ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় গত দুই বছরের বন্যায় মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ৪২টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলেও তা এখনো পুরোপুরি মেরামত করা হয়নি। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় এবং আকাশে মেঘ জমলেই এখন নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে না পারলেও সংস্কারকাজে চরম অবহেলা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ভয়াবহ বন্যায় পরশুরামের এই তিন নদীর ৪২টি স্থানে বাঁধ ভেঙে যায়। সেই সময় পরশুরাম পৌরসভা ও বাজার এলাকা ছাড়া পুরো উপজেলা প্লাবিত হয়েছিল। নষ্ট হয়েছিল ফসল, সড়ক, সেতু এবং শত শত ঘরবাড়ি। এরপর ২০২৫ সালেও বাঁধ মেরামত না হওয়ায় আবারও প্লাবিত হয় এই জনপদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে সিলোনিয়া নদীর বাঁধ এখনো ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। একই ইউনিয়নের কাশিনগর ও চম্পকনগর এলাকায় মুহুরী নদীর দুটি স্থানে ভাঙন রয়েছে। ভাঙা অংশ দিয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। কাশিনগর এলাকায় বাঁধের একটি বড় অংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেও কোনো ফল পাননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
চিথলিয়া ইউনিয়নের পাকির খীল ও শালধর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাউবোর কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে বাঁধ সংস্কারে কোনো টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ব্যবসায়ী করিম মিয়া বলেন, ‘শুনছি সরকার বড় প্রকল্প নেবে, তখন মেরামত হবে। কিন্তু তার আগে তো আমাদের সব ভেসে যাবে। প্রতিবছর ঘরবাড়ি ও ব্যবসার মালামাল নষ্ট হচ্ছে।’
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক বলেন, ‘ভাঙা অংশগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। দ্রুত মেরামতের জন্য চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
এ বিষয়ে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘বেড়িবাঁধ মেরামতের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। আমি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি যেন দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সংস্কার করা হয়।’
তবে ফেনী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ইতিমধ্যে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বেশ কিছু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর একটি তালিকা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব স্থানে স্থায়ী মেরামতের কাজ শুরু হবে।
বাঁধ সংলগ্ন এলাকার প্রায় ২৫০টি পরিবার বর্তমানে চূড়ান্ত উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। বর্ষা আসার আগেই টেকসই বাঁধ না হলে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন