সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

পাহাড় কাটা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন


প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

পাহাড় কাটা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কক্সবাজারে পাহাড় কাটার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে— স্থানীয় পরিবেশবাদীরা করেছেন এই অভিযোগ| পাহাড় কাটার প্রশ্নে হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে| আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাহাড় কাটা হচ্ছে| রামু, পেকুয়া, উখিয়া ও সদর উপজেলায় রাতের অন্ধকারে এক্সক্যাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা হয়| কাটা মাটি যাচ্ছে ইটভাটা ও নির্মাণ প্রকল্পে| এ নিয়ে সংবাদে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে| 

অভিযোগ রয়েছে, ঈদের ছুটিতে রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে প্রায় ২০০ ফুট উঁচু ও ১০ একর আয়তনের একটি পাহাড় সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়েছে| একই এলাকায় আরও কয়েকটি পাহাড় কাটা হয়েছে| পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে কিছু যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে| মামলাও হয়েছে| তবে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না| 

আইন অনুসারে, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেও পাহাড় কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ| আইন অমান্য করার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে| কিন্তু বাস্তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না| অনেক ক্ষেত্রে ‘মালিকানাধীন জমি’ দেখিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে| প্রশাসনের সমš^য়হীনতা ও নজরদারির অভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে| 

পাহাড় কাটার ফলে স্থানীয় ভূপ্রকৃতি নষ্ট হচ্ছে| এতে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে, ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে| বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও কৃষিজমির ক্ষতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন| বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে কক্সবাজারের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে| 

আমরা বলতে চাই, পাহাড় রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে| এ বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে| পাহাড় কাটা বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে| দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি| পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়বে| 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


পাহাড় কাটা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কক্সবাজারে পাহাড় কাটার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে— স্থানীয় পরিবেশবাদীরা করেছেন এই অভিযোগ| পাহাড় কাটার প্রশ্নে হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে| আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাহাড় কাটা হচ্ছে| রামু, পেকুয়া, উখিয়া ও সদর উপজেলায় রাতের অন্ধকারে এক্সক্যাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা হয়| কাটা মাটি যাচ্ছে ইটভাটা ও নির্মাণ প্রকল্পে| এ নিয়ে সংবাদে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে| 

অভিযোগ রয়েছে, ঈদের ছুটিতে রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে প্রায় ২০০ ফুট উঁচু ও ১০ একর আয়তনের একটি পাহাড় সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়েছে| একই এলাকায় আরও কয়েকটি পাহাড় কাটা হয়েছে| পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে কিছু যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে| মামলাও হয়েছে| তবে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না| 

আইন অনুসারে, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেও পাহাড় কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ| আইন অমান্য করার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে| কিন্তু বাস্তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না| অনেক ক্ষেত্রে ‘মালিকানাধীন জমি’ দেখিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে| প্রশাসনের সমš^য়হীনতা ও নজরদারির অভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে| 

পাহাড় কাটার ফলে স্থানীয় ভূপ্রকৃতি নষ্ট হচ্ছে| এতে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে, ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে| বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও কৃষিজমির ক্ষতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন| বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে কক্সবাজারের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে| 

আমরা বলতে চাই, পাহাড় রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে| এ বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে| পাহাড় কাটা বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে| দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি| পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়বে| 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত