সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

“পড়াশোনা বাদ দিয়ে এখন মশা মারাই প্রধান কাজ"


জাহিদুল ইসলাম, রাবি
জাহিদুল ইসলাম, রাবি
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

“পড়াশোনা বাদ দিয়ে এখন মশা মারাই প্রধান কাজ"

“পড়াশোনা বাদ দিয়ে এখন মশা মারাই প্রধান কাজ।  রাতে পড়তে বসলে কয়েক মিনিট পরপরই মশার কামড়ে উঠে দাঁড়াতে হয়, অনেক সময় লাইট বন্ধ করে বা দরজা-জানালা বন্ধ করেও কোনো উপকার পাওয়া যায় না। এতে করে একদিকে যেমন পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে, অন্যদিকে ঘুমের সমস্যাসহ শারীরিক অস্বস্তিও বাড়ছে।"

চরম বিরক্তি ও হতাশা নিয়ে এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম তানবীর।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস যেন ধীরে ধীরে মশার দখলে চলে যাচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই নেমে আসে এক অদৃশ্য আতঙ্ক। ঝাঁকে ঝাঁকে মশার আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন শিক্ষার্থীরা। আবাসিক হল থেকে শুরু করে একাডেমিক ভবন-কোথাও মিলছে না স্বস্তির নিঃশ্বাস।

বইয়ের পাতার সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি চলছে মশার কামড় সহ্য করার সংগ্রাম। এতে যেমন ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা, তেমনি বাড়ছে মানসিক অস্বস্তি ও ক্লান্তি। এরই মধ্যে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের শঙ্কা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রতিটি সন্ধ্যা যেন আতঙ্কের বার্তা নিয়ে আসে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের কক্ষ, বারান্দা, রিডিং রুম ও ক্যান্টিনে মশার উপদ্রব তীব্র হয়ে ওঠে। শুধু হলের ভেতরেই নয়, টুকিটাকি , পরিবহন মার্কেট, মলচত্বর, বিবি চত্বরসহ উন্মুক্ত স্থানগুলোতেও মশার কারণে অবস্থান করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

মশার উপদ্রবের বিষয়ে মাদার বখশ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হাসানুজ্জামান বলেন, সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রবের কারণে রুমে টিকে থাকাটা অসাধ্য কাজ সাধন করা। জানালা খোলার সাথে সাথে একঝাঁক মশা রুমে ডুকে যায়। জানালা বন্ধ রাখলে গরমে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।  

অন্যদিকে নানাবিধ সমস্যার কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শোয়াইব বলেন, “মশার উপদ্রব এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যাচ্ছে না, ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের ভয়ও আমাদের সবসময় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। নিয়মিত মশা নিধনের কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।  আশা করি প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, "মশার উপদ্রব কমাতে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া হলের যে ড্রেনগুলো রয়েছে সেখানে পানি জমে থাকার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত সেগুলো পরিষ্কার রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া কোয়ান্টাম তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। ফগিং মেশিন ব্যবহার করে প্রশাসন এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যৌথভাবে মশা নিধনের কাজ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। "

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


“পড়াশোনা বাদ দিয়ে এখন মশা মারাই প্রধান কাজ"

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

“পড়াশোনা বাদ দিয়ে এখন মশা মারাই প্রধান কাজ।  রাতে পড়তে বসলে কয়েক মিনিট পরপরই মশার কামড়ে উঠে দাঁড়াতে হয়, অনেক সময় লাইট বন্ধ করে বা দরজা-জানালা বন্ধ করেও কোনো উপকার পাওয়া যায় না। এতে করে একদিকে যেমন পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে, অন্যদিকে ঘুমের সমস্যাসহ শারীরিক অস্বস্তিও বাড়ছে।"

চরম বিরক্তি ও হতাশা নিয়ে এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম তানবীর।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস যেন ধীরে ধীরে মশার দখলে চলে যাচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই নেমে আসে এক অদৃশ্য আতঙ্ক। ঝাঁকে ঝাঁকে মশার আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন শিক্ষার্থীরা। আবাসিক হল থেকে শুরু করে একাডেমিক ভবন-কোথাও মিলছে না স্বস্তির নিঃশ্বাস।

বইয়ের পাতার সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি চলছে মশার কামড় সহ্য করার সংগ্রাম। এতে যেমন ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা, তেমনি বাড়ছে মানসিক অস্বস্তি ও ক্লান্তি। এরই মধ্যে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের শঙ্কা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রতিটি সন্ধ্যা যেন আতঙ্কের বার্তা নিয়ে আসে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের কক্ষ, বারান্দা, রিডিং রুম ও ক্যান্টিনে মশার উপদ্রব তীব্র হয়ে ওঠে। শুধু হলের ভেতরেই নয়, টুকিটাকি , পরিবহন মার্কেট, মলচত্বর, বিবি চত্বরসহ উন্মুক্ত স্থানগুলোতেও মশার কারণে অবস্থান করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

মশার উপদ্রবের বিষয়ে মাদার বখশ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হাসানুজ্জামান বলেন, সন্ধ্যা হলেই মশার উপদ্রবের কারণে রুমে টিকে থাকাটা অসাধ্য কাজ সাধন করা। জানালা খোলার সাথে সাথে একঝাঁক মশা রুমে ডুকে যায়। জানালা বন্ধ রাখলে গরমে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।  

অন্যদিকে নানাবিধ সমস্যার কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শোয়াইব বলেন, “মশার উপদ্রব এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যাচ্ছে না, ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের ভয়ও আমাদের সবসময় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। নিয়মিত মশা নিধনের কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।  আশা করি প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, "মশার উপদ্রব কমাতে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া হলের যে ড্রেনগুলো রয়েছে সেখানে পানি জমে থাকার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত সেগুলো পরিষ্কার রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া কোয়ান্টাম তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। ফগিং মেশিন ব্যবহার করে প্রশাসন এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যৌথভাবে মশা নিধনের কাজ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। "


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত