সারাদেশে নদী-নালা ও জলাধার পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় ৪৪টি জেলায় একযোগে কাজ চলবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। একই সঙ্গে কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া বড় পদক্ষেপ হিসেবে সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ডি-১৫ এন খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ টাকা ব্যয়ে এই কাজ শুরু হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল কেটে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, বর্তমান সরকার সেই পথেই কাজ করে যাচ্ছে। আমরা প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কৃষকদের সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কৃষকদের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’
সারাদেশে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘বর্তমানে ৪৪টি জেলায় খাল খনন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে নদীর নৌ-যোগাযোগ পুনরায় স্থাপন করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে অর্থবহ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতি সপ্তাহে এসব উন্নয়ন কর্মসূচির খোঁজখবর নিচ্ছেন।’
আলমডাঙ্গার এই প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের প্রথম পর্যায়ে ৭ কিলোমিটার খনন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরো খালের কাজ শেষ করা হবে। এ সময় তিনি খালের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
সংসদের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দেশকে একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান ও সিভিল সার্জন হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন