সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

অনিয়ন্ত্রিত অটো: সমন্বিত নীতি জরুরি


মীর আব্দুল আলীম
মীর আব্দুল আলীম
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

অনিয়ন্ত্রিত অটো: সমন্বিত নীতি জরুরি
সড়কে অটোর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এখন বহুমাত্রিক সংকটে রূপ নিয়েছে

রাজধানী ঢাকা একসময় প্রাণচঞ্চল নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল| আজ তা ধীরে ধীরে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের জটে আটকে পড়া শহরে পরিণত হচ্ছে| বিশেষ করে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অপ্রতিরোধ্য বিস্তার নগরের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে| এটি শুধু যানজটের সমস্যা নয়; এর প্রভাব অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সামাজিক কাঠামোর গভীরে ছড়িয়ে পড়ছে| এই বাস্তবতায় অটো নিয়ন্ত্রণ এখন আর বিলাসিতা নয়, অপরিহার্য জাতীয় দাবি| 

ঢাকার সড়কগুলো মূলত পরিকল্পিত হয়েছে মোটরযান চলাচলের জন্য| নির্দিষ্ট গতিতে যানবাহন চলবে—এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এই কাঠামো গড়ে উঠেছে| কিন্তু বাস্তবে রিকশা ও অটোর দখলদারিত্ব সেই কাঠামোকে ভেঙে দিচ্ছে| ধীরগতির যানবাহন প্রধান সড়কে চলাচল করায় বাস, কার ও অ্যাম্বুলেন্স আটকে যাচ্ছে| জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে| এর ফলে মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে| অফিসগামী মানুষ সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না, শিক্ষার্থীরা ক্লাস মিস করছে, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছে| দীর্ঘস্থায়ী যানজট দেশের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে| 

ব্যাটারিচালিত অটোর বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের ওপর চাপও বাড়ছে| প্রতিটি অটো প্রতিদিন চার্জ নিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, যা সম্মিলিতভাবে জাতীয় গ্রিডে বড় চাপ ˆতরি করছে| এই অতিরিক্ত চাহিদা পরিকল্পিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে| গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে এর প্রভাব আরও তীব্র| অর্থাৎ, একটি অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থা পুরো দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে| 

যানজট সময়ের অপচয় ঘটানোর পাশাপাশি জ্বালানির অপচয়ও বাড়ায়| ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন ধীরগতিতে চলায় পেট্রল ও ডিজেল অকারণে পুড়ে| এতে ˆবদেশিক মুদ্রা ব্যয় বাড়ে, কারণ জ্বালানির বড় অংশ আমদানিনির্ভর| একই সঙ্গে বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে| ক্ষতিকর গ্যাসের নিঃসরণ নগরের বায়ুকে বিষাক্ত করে তুলছে, বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও অন্যান্য রোগ| ফলে এটি অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশগত সংকটও ˆতরি করছে| 

একসময় ঢাকার মানুষ ¯^ল্প দূরত্ব হাঁটতে অভ্যস্ত ছিল| এখন অটোর সহজলভ্যতা সেই অভ্যাস কমিয়ে দিয়েছে| এক কিলোমিটার পথও অনেকের কাছে হাঁটার অযোগ্য মনে হয়| এতে মানুষ শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে| শিশু-কিশোরদের মধ্যেও এই প্রবণতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক| এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যে| ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের মতো রোগ বাড়ছে| এই প্রবণতা জাতীয় স্বাস্থ্যখাতেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে| অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের সংখ্যা বাড়াও একটি বড় ঝুঁকি| পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্সিং ব্যবস্থা না থাকায় অনেক অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তি এই পেশায় যুক্ত হচ্ছে| এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও অটো চালাতে দেখা যায়| ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সীমিত জ্ঞানের কারণে তারা নিয়ম ভাঙে| হঠাৎ দিক পরিবর্তন, সিগন্যাল অমান্য করা এখন নিত্যদিনের ঘটনা| এতে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে| নিয়ন্ত্রণহীন অটো এখন সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ| হঠাৎ মোড় নেয়া বা উল্টো পথে চলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে| এতে প্রাণহানি যেমন হচ্ছে, তেমনি অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হচ্ছেন| এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও গভীর| তবুও এই খাতের সঠিক পরিসংখ্যান নেই| কতসংখ্যক অটো চলাচল করছে—তার নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব নীতিনির্ধারণকে দুর্বল করছে| 

