ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ শেষ করে ৯০ শতাংশ বিল তুলে নিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় হরিণবেড়-ফান্দাউক সড়কের চিতনা থেকে রসুলপুর পর্যন্ত ১৮০০ মিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ পায় 'হাসান এন্টারপ্রাইজ' নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগ উঠেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছরেও কাজ শেষ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমপরিমাণ কাজ করলেও এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ৭ কোটি ২১ লাখ টাকা বিল তুলে নিয়েছে। অর্থাৎ কাজের তুলনায় ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল তুলে নিয়ে ঠিকাদার এখন লাপাত্তা।
সড়কটি নির্মিত না হওয়ায় চারটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা ফান্দাউক বাজারে যাতায়াতে চরম সমস্যায় পড়েছেন। সরাসরি যাতায়াত করতে না পেরে তারা বিকল্প পথে ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এতে সময় ও অর্থ দুটিরই অপচয় হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, ‘ঠিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সব বিল তুলে নিয়েছেন। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়। এখন ঠিকাদারের লোকজনকে আর এলাকায় দেখা যায় না।’
এ বিষয়ে ঠিকাদার খাইরুল হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।’ তবে কেন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত বিল উত্তোলন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি।
নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মোমিন বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। সব ফাইলপত্র দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত বিল প্রদানের বিষয়টি আমার আগের কর্মকর্তাদের সময় হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘ঠিকাদারকে এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য চাপ দেওয়া হবে। কাগজপত্র দেখে বিস্তারিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আপনার মতামত লিখুন