২০২৬ সালেও পৃথিবীর কোটি কোটি শিশু নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা ও মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রাস্তায় জীবনযাপন করছে| তাদের কাছে ˆশশব মানে খেলাধুলা বা ¯^প্ন নয়—বরং বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম| প্রতি বছর ১২ এপ্রিল পালিত হয় আন্তর্জাতিক পথশিশু দিবস আমাদের সামনে এমন এক বাস্তবতা তুলে ধরে, যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই| দিবসটি কেবল একটি প্রতীকী আয়োজন নয়; এটি মানবিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান, নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা এবং সমাজের জন্য আত্মসমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত|
পথশিশু বলতে সাধারণত সেইসব শিশুদের বোঝায়, যারা জীবিকার প্রয়োজনে বা পারিবারিক ভাঙনের কারণে রাস্তায় বসবাস করে কিংবা দিনের অধিকাংশ সময় রাস্তায় কাটায়| কেউ সম্পূর্ণ পরিবারহীন, আবার কেউ পরিবার থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য, সহিংসতা, অবহেলা বা সামাজিক ˆবষম্যের কারণে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে| এদের জীবন অনিশ্চয়তা, শোষণ, নিরাপত্তাহীনতা ও বঞ্চনায় পরিপূর্ণ|
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বে আনুমানিক ১৫-২০ কোটি শিশু কোনো না কোনোভাবে রাস্তায় বসবাস বা কাজ করতে বাধ্য| দক্ষিণ এশিয়া, সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি প্রকট| প্রায় ৪০% পথশিশু কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় নেই| প্রায় ৩০% শিশু নিয়মিত শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার| ২০% এর বেশি শিশু অপরাধচক্র, মাদক বা বিপজ্জনক কাজে জড়িয়ে পড়ে| উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু মানবপাচার ও শোষণের ঝুঁকিতে থাকে| এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয়; এগুলো প্রতিটি শিশুর হারিয়ে যাওয়া নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সম্ভাবনার করুণ প্রতিচ্ছবি|
বাংলাদেশেও পথশিশু সমস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ| বিভিন্ন গবেষণা ও বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে— দেশে আনুমানিক ১০-১৫ লাখ পথশিশু রয়েছে| রাজধানী ঢাকায় রয়েছে প্রায় ৫-৬ লাখ পথশিশু| প্রায় ৬৫% শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত|
প্রায় ৫০% শিশু কোনো না কোনো শিশুশ্রমে নিয়োজিত| দারিদ্র্য, পারিবারিক সহিংসতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাস্তুচ্যুতি, নদীভাঙন, বন্যা, নগরায়ণ এবং গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন—এসব কারণ পথশিশু বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে| এছাড়া নগর জীবনের ব্যয়বৃদ্ধি ও সামাজিক ˆবষম্যও এ সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে|
পথশিশুদের প্রতিদিনের জীবন এক অনিশ্চিত ও কঠোর বাস্তবতার মধ্যে সীমাবদ্ধ| তারা খাবার, আশ্রয়, নিরাপত্তা—প্রতিটি মৌলিক চাহিদার জন্য সংগ্রাম করে| অনেক শিশু হকারি, ভিক্ষাবৃত্তি, আবর্জনা সংগ্রহ বা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত| তারা ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড বা উন্মুক্ত স্থানে রাত কাটায়| সহজেই তারা মাদকাসক্তি, অপরাধচক্র, যৌন নির্যাতন ও পাচারের শিকার হয়|
¯^াস্থ্যঝুঁকি তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ| অপুষ্টি, ত্বকের রোগ, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, ডায়রিয়া, এমনকি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমা তাদের ¯^াভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে| অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবার বাইরে থাকে|
শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার হলেও পথশিশুরা এই অধিকার থেকে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত| জীবিকার তাগিদে তারা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায় না| তাদের দক্ষতা ও জ্ঞান বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়| ভবিষ্যতে স্থায়ী ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে| দারিদ্র্যের চক্র প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলতে থাকে| অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা সহায়তা করলেও তা পর্যাপ্ত নয়| অনেক ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে না|
বাংলাদেশ সরকার পথশিশুদের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে| সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে|
তবে বাস্তবতায় কিছু সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট— পর্যাপ্ত বাজেট ও অবকাঠামোর অভাব| প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্বলতা ও সমš^য়ের ঘাটতি| দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার অভাব| উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিতকরণে সমস্যা| ফলে এসব উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনে পুরোপুরি সফল হতে পারছে না|
পথশিশু সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সমšি^ত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য| পথশিশুদের জন্য পৃথক জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে| ফ্রি ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার আওতায় পথশিশুদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে| ভ্রাম্যমাণ স্কুল, রাতের স্কুল এবং নমনীয় শিক্ষা পদ্ধতি চালু করতে হবে| সম্ভব হলে শিশুদের পরিবারে ফিরিয়ে এনে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে|
ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে| নিয়মিত ¯^াস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টি কর্মসূচি এবং মানসিক সহায়তা প্রদান জরুরি| গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে সমাজ পথশিশুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়| নির্ভুল পরিসংখ্যান সংগ্রহ ও গবেষণার ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করতে হবে|
পথশিশুরা সমাজের বোঝা নয়; তারা একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ| তাদের প্রতি অবহেলা মানে একটি সম্ভাবনাকে ধ্বংস করা| একজন পথশিশুর পাশে দাঁড়ানো মানে একটি জীবনকে নতুন পথে এগিয়ে নেয়া|
সমাজের প্রতিটি মানুষের ছোট ছোট উদ্যোগ—যেমন শিক্ষা সহায়তা, মানবিক আচরণ, সচেতনতা সৃষ্টি—এই শিশুদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে| তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি|
[লেখক: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি]

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
২০২৬ সালেও পৃথিবীর কোটি কোটি শিশু নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা ও মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রাস্তায় জীবনযাপন করছে| তাদের কাছে ˆশশব মানে খেলাধুলা বা ¯^প্ন নয়—বরং বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম| প্রতি বছর ১২ এপ্রিল পালিত হয় আন্তর্জাতিক পথশিশু দিবস আমাদের সামনে এমন এক বাস্তবতা তুলে ধরে, যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই| দিবসটি কেবল একটি প্রতীকী আয়োজন নয়; এটি মানবিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান, নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা এবং সমাজের জন্য আত্মসমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত|
পথশিশু বলতে সাধারণত সেইসব শিশুদের বোঝায়, যারা জীবিকার প্রয়োজনে বা পারিবারিক ভাঙনের কারণে রাস্তায় বসবাস করে কিংবা দিনের অধিকাংশ সময় রাস্তায় কাটায়| কেউ সম্পূর্ণ পরিবারহীন, আবার কেউ পরিবার থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য, সহিংসতা, অবহেলা বা সামাজিক ˆবষম্যের কারণে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে| এদের জীবন অনিশ্চয়তা, শোষণ, নিরাপত্তাহীনতা ও বঞ্চনায় পরিপূর্ণ|
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বে আনুমানিক ১৫-২০ কোটি শিশু কোনো না কোনোভাবে রাস্তায় বসবাস বা কাজ করতে বাধ্য| দক্ষিণ এশিয়া, সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি প্রকট| প্রায় ৪০% পথশিশু কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় নেই| প্রায় ৩০% শিশু নিয়মিত শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার| ২০% এর বেশি শিশু অপরাধচক্র, মাদক বা বিপজ্জনক কাজে জড়িয়ে পড়ে| উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু মানবপাচার ও শোষণের ঝুঁকিতে থাকে| এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয়; এগুলো প্রতিটি শিশুর হারিয়ে যাওয়া নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সম্ভাবনার করুণ প্রতিচ্ছবি|
বাংলাদেশেও পথশিশু সমস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ| বিভিন্ন গবেষণা ও বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে— দেশে আনুমানিক ১০-১৫ লাখ পথশিশু রয়েছে| রাজধানী ঢাকায় রয়েছে প্রায় ৫-৬ লাখ পথশিশু| প্রায় ৬৫% শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত|
প্রায় ৫০% শিশু কোনো না কোনো শিশুশ্রমে নিয়োজিত| দারিদ্র্য, পারিবারিক সহিংসতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাস্তুচ্যুতি, নদীভাঙন, বন্যা, নগরায়ণ এবং গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন—এসব কারণ পথশিশু বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে| এছাড়া নগর জীবনের ব্যয়বৃদ্ধি ও সামাজিক ˆবষম্যও এ সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে|
পথশিশুদের প্রতিদিনের জীবন এক অনিশ্চিত ও কঠোর বাস্তবতার মধ্যে সীমাবদ্ধ| তারা খাবার, আশ্রয়, নিরাপত্তা—প্রতিটি মৌলিক চাহিদার জন্য সংগ্রাম করে| অনেক শিশু হকারি, ভিক্ষাবৃত্তি, আবর্জনা সংগ্রহ বা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত| তারা ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড বা উন্মুক্ত স্থানে রাত কাটায়| সহজেই তারা মাদকাসক্তি, অপরাধচক্র, যৌন নির্যাতন ও পাচারের শিকার হয়|
¯^াস্থ্যঝুঁকি তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ| অপুষ্টি, ত্বকের রোগ, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, ডায়রিয়া, এমনকি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমা তাদের ¯^াভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে| অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবার বাইরে থাকে|
শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার হলেও পথশিশুরা এই অধিকার থেকে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত| জীবিকার তাগিদে তারা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায় না| তাদের দক্ষতা ও জ্ঞান বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়| ভবিষ্যতে স্থায়ী ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে| দারিদ্র্যের চক্র প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলতে থাকে| অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা সহায়তা করলেও তা পর্যাপ্ত নয়| অনেক ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে না|
বাংলাদেশ সরকার পথশিশুদের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে| সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে|
তবে বাস্তবতায় কিছু সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট— পর্যাপ্ত বাজেট ও অবকাঠামোর অভাব| প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্বলতা ও সমš^য়ের ঘাটতি| দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনার অভাব| উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিতকরণে সমস্যা| ফলে এসব উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনে পুরোপুরি সফল হতে পারছে না|
পথশিশু সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সমšি^ত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য| পথশিশুদের জন্য পৃথক জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে| ফ্রি ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার আওতায় পথশিশুদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে| ভ্রাম্যমাণ স্কুল, রাতের স্কুল এবং নমনীয় শিক্ষা পদ্ধতি চালু করতে হবে| সম্ভব হলে শিশুদের পরিবারে ফিরিয়ে এনে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে|
ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে| নিয়মিত ¯^াস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টি কর্মসূচি এবং মানসিক সহায়তা প্রদান জরুরি| গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে সমাজ পথশিশুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়| নির্ভুল পরিসংখ্যান সংগ্রহ ও গবেষণার ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করতে হবে|
পথশিশুরা সমাজের বোঝা নয়; তারা একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ| তাদের প্রতি অবহেলা মানে একটি সম্ভাবনাকে ধ্বংস করা| একজন পথশিশুর পাশে দাঁড়ানো মানে একটি জীবনকে নতুন পথে এগিয়ে নেয়া|
সমাজের প্রতিটি মানুষের ছোট ছোট উদ্যোগ—যেমন শিক্ষা সহায়তা, মানবিক আচরণ, সচেতনতা সৃষ্টি—এই শিশুদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে| তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি|
[লেখক: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি]

আপনার মতামত লিখুন