ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যথাসময়ে চাহিদা অনুযায়ি তেল ও গ্যাস (এলএনজি) প্রাপ্তির অনিশ্চয়তায় ভুগছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।
আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামুলক বেড়ে যায়। বাড়তি চাহিদার যোগান দিতে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়। তবে এবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে তেল ও গ্যাস আমদানিতে জটিলতা তৈরী হয়েছে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ এমনিতেই অনেক বেশী। যুদ্ধে তেলের দাম বেড়ে গেলে খরচ আরো বেড়ে যাবে। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর কথা ভাবছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম যেকোন সময় বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া, চুক্তি অনুযায়ি নির্ধারিত জ্বালানি যথাসময়ে প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা থাকছেই। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের চেয়ে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন তুলনামুলক সাশ্রয়ী। কয়লা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও নিশ্চয়তা আছে। তাই গরম ও সেচে বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো জরুরি।
বিপিডিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ৮ এপ্রিল দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে ২৮৪ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘন্টা (ভারত থেকে আমদানিসহ)। এ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৮১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বেশী।
এর মধ্যে গ্যাস (আমদানি করা এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ) দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে ১২৩ দশমিক ৪১৬ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘন্টা বা মিলিয়ন ইউনিট। এ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৪৩ কোটি ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৩ টাকা। গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ টাকা ৪৯ পয়সা।
কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে ৮১ দশমিক ১১০ মিলিয়ন ইউনিট; খরচ হয়েছে ৫৪ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার ৪৯৩ টাকা। গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ টাকা ৭৩ পয়সা।
তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৯১৭ মিলিয়ন ইউনিট; খরচ হয়েছে ৫২ কোটি ২ লাখ ২৮ হাজার ২৯৭ টাকা। গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ টাকা ৩৯ পয়সা।
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছে ৪৩ দশমিক ৬৭১ মিলিয়ন ইউনিট; খরচ হয়েছে ২৩ কোটি ৯০ লাখ ৩৬ হাজার ৪১ টাকা। গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। তবে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে চুক্তিভেদে সঞ্চালন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় এর সঙ্গে যুক্ত হবে।
এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ৪ দশমিক ৮৭৭ মিলিয়ন ইউনিট এবং জল ও বায়ুবিদ্যুৎ মিলিয়ে ২ দশমিক শুন্য শুন্য ২ মিলিয়ন ইউনিট উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৮ কোটি ৬ লাখ ২৩ হাজার ৭১৬ টাকা।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম এ বিষয়ে সংবাদকে বলেন, “কয়লা থেকে এখন যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, চেষ্টা করলে আরো দুই হাজার মেগাওয়াট দিনে বাড়ানো সম্ভব। আমাদের চেষ্টা থাকবে গ্রীষ্মে কয়লা থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের।”
দেশে এখন দৈনিক কমবেশী প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কয়লা থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে। আর তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ হচ্ছে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট।
তেলভিত্তিক দেড় হাজারে নামিয়ে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানো হলে একদিকে সংকট যেমন মোকাবিলা করা যাবে আবার প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন এ খাতের বিশ্লেষকরা।
অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে কয়লা বিদ্যুৎই এখন বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। কারণ এখন পর্যন্ত কয়লার দাম নাগালের মধ্যেই আছে। তা ছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির কারণে সরবরাহ নিয়ে বড় জটিলতাও নেই।
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেনের মতে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনই সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম অস্থিতিশীল। এই পরিস্থিতিতে কয়লা বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিৎ। কয়লার দামও তেমন একটা বাড়েনি। সরবরাহ জটিলতাও খুব একটা নেই। ফলে এখন কয়লার জোগান ঠিকমতো নিশ্চিত করতে হবে। এতে তেল-গ্যাসের ওপর চাপ কমবে।
বিপিডিবির তথ্যমতে, দেশের সাতটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৬১৩৩ মেগাওয়াট। এ ছাড়া ভারতের ঝাড়খন্ডে আদানি পাওয়ার লিমিটেড থেকে ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। আদানির কয়লাভিত্তিক এই কেন্দ্রটি শুধু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্মিত হওয়ায় এটিও বাংলাদেশের মোট কয়লা বিদ্যুতের সক্ষমতা হিসেবেই ধরা হয়। সে হিসেবে দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা রয়েছে ৭৬২৯ মেগাওয়াট।
বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে চার থেকে সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট। তবে কয়লার অভাবে পটুয়াখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। একই কারণে মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িক সময়ের জন্য বড়পুকুরিয়া, রামপাল ও আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এসব সংকট দূর করতে কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো গেলে আরও অন্তত দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
দেশে এখন বিদ্যুতের চাহিদা ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটে ওঠানামা করছে। গরম পড়লে এবং সরকারি কর্মদিবসে চাহিদা বাড়ে। ছুটির দিনে এবং বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা একটু কমে এলে চাহিদা কমে যায়।
সামনে গরম বাড়লে এবং সেচ পুরোপুরি শুরু হলে দেশে বিদ্যুৎ চাহিদা সাড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াট থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করছে বিপিডিবি। ওই সময় লোডশেডিং কমিয়ে রাখতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছে সরকারি এই সংস্থা।

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যথাসময়ে চাহিদা অনুযায়ি তেল ও গ্যাস (এলএনজি) প্রাপ্তির অনিশ্চয়তায় ভুগছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।
আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামুলক বেড়ে যায়। বাড়তি চাহিদার যোগান দিতে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়। তবে এবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে তেল ও গ্যাস আমদানিতে জটিলতা তৈরী হয়েছে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ এমনিতেই অনেক বেশী। যুদ্ধে তেলের দাম বেড়ে গেলে খরচ আরো বেড়ে যাবে। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর কথা ভাবছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম যেকোন সময় বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া, চুক্তি অনুযায়ি নির্ধারিত জ্বালানি যথাসময়ে প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা থাকছেই। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের চেয়ে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন তুলনামুলক সাশ্রয়ী। কয়লা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও নিশ্চয়তা আছে। তাই গরম ও সেচে বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো জরুরি।
বিপিডিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ৮ এপ্রিল দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে ২৮৪ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘন্টা (ভারত থেকে আমদানিসহ)। এ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৮১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বেশী।
এর মধ্যে গ্যাস (আমদানি করা এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ) দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে ১২৩ দশমিক ৪১৬ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘন্টা বা মিলিয়ন ইউনিট। এ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৪৩ কোটি ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৩ টাকা। গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ টাকা ৪৯ পয়সা।
কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে ৮১ দশমিক ১১০ মিলিয়ন ইউনিট; খরচ হয়েছে ৫৪ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার ৪৯৩ টাকা। গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ টাকা ৭৩ পয়সা।
তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৯১৭ মিলিয়ন ইউনিট; খরচ হয়েছে ৫২ কোটি ২ লাখ ২৮ হাজার ২৯৭ টাকা। গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ টাকা ৩৯ পয়সা।
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছে ৪৩ দশমিক ৬৭১ মিলিয়ন ইউনিট; খরচ হয়েছে ২৩ কোটি ৯০ লাখ ৩৬ হাজার ৪১ টাকা। গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। তবে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে চুক্তিভেদে সঞ্চালন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় এর সঙ্গে যুক্ত হবে।
এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ৪ দশমিক ৮৭৭ মিলিয়ন ইউনিট এবং জল ও বায়ুবিদ্যুৎ মিলিয়ে ২ দশমিক শুন্য শুন্য ২ মিলিয়ন ইউনিট উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৮ কোটি ৬ লাখ ২৩ হাজার ৭১৬ টাকা।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম এ বিষয়ে সংবাদকে বলেন, “কয়লা থেকে এখন যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, চেষ্টা করলে আরো দুই হাজার মেগাওয়াট দিনে বাড়ানো সম্ভব। আমাদের চেষ্টা থাকবে গ্রীষ্মে কয়লা থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের।”
দেশে এখন দৈনিক কমবেশী প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কয়লা থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে। আর তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ হচ্ছে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট।
তেলভিত্তিক দেড় হাজারে নামিয়ে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানো হলে একদিকে সংকট যেমন মোকাবিলা করা যাবে আবার প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন এ খাতের বিশ্লেষকরা।
অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে কয়লা বিদ্যুৎই এখন বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। কারণ এখন পর্যন্ত কয়লার দাম নাগালের মধ্যেই আছে। তা ছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির কারণে সরবরাহ নিয়ে বড় জটিলতাও নেই।
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেনের মতে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনই সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম অস্থিতিশীল। এই পরিস্থিতিতে কয়লা বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিৎ। কয়লার দামও তেমন একটা বাড়েনি। সরবরাহ জটিলতাও খুব একটা নেই। ফলে এখন কয়লার জোগান ঠিকমতো নিশ্চিত করতে হবে। এতে তেল-গ্যাসের ওপর চাপ কমবে।
বিপিডিবির তথ্যমতে, দেশের সাতটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৬১৩৩ মেগাওয়াট। এ ছাড়া ভারতের ঝাড়খন্ডে আদানি পাওয়ার লিমিটেড থেকে ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। আদানির কয়লাভিত্তিক এই কেন্দ্রটি শুধু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্মিত হওয়ায় এটিও বাংলাদেশের মোট কয়লা বিদ্যুতের সক্ষমতা হিসেবেই ধরা হয়। সে হিসেবে দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা রয়েছে ৭৬২৯ মেগাওয়াট।
বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে চার থেকে সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট। তবে কয়লার অভাবে পটুয়াখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। একই কারণে মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িক সময়ের জন্য বড়পুকুরিয়া, রামপাল ও আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এসব সংকট দূর করতে কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো গেলে আরও অন্তত দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
দেশে এখন বিদ্যুতের চাহিদা ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটে ওঠানামা করছে। গরম পড়লে এবং সরকারি কর্মদিবসে চাহিদা বাড়ে। ছুটির দিনে এবং বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা একটু কমে এলে চাহিদা কমে যায়।
সামনে গরম বাড়লে এবং সেচ পুরোপুরি শুরু হলে দেশে বিদ্যুৎ চাহিদা সাড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াট থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করছে বিপিডিবি। ওই সময় লোডশেডিং কমিয়ে রাখতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছে সরকারি এই সংস্থা।

আপনার মতামত লিখুন