সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতেও পুলিশ পাহারা

কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যার ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি, আটক নেই


জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম

কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যার ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি, আটক নেই
শামীম রেজা ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের (৫৫) । ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় নিহত কথিত পীর শামীম রেজা ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের (৫৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি; কাউকে আটকও করতে পারেনি পুলিশ।

আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে কড়া পুলিশি পাহারায় জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সেনাবাহিনী ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়।

দাফন অনুষ্ঠানে শামীম রেজার ভক্ত বা অনুসারীদের উপস্থিতি তেমন ছিল না। বর্তমানে তার আস্তানা বা দরবার শরিফ এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

দৌলতপুর থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি এবং কেউ গ্রেপ্তার নেই। তবে অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

রোববার দুপুরে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) শেখ জয়নুদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এর আগে শনিবার রাতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন জানান, একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ শামীমকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও উত্তেজিত জনতার তুলনায় সদস্য সংখ্যা কম থাকায় তাকে রক্ষা করা যায়নি।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিজিবি টহল দিচ্ছে। হামলায় আহত ভক্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের বাড়িতে পুলিশ পাহারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দৌলতপুরের হোসেনাবাদে প্রখ্যাত বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শফি মণ্ডল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

শনিবার দুপুরে ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম রেজার আস্তানায় হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে উত্তেজিত জনতা। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

নিহত শামীম রেজা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে পৈতৃক ভিটায় আস্তানা গড়ে তোলেন। ২০২১ সালেও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬


কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যার ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি, আটক নেই

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় নিহত কথিত পীর শামীম রেজা ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের (৫৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি; কাউকে আটকও করতে পারেনি পুলিশ।

আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে কড়া পুলিশি পাহারায় জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সেনাবাহিনী ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়।

দাফন অনুষ্ঠানে শামীম রেজার ভক্ত বা অনুসারীদের উপস্থিতি তেমন ছিল না। বর্তমানে তার আস্তানা বা দরবার শরিফ এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

দৌলতপুর থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি এবং কেউ গ্রেপ্তার নেই। তবে অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

রোববার দুপুরে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) শেখ জয়নুদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এর আগে শনিবার রাতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন জানান, একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ শামীমকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও উত্তেজিত জনতার তুলনায় সদস্য সংখ্যা কম থাকায় তাকে রক্ষা করা যায়নি।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিজিবি টহল দিচ্ছে। হামলায় আহত ভক্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের বাড়িতে পুলিশ পাহারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দৌলতপুরের হোসেনাবাদে প্রখ্যাত বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শফি মণ্ডল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

শনিবার দুপুরে ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম রেজার আস্তানায় হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে উত্তেজিত জনতা। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

নিহত শামীম রেজা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে পৈতৃক ভিটায় আস্তানা গড়ে তোলেন। ২০২১ সালেও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত