সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সিলেটে ‘কৃষকের হাট’: সরাসরি সংযোগে বাজার 'সিন্ডিকেট ভাঙার নতুন দিগন্ত'


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

সিলেটে ‘কৃষকের হাট’: সরাসরি সংযোগে বাজার 'সিন্ডিকেট ভাঙার নতুন দিগন্ত'
ছবি : সংবাদ

মধ্যস্বত্বভোগীদের দীর্ঘদিনের দৌরাত্ম্য আটকা‌তে এবং সাধারণ ভোক্তার থলিতে সাশ্রয়ী দামে সতেজ সবজি পৌঁছে দিতে শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেট নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বিশেষ ‘কৃষকের হাট’।

সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই হাটটির মূল দর্শন হলো ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’। যেখানে কোনো ফড়িয়া বা পাইকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রান্তিক চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসল সরাসরি ভোক্তার হাতে তুলে দিতে পারছেন।
​এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের কঠোর ও জনবান্ধব অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়। ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।"
তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কৃষক ও ভোক্তার মাঝে এই সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ফলে অস্থির বাজারে দ্রুতই স্বস্তি ফিরে আসবে।
​বাজার তদারকি ও চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা কোনো বাধা ছাড়াই পণ্য বিক্রি করবেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না।"
বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনা হবে, যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং যেকোনো ধরনের কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।"
​নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাজার ভারসাম্য বজায় রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং টিসিবির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালেন্স’ তৈরি করা হবে।
এছাড়া কৃষি উৎপাদনের ভিত্তি মজবুত করতে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশের বাজার আরো স্থিতিশীল হবে।"
​সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত সময়ে এই হাটের কার্যক্রম চলবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মডেলটি সফল হলে কেবল মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যই কমবে না, বরং সাধারণ মানুষ বিষমুক্ত ও তাজা শাক-সবজি সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়ার একটি স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পাবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


সিলেটে ‘কৃষকের হাট’: সরাসরি সংযোগে বাজার 'সিন্ডিকেট ভাঙার নতুন দিগন্ত'

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যস্বত্বভোগীদের দীর্ঘদিনের দৌরাত্ম্য আটকা‌তে এবং সাধারণ ভোক্তার থলিতে সাশ্রয়ী দামে সতেজ সবজি পৌঁছে দিতে শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেট নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বিশেষ ‘কৃষকের হাট’।

সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই হাটটির মূল দর্শন হলো ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’। যেখানে কোনো ফড়িয়া বা পাইকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রান্তিক চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসল সরাসরি ভোক্তার হাতে তুলে দিতে পারছেন।
​এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের কঠোর ও জনবান্ধব অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়। ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।"
তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কৃষক ও ভোক্তার মাঝে এই সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ফলে অস্থির বাজারে দ্রুতই স্বস্তি ফিরে আসবে।
​বাজার তদারকি ও চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা কোনো বাধা ছাড়াই পণ্য বিক্রি করবেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না।"
বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনা হবে, যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং যেকোনো ধরনের কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।"
​নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাজার ভারসাম্য বজায় রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং টিসিবির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালেন্স’ তৈরি করা হবে।
এছাড়া কৃষি উৎপাদনের ভিত্তি মজবুত করতে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশের বাজার আরো স্থিতিশীল হবে।"
​সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত সময়ে এই হাটের কার্যক্রম চলবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই মডেলটি সফল হলে কেবল মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যই কমবে না, বরং সাধারণ মানুষ বিষমুক্ত ও তাজা শাক-সবজি সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়ার একটি স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পাবে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত