সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মার্চে সড়কে ৫৩২ প্রাণহানি: ৩৮ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়


প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

মার্চে সড়কে ৫৩২ প্রাণহানি: ৩৮ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার মিছিল থামছেই না। বিদায়ী মার্চ মাসে সারাদেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত এবং হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৯৮ জন শিশু রয়েছে। আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, মোট নিহতের ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশই প্রাণ হারিয়েছেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে ২১৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় জন মোটরসাইকেল আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারী নিহত হয়েছেন ৭৯ জন এবং যানবাহনের চালক সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৬ জন।

সড়কপথের পাশাপাশি রেল নৌ-পথেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মার্চ মাসে ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং জন নিখোঁজ রয়েছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে (৪৫.৮৩ শতাংশ) এছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ২৯.৬৮ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১২.১৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০ শতাংশের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে কেবল যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। এছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২৯ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা প্রাণহানি ঘটেছে। এই বিভাগে ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকাতেই ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ৬৯ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে (২৭টি)

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে প্রাণহানি বেড়েছে প্রায় ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে:

  • ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন বেপরোয়া গতি।
  • চালকের অদক্ষতা শারীরিক-মানসিক ক্লান্তি।
  • মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল।
  • তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে মোটরসাইকেল চালানো।
  • ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা আইন না মানার প্রবণতা।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়ে দেখা যায়, ৭৯ জন শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই তালিকায় রয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য।

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


মার্চে সড়কে ৫৩২ প্রাণহানি: ৩৮ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার মিছিল থামছেই না। বিদায়ী মার্চ মাসে সারাদেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত এবং হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৯৮ জন শিশু রয়েছে। আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, মোট নিহতের ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশই প্রাণ হারিয়েছেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে ২১৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় জন মোটরসাইকেল আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারী নিহত হয়েছেন ৭৯ জন এবং যানবাহনের চালক সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৬ জন।

সড়কপথের পাশাপাশি রেল নৌ-পথেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মার্চ মাসে ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং জন নিখোঁজ রয়েছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে (৪৫.৮৩ শতাংশ) এছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ২৯.৬৮ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১২.১৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০ শতাংশের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে কেবল যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। এছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২৯ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা প্রাণহানি ঘটেছে। এই বিভাগে ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকাতেই ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ৬৯ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে (২৭টি)

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে প্রাণহানি বেড়েছে প্রায় ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে:

  • ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন বেপরোয়া গতি।
  • চালকের অদক্ষতা শারীরিক-মানসিক ক্লান্তি।
  • মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল।
  • তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে মোটরসাইকেল চালানো।
  • ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা আইন না মানার প্রবণতা।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়ে দেখা যায়, ৭৯ জন শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই তালিকায় রয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য।

 

 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত