সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

নিরাপদ খাদ্য, সুস্থ ভবিষ্যৎ


শহীদুল ইসলাম
শহীদুল ইসলাম
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

নিরাপদ খাদ্য, সুস্থ ভবিষ্যৎ
খাদ্য নিরাপত্তা একটি দেশের জন্য স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভোক্তার আস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি

খাদ্য নিরাপত্তা একটি দেশের জন্য স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভোক্তার আস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি| খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে খাদ্যদূষণ ও খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়| আধুনিক বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ‘খামার থেকে খাবার টেবিল’ পদ্ধতিতে বিবেচনা করা হয়, যেখানে পুরো খাদ্য শৃঙ্খলকে একসঙ্গে নজরদারির আওতায় আনা হয়| খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি (হাইজিন) এবং জন্য স্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে— স্বাস্থ্যবিধির অভাব খাদ্যদূষণ ঘটায় এবং রোগের বিস্তার ঘটায়, আর সঠিক স্বাস্থ্যবিধি জন¯^াস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখে|

ইউরোপীয় ইউনিয়নে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশ্বে সবচেয়ে উন্নত ও ˆবজ্ঞানিকভাবে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত| সেখানে জেনারেল ফুড ল’ এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে বাজারে আসা প্রতিটি খাদ্য মানুষের জন্য নিরাপদ হতে হবে| ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটি ¯^াধীনভাবে ˆবজ্ঞানিক গবেষণা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে, যার ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণ করা হয়| পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যালার্ট সিস্টেম ফর ফুড অ্যান্ড ফিড দ্রুত খাদ্যঝুঁকি শনাক্ত করে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেয়| ফলে ইউরোপে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় সমšি^ত, ¯^চ্ছ এবং ˆবজ্ঞানিক উপায়ে, যা জনগণের মধ্যে উচ্চ আস্থা ˆতরি করেছে|

যুক্তরাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত| ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি এই ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়| যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ˆবশিষ্ট্য হলো ফুড হাইজিন রেটিং সিস্টেম (এফএইচআরএস), যা সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য প্রতিষ্ঠানের ¯^াস্থ্যবিধির মান সহজভাবে তুলে ধরে| এই ব্যবস্থায় রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, হোটেল ও অন্যান্য খাদ্য ব্যবসাকে ০ থেকে ৫ পর্যন্ত স্কোর দেয়া হয়—৫ মানে অত্যন্ত ভালো এবং ০ মানে গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ| এই রেটিং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশপথে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক (বিশেষত ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে) এবং অনলাইনে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে| ফলে ভোক্তারা সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কোথায় নিরাপদ খাবার পাওয়া যাবে, এবং ব্যবসায়ীরাও ভালো রেটিং পেতে ¯^াস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য হয়|

খাদ্য নিরাপত্তা যুক্তরাজ্যে খাতভিত্তিকভাবে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়| উৎপাদন শিল্পে এইচএসিসি পদ্ধতি বাধ্যতামূলক, যা খাদ্যের ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে| ক্যাটারিং খাতে—যেমন রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে—কর্মীদের প্রশিক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঠিক রান্না ও সংরক্ষণ তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| খুচরা বিক্রয় খাতে খাদ্যের লেবেলিং, অ্যালার্জেন তথ্য প্রদান এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়| এই সমšি^ত ব্যবস্থার ফলে খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি কম এবং জনগণের মধ্যে খাদ্যের প্রতি আস্থা বেশি|

অন্যদিকে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো উন্নয়নশীল পর্যায়ে রয়েছে| ২০১৩ সালের খাদ্য নিরাপত্তা আইন এবং বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও বাস্তবায়নে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে| পরিদর্শন ও আইন প্রয়োগের সক্ষমতা এখনও দুর্বল, আধুনিক পরীক্ষাগারের সংখ্যা কম, এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমš^য়ের অভাব রয়েছে| দেশের বড় একটি অংশে অনানুষ্ঠানিক খাদ্য ব্যবসা পরিচালিত হওয়ায় নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ে| খাদ্যে ভেজাল—যেমন ক্ষতিকর রাসায়নিক, কৃত্রিম রং ও সংরক্ষণকারী পদার্থের ব্যবহার—একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে|

এই পার্থক্যের প্রভাব সরাসরি জন¯^াস্থ্যে প্রতিফলিত হয়| ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে খাদ্যবাহিত রোগের হার তুলনামূলক কম এবং জনগণের মধ্যে খাদ্যের প্রতি আস্থা বেশি| কিন্তু বাংলাদেশে খাদ্যদূষণের কারণে ডায়রিয়া, খাদ্যবিষক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি ¯^াস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ¯^াস্থ্যখাত ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে|

বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য একটি সমšি^ত উদ্যোগ প্রয়োজন| প্রথমত, বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমš^য় বাড়াতে হবে| দ্বিতীয়ত, আইন প্রয়োগ জোরদার করতে হবে—নিয়মিত পরিদর্শন, কঠোর শাস্তি এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে| তৃতীয়ত, আধুনিক পরীক্ষাগার ও কোল্ড চেইন অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি| আন্তর্জাতিক মান যেমন এইচএসিসিপি ও কোডেক্স অ্যালিমেনটেরিয়াস অনুসরণ করলে খাদ্যের মান বৃদ্ধি পাবে এবং রপ্তানির সুযোগও বাড়বে|

খাতভিত্তিক উন্নয়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| খাদ্য উৎপাদন শিল্পে মাননিয়ন্ত্রণ ও ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করতে হবে| রেস্টুরেন্ট ও ক্যাটারিং খাতে যুক্তরাজ্যের মতো ফুড হাইজিন রেটিং সিস্টেম চালু করা যেতে পারে, যেখানে প্রতিটি খাদ্য প্রতিষ্ঠানের মান জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে| এতে ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত হবে| খুচরা বাজারে সঠিক লেবেলিং, সংরক্ষণ এবং বিশেষ করে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের নিয়মের আওতায় আনতে হবে| একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার মাধ্যমে ভোক্তাদের সচেতন করা জরুরি|

সবশেষে বলা যায়, খাদ্য নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার| যুক্তরাজ্যের ফুড হাইজিন রেটিং সিস্টেমের মতো ¯^চ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ দেখিয়ে দেয় যে সঠিক নীতি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব| বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যাত্রা শুরু করেছে, এখন প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন, সচেতনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা| নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সুস্থ ও নিরাপদ জাতি গড়ে তুলতে|

[লেখক: যুক্তরাজ্যের স্যালুটিভিয়া নামক একটি খাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিতে ইনোভেশন ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


নিরাপদ খাদ্য, সুস্থ ভবিষ্যৎ

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

খাদ্য নিরাপত্তা একটি দেশের জন্য স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভোক্তার আস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি| খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে খাদ্যদূষণ ও খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়| আধুনিক বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ‘খামার থেকে খাবার টেবিল’ পদ্ধতিতে বিবেচনা করা হয়, যেখানে পুরো খাদ্য শৃঙ্খলকে একসঙ্গে নজরদারির আওতায় আনা হয়| খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি (হাইজিন) এবং জন্য স্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে— স্বাস্থ্যবিধির অভাব খাদ্যদূষণ ঘটায় এবং রোগের বিস্তার ঘটায়, আর সঠিক স্বাস্থ্যবিধি জন¯^াস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখে|

ইউরোপীয় ইউনিয়নে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশ্বে সবচেয়ে উন্নত ও ˆবজ্ঞানিকভাবে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত| সেখানে জেনারেল ফুড ল’ এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে বাজারে আসা প্রতিটি খাদ্য মানুষের জন্য নিরাপদ হতে হবে| ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটি ¯^াধীনভাবে ˆবজ্ঞানিক গবেষণা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে, যার ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণ করা হয়| পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যালার্ট সিস্টেম ফর ফুড অ্যান্ড ফিড দ্রুত খাদ্যঝুঁকি শনাক্ত করে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেয়| ফলে ইউরোপে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় সমšি^ত, ¯^চ্ছ এবং ˆবজ্ঞানিক উপায়ে, যা জনগণের মধ্যে উচ্চ আস্থা ˆতরি করেছে|

যুক্তরাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত| ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি এই ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়| যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ˆবশিষ্ট্য হলো ফুড হাইজিন রেটিং সিস্টেম (এফএইচআরএস), যা সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য প্রতিষ্ঠানের ¯^াস্থ্যবিধির মান সহজভাবে তুলে ধরে| এই ব্যবস্থায় রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, হোটেল ও অন্যান্য খাদ্য ব্যবসাকে ০ থেকে ৫ পর্যন্ত স্কোর দেয়া হয়—৫ মানে অত্যন্ত ভালো এবং ০ মানে গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ| এই রেটিং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশপথে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক (বিশেষত ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে) এবং অনলাইনে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে| ফলে ভোক্তারা সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কোথায় নিরাপদ খাবার পাওয়া যাবে, এবং ব্যবসায়ীরাও ভালো রেটিং পেতে ¯^াস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য হয়|

