জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছে। জনগণের অধিকার আদায়ে এক চুলও ছাড় নয়। সংসদের ভেতরে ও বাইরে জোরালো প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী সহিংসতায় আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাইয়ে এত রক্ত দেওয়ার পরও রাজনীতিতে কেন এই সহিংসতা? মানুষ খুন করে যারা সংসদে যায়, তাদের কাছ থেকে জাতি কী আশা করতে পারে? সংসদে জনগণের করের টাকা খরচ করে অশ্লীল বাক্যবিনিময় কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
গত ৯ এপ্রিল শেরপুর ও বগুড়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম নতুন সরকারে কেউ সরকারি দল আর কেউ বিরোধী দলে বসে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু এই দুটি নির্বাচনেও ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও ভয়াবহ সন্ত্রাস হয়েছে।’
শেরপুরের সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘শেরপুর-৩ আসনে এর আগেও নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম খুন হওয়ার কারণে। এবারও একজন বয়স্ক মানুষকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। যারা মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা করতে পারে না, তারা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা রাখে না।’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী এবং অব্যবস্থাপনার চিত্রই বলে দেয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সরকার কতটা উদাসীন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘সংসদের প্রতি মুহূর্তে প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচ হয়। এটি জনগণের টাকা। সেখানে বসে আমরা অশ্লীল বাক্য বিনিময় করব বা জনকল্যাণে বাধা দেব, তা হতে পারে না। আমরা চাই অস্ত্রের লড়াই নয়, আদর্শের লড়াই হোক।’
ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি হওয়া উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য মু. কামরুল হাসান মিলন, জেলা জামায়াতের আমির আবদুল করিম এবং মহানগর আমির কামরুল এহসান এমরুলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন