গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)’র শ্রমিক ক্লাব ও সরকারি বাসা দখলের অভিযোগ উঠেছে এক অনিয়মিত শ্রমিকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মঞ্জুরুল আলম ক্লাবের নীতিমালা লঙ্ঘন করে সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ সাধারণ কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের। তবে বারি কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্লাবটি বর্তমানে কারা পরিচালনা করছে, সে বিষয়ে তারা অবগত নয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মঞ্জুরুল আলম বারির একজন অনিয়মিত শ্রমিক হয়েও নিজেকে বারি শ্রমিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে ক্লাবটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কক্ষ ভাঙচুর, অশোভন আচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সাধারণ কর্মীরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, কৃষি পরিবহন শাখার দক্ষিণ পাশে একটি অননুমোদিত অফিস স্থাপন করে সেখানে অস্পষ্ট কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি নিয়ম অমান্য করে টিনশেড বাসার তালা ভেঙে দখল এবং অন্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী, বাসা বরাদ্দের জন্য আবেদন আহ্বান, বরাদ্দ কমিটির সুপারিশ এবং মহাপরিচালকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
সাধারণ শ্রমিকদের দাবি, অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে যে প্রথা চালু হয়েছিল, তা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এর ফলে নিয়মিত কর্মচারীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘আমি অনিয়মিত শ্রমিক এবং গাজীপুর মহানগর শ্রমিক দলের (মেট্রো থানা) সাধারণ সম্পাদক। ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা ক্লাবে অবস্থান করছি, তবে জবরদখল করিনি।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) খামার বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘শ্রমিক ক্লাবে বর্তমানে কারা আছে, তা আমার জানা নেই। কিছু লোক সেখানে অফিস করছে বলে দেখছি, তবে কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক কারা-সে বিষয়ে আমাদের কেউ কিছু জানায়নি।’
আপনার মতামত লিখুন