খাদ্য নিরাপত্তা যুক্তরাজ্যে খাতভিত্তিকভাবে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়| উৎপাদন শিল্পে এইচএসিসি পদ্ধতি বাধ্যতামূলক, যা খাদ্যের ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে| ক্যাটারিং খাতে—যেমন রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে—কর্মীদের প্রশিক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঠিক রান্না ও সংরক্ষণ তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| খুচরা বিক্রয় খাতে খাদ্যের লেবেলিং, অ্যালার্জেন তথ্য প্রদান এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়| এই সমšি^ত ব্যবস্থার ফলে খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি কম এবং জনগণের মধ্যে খাদ্যের প্রতি আস্থা বেশি|

অন্যদিকে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো উন্নয়নশীল পর্যায়ে রয়েছে| ২০১৩ সালের খাদ্য নিরাপত্তা আইন এবং বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও বাস্তবায়নে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে| পরিদর্শন ও আইন প্রয়োগের সক্ষমতা এখনও দুর্বল, আধুনিক পরীক্ষাগারের সংখ্যা কম, এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমš^য়ের অভাব রয়েছে| দেশের বড় একটি অংশে অনানুষ্ঠানিক খাদ্য ব্যবসা পরিচালিত হওয়ায় নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ে| খাদ্যে ভেজাল—যেমন ক্ষতিকর রাসায়নিক, কৃত্রিম রং ও সংরক্ষণকারী পদার্থের ব্যবহার—একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে|

এই পার্থক্যের প্রভাব সরাসরি জন¯^াস্থ্যে প্রতিফলিত হয়| ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে খাদ্যবাহিত রোগের হার তুলনামূলক কম এবং জনগণের মধ্যে খাদ্যের প্রতি আস্থা বেশি| কিন্তু বাংলাদেশে খাদ্যদূষণের কারণে ডায়রিয়া, খাদ্যবিষক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি ¯^াস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ¯^াস্থ্যখাত ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে|

বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য একটি সমšি^ত উদ্যোগ প্রয়োজন| প্রথমত, বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমš^য় বাড়াতে হবে| দ্বিতীয়ত, আইন প্রয়োগ জোরদার করতে হবে—নিয়মিত পরিদর্শন, কঠোর শাস্তি এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে| তৃতীয়ত, আধুনিক পরীক্ষাগার ও কোল্ড চেইন অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি| আন্তর্জাতিক মান যেমন এইচএসিসিপি ও কোডেক্স অ্যালিমেনটেরিয়াস অনুসরণ করলে খাদ্যের মান বৃদ্ধি পাবে এবং রপ্তানির সুযোগও বাড়বে|

খাতভিত্তিক উন্নয়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| খাদ্য উৎপাদন শিল্পে মাননিয়ন্ত্রণ ও ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করতে হবে| রেস্টুরেন্ট ও ক্যাটারিং খাতে যুক্তরাজ্যের মতো ফুড হাইজিন রেটিং সিস্টেম চালু করা যেতে পারে, যেখানে প্রতিটি খাদ্য প্রতিষ্ঠানের মান জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে| এতে ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত হবে| খুচরা বাজারে সঠিক লেবেলিং, সংরক্ষণ এবং বিশেষ করে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের নিয়মের আওতায় আনতে হবে| একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার মাধ্যমে ভোক্তাদের সচেতন করা জরুরি|

সবশেষে বলা যায়, খাদ্য নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার| যুক্তরাজ্যের ফুড হাইজিন রেটিং সিস্টেমের মতো ¯^চ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ দেখিয়ে দেয় যে সঠিক নীতি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব| বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যাত্রা শুরু করেছে, এখন প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন, সচেতনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা| নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সুস্থ ও নিরাপদ জাতি গড়ে তুলতে|

[লেখক: যুক্তরাজ্যের স্যালুটিভিয়া নামক একটি খাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিতে ইনোভেশন ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন]


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত