অনন্য সৃষ্টি ও বহুল আলোচিত সেই নীলগঞ্জ ও সোহাগী| ভাবছিলাম, একই অজুহাতে নিজের আজন্ম লালিত নস্টালজিক রেলস্টেশন মানিকখালীও একদিন বন্ধ হয়ে যাবে কী? এমন দুঃ¯^প্নের কথা কে ভাবতে পারে? একই ভাবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অবধি অসংখ্য পরিচিত স্টেশনের নাম রয়েছে| কুমিল্লা, লাকসাম, চাঁদপুর বরাবর লাইনে রয়েছে একাধিক ঐতিহ্যবাহী রেলস্টেশনের নাম| রেলস্টেশন বন্ধ হয়ে যাক এটা কারও কাম্য হতে পারে না| 

জনবল সংকট দ্রুত নিয়োগের মধ্য দিয়ে এর অবসান ঘটানো যেতে পারে| দেশে প্রায় অর্ধকোটি তরুণ-তরুণী বেকারত্বকে বরণ করে স্রেফ মোটরবাইকের ওপর বেঁচে আছে| প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী যুবক, ছাত্রছাত্রী কেবল কর্মসংস্থান আর নিরাপত্তার নামে ¯^দেশ ও মাতৃভূমিকে ত্যাগ করে পাড়ি জমাচ্ছে পৃথিবীর দেশে দেশে| যারা যাচ্ছে তো যাচ্ছেই, ফিরে আসছে খুবই কম| পত্রিকায় বা সামাজিক মাধ্যমে এমন দুঃখজনক প্রতিবেদন হরহামেশাই চোখে পড়ছে| সরকার যায় সরকার আসে| হঠাৎ করে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে উল্লসিত হয়ে ওঠে লক্ষকোটি মানুষের মনপ্রাণ| কিন্তু কেউ ঠেকাতে পারছে না মেধার পতন, ব্রেনড্রেন আর প্রজন্মের হতাশা| অথচ সরকারের খাতায় হিসাব আছে, শুধু রাজ¯^ খাতেই হাজার হাজার পদ শূন্য হয়ে পড়ে আছে বছরের পর বছর ধরে| কে রাখে কার খবর?

৫.

সরকারের কাছে চাওয়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া সব রেলস্টেশন অনতিবিল¤ে^ চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হোক| ৫০টি স্টেশনের বিপরীতে ৩ জন করে মোট ১৫০ জন কর্মচারীর নিয়োগ দান করে দ্রুত প্রশিক্ষণসহ পদায়ন করা যায়| জন¯^ার্থে লোকাল ট্রেন বা কমিউটার ট্রেন চালু করে দেয়া যায়| এতে করে আপাতত রেলের স্থাবর সম্পত্তি ও স্টেশনগুলো বেঁচে যাবে| মৃতপ্রায় ফ্ল্যাটফর্মগুলো তাৎক্ষণিক প্রাণের স্পন্দনে জেগে উঠবে| সরকারের মনোযোগে এমন সমূহ ক্ষতি ও অপচয় থেকে রক্ষা পাবে রেলওয়ে বিভাগ এবং দেশ| বর্তমানে ফাঁকা মাঠে পড়ে থাকা কোটিকোটি টাকার সম্পদ সরাসরি সরকারের তত্ত্বাবধানে ফিরে আসবে| রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে একজন নাগরিকের এরচেয়ে জরুরি আর কী প্রত্যাশা থাকতে পারে?

[লেখক: গল্পকার]


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত