কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি দরবারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম মারা গেছেন| একটি অভিযোগের ভিত্তিতে শত শত মানুষের সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর এবং শেষ পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর ঘটনায় ধারণা করা যায় যে, দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি|
তিন বছর পুরনো এক ভিডিওকে কেন্দ্র করে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ| শামীমের বিরুদ্ধে এর আগে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল| ২০২১ সালে তিনি তিন মাস কারাগারেও ছিলেন| অর্থাৎ তাকে বিচারের মুখোমুখি করার আইনি পথ খোলাই ছিল| কিন্তু সেই পথে না গিয়ে জনতা হামলা চালালো, হত্যা করল| এটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত|
এক হিসাব অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সারাদেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে| এসব ঘটনায় ৩ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ৪৬৮ জন| ১১টি মামলা হলেও কোনোটিতেই কার্যকর অগ্রগতি নেই|
কুষ্টিয়ার ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা করতে চাইছে না| কারণটি তারা স্পষ্ট করেননি| তবে রাষ্ট্রকে সক্রিয় হতে হবে| পরিবার মামলা না করলেও রাষ্ট্র ¯^তঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে| মবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে|
ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্নটি সংবেদনশীল| কিন্তু কোনো অভিযোগ উঠলেই কাউকে হত্যা করা চলে না| কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটা আইনি পথে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে| কোনো অজুহাতেই আইন নিজের হাতে নেয়ার সুযোগ নেই|
সরকারকে এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে| একই সঙ্গে আগের হামলাগুলোর বিচার করতে হবে| বিচার করে এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে যে, মবে করে কেউ পার পাবে না|

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি দরবারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম মারা গেছেন| একটি অভিযোগের ভিত্তিতে শত শত মানুষের সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর এবং শেষ পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর ঘটনায় ধারণা করা যায় যে, দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি|
তিন বছর পুরনো এক ভিডিওকে কেন্দ্র করে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ| শামীমের বিরুদ্ধে এর আগে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল| ২০২১ সালে তিনি তিন মাস কারাগারেও ছিলেন| অর্থাৎ তাকে বিচারের মুখোমুখি করার আইনি পথ খোলাই ছিল| কিন্তু সেই পথে না গিয়ে জনতা হামলা চালালো, হত্যা করল| এটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত|
এক হিসাব অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সারাদেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে| এসব ঘটনায় ৩ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ৪৬৮ জন| ১১টি মামলা হলেও কোনোটিতেই কার্যকর অগ্রগতি নেই|
কুষ্টিয়ার ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা করতে চাইছে না| কারণটি তারা স্পষ্ট করেননি| তবে রাষ্ট্রকে সক্রিয় হতে হবে| পরিবার মামলা না করলেও রাষ্ট্র ¯^তঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে| মবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে|
ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্নটি সংবেদনশীল| কিন্তু কোনো অভিযোগ উঠলেই কাউকে হত্যা করা চলে না| কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটা আইনি পথে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে| কোনো অজুহাতেই আইন নিজের হাতে নেয়ার সুযোগ নেই|
সরকারকে এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে| একই সঙ্গে আগের হামলাগুলোর বিচার করতে হবে| বিচার করে এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে যে, মবে করে কেউ পার পাবে না|

আপনার মতামত লিখুন