অটো সহজ আয়ের উৎস হওয়ায় গ্রাম থেকে শহরে মানুষের আগমন বাড়ছে| কৃষিতে অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থানের সংকট মানুষকে শহরমুখী করছে| ফলে নগরে চাপ বাড়ছে—আবাসন সংকট, বস্তির বিস্তার, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা তীব্র হচ্ছে| একই সঙ্গে গ্রাম হারাচ্ছে কর্মক্ষম জনশক্তি| কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে বা কম উৎপাদন হচ্ছে| শহরের বিস্তারে উর্বর জমিও কমে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে| 

ঢাকার পরিবহন পরিকল্পনা ছিল সমšি^ত ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে| কিন্তু অটোর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার সেই পরিকল্পনাকে ব্যাহত করেছে| বড় যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গণপরিবহন কার্যকারিতা হারাচ্ছে| ফলে মানুষ ছোট যানবাহনের ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা একটি দুষ্টচক্র ˆতরি করছে| এতে মেট্রোরেল বা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের মতো প্রকল্পের সম্ভাবনাও সীমিত হয়ে পড়ছে| এই সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় নীতি প্রয়োজন| অটোর নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং বাধ্যতামূলক করতে হবে| একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ ˆতরি করে যানবাহনের সংখ্যা ও চলাচলের তথ্য সংরক্ষণ জরুরি| নির্দিষ্ট রুট ও জোন নির্ধারণ করে প্রধান সড়কে অটোর প্রবেশ সীমিত করতে হবে| পাশাপাশি গণপরিবহনকে আধুনিক ও সহজলভ্য করতে হবে, যাতে মানুষ বিকল্প পায়| অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি| একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে| 

ঢাকার সড়কে অটোর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এখন বহুমাত্রিক সংকটে রূপ নিয়েছে| এটি শুধু যানজট নয়, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে| সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সমস্যা আরও জটিল হবে| একটি পরিকল্পিত, টেকসই ও কার্যকর নগর গড়তে হলে অটো নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই| এখন প্রয়োজন সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন| 

[লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতি]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


অনিয়ন্ত্রিত অটো: সমন্বিত নীতি জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানী ঢাকা একসময় প্রাণচঞ্চল নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল| আজ তা ধীরে ধীরে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের জটে আটকে পড়া শহরে পরিণত হচ্ছে| বিশেষ করে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অপ্রতিরোধ্য বিস্তার নগরের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে| এটি শুধু যানজটের সমস্যা নয়; এর প্রভাব অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সামাজিক কাঠামোর গভীরে ছড়িয়ে পড়ছে| এই বাস্তবতায় অটো নিয়ন্ত্রণ এখন আর বিলাসিতা নয়, অপরিহার্য জাতীয় দাবি| 

ঢাকার সড়কগুলো মূলত পরিকল্পিত হয়েছে মোটরযান চলাচলের জন্য| নির্দিষ্ট গতিতে যানবাহন চলবে—এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এই কাঠামো গড়ে উঠেছে| কিন্তু বাস্তবে রিকশা ও অটোর দখলদারিত্ব সেই কাঠামোকে ভেঙে দিচ্ছে| ধীরগতির যানবাহন প্রধান সড়কে চলাচল করায় বাস, কার ও অ্যাম্বুলেন্স আটকে যাচ্ছে| জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে| এর ফলে মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে| অফিসগামী মানুষ সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না, শিক্ষার্থীরা ক্লাস মিস করছে, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছে| দীর্ঘস্থায়ী যানজট দেশের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে| 

ব্যাটারিচালিত অটোর বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের ওপর চাপও বাড়ছে| প্রতিটি অটো প্রতিদিন চার্জ নিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, যা সম্মিলিতভাবে জাতীয় গ্রিডে বড় চাপ ˆতরি করছে| এই অতিরিক্ত চাহিদা পরিকল্পিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে| গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে এর প্রভাব আরও তীব্র| অর্থাৎ, একটি অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থা পুরো দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে| 

যানজট সময়ের অপচয় ঘটানোর পাশাপাশি জ্বালানির অপচয়ও বাড়ায়| ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন ধীরগতিতে চলায় পেট্রল ও ডিজেল অকারণে পুড়ে| এতে ˆবদেশিক মুদ্রা ব্যয় বাড়ে, কারণ জ্বালানির বড় অংশ আমদানিনির্ভর| একই সঙ্গে বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে| ক্ষতিকর গ্যাসের নিঃসরণ নগরের বায়ুকে বিষাক্ত করে তুলছে, বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও অন্যান্য রোগ| ফলে এটি অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশগত সংকটও ˆতরি করছে| 

একসময় ঢাকার মানুষ ¯^ল্প দূরত্ব হাঁটতে অভ্যস্ত ছিল| এখন অটোর সহজলভ্যতা সেই অভ্যাস কমিয়ে দিয়েছে| এক কিলোমিটার পথও অনেকের কাছে হাঁটার অযোগ্য মনে হয়| এতে মানুষ শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে| শিশু-কিশোরদের মধ্যেও এই প্রবণতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক| এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যে| ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের মতো রোগ বাড়ছে| এই প্রবণতা জাতীয় স্বাস্থ্যখাতেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে| অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের সংখ্যা বাড়াও একটি বড় ঝুঁকি| পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্সিং ব্যবস্থা না থাকায় অনেক অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তি এই পেশায় যুক্ত হচ্ছে| এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও অটো চালাতে দেখা যায়| ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সীমিত জ্ঞানের কারণে তারা নিয়ম ভাঙে| হঠাৎ দিক পরিবর্তন, সিগন্যাল অমান্য করা এখন নিত্যদিনের ঘটনা| এতে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে| নিয়ন্ত্রণহীন অটো এখন সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ| হঠাৎ মোড় নেয়া বা উল্টো পথে চলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে| এতে প্রাণহানি যেমন হচ্ছে, তেমনি অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হচ্ছেন| এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও গভীর| তবুও এই খাতের সঠিক পরিসংখ্যান নেই| কতসংখ্যক অটো চলাচল করছে—তার নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব নীতিনির্ধারণকে দুর্বল করছে| 

অটো সহজ আয়ের উৎস হওয়ায় গ্রাম থেকে শহরে মানুষের আগমন বাড়ছে| কৃষিতে অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থানের সংকট মানুষকে শহরমুখী করছে| ফলে নগরে চাপ বাড়ছে—আবাসন সংকট, বস্তির বিস্তার, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা তীব্র হচ্ছে| একই সঙ্গে গ্রাম হারাচ্ছে কর্মক্ষম জনশক্তি| কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে বা কম উৎপাদন হচ্ছে| শহরের বিস্তারে উর্বর জমিও কমে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে| 

ঢাকার পরিবহন পরিকল্পনা ছিল সমšি^ত ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে| কিন্তু অটোর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার সেই পরিকল্পনাকে ব্যাহত করেছে| বড় যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গণপরিবহন কার্যকারিতা হারাচ্ছে| ফলে মানুষ ছোট যানবাহনের ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা একটি দুষ্টচক্র ˆতরি করছে| এতে মেট্রোরেল বা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের মতো প্রকল্পের সম্ভাবনাও সীমিত হয়ে পড়ছে| এই সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় নীতি প্রয়োজন| অটোর নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং বাধ্যতামূলক করতে হবে| একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ ˆতরি করে যানবাহনের সংখ্যা ও চলাচলের তথ্য সংরক্ষণ জরুরি| নির্দিষ্ট রুট ও জোন নির্ধারণ করে প্রধান সড়কে অটোর প্রবেশ সীমিত করতে হবে| পাশাপাশি গণপরিবহনকে আধুনিক ও সহজলভ্য করতে হবে, যাতে মানুষ বিকল্প পায়| অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি| একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে| 

ঢাকার সড়কে অটোর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এখন বহুমাত্রিক সংকটে রূপ নিয়েছে| এটি শুধু যানজট নয়, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে| সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সমস্যা আরও জটিল হবে| একটি পরিকল্পিত, টেকসই ও কার্যকর নগর গড়তে হলে অটো নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই| এখন প্রয়োজন সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন| 

[লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতি]



সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত