কুষ্টিয়ার মিরপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের পিয়ন মো. হামিদুল ইসলামকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মিরপুর থানায় একটি মামলা করেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হামিদুল ইসলাম উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ওই ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিদ্যালয়ে যায়। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত আটটার দিকে তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে পিয়ন হামিদুলের কাছে মেয়ের খোঁজ জানতে চান। ওই সময় হামিদুল বিদ্যালয়ে কেউ নেই বলে দাবি করেন এবং কক্ষের চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে পিয়নের কাছ থেকে চাবি কেড়ে নিয়ে বিদ্যালয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বিদ্যালয়ের নিচতলায় ওই ছাত্রীর স্যান্ডেল এবং দোতলায় স্কুলব্যাগ পাওয়া যায়। পরে তিনতলার একটি কক্ষ থেকে ওই ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীকে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে ওই ছাত্রী হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন, ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ছাত্রীর মায়ের করা মামলায় হামিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন