কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি ‘আস্তানায়’ হামলা চালিয়ে শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) নামে এক কথিত ‘পীরকে’ পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলায় শামীম রেজার কয়েকজন অনুসারীও আহত হয়েছেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে শামীম রেজা স্নাতক শেষ করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি এলাকায় একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং বিতর্কিত ধর্মীয় মতবাদ প্রচার শুরু করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শামীম রেজা নিজেকে কখনো ‘আল্লাহ’, কখনো ‘নবী’ বা ‘ভগবান’ দাবি করতেন। এ ছাড়া তিনি নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতসহ ইসলামের মৌলিক বিধানগুলো অস্বীকার করে আসছিলেন। অনুসারীদের হজের জন্য মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় আস্তানার দরবারে যাওয়ার নির্দেশ দিতেন তিনি।
স্থানীয়রা আরও জানান, শামীম রেজার অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী রীতির তোয়াক্কা না করে ঢাকঢোল বাজানো এবং ‘হরে শামীম’ ধ্বনি দেওয়ার মতো বিতর্কিত আচার পালন করা হতো। এসব কর্মকাণ্ড এবং পবিত্র কুরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ক্ষোভ ছিল।
শনিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই উত্তেজিত জনতা আস্তানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় শামীম রেজাকে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে জখম করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দৌলতপুর থানার পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে শামীম রেজাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও একই কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন