সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বাতিল অধ্যাদেশ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বিরোধীদল: আইনমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

বাতিল অধ্যাদেশ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বিরোধীদল: আইনমন্ত্রী

সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতারা সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসব অধ্যাদেশ পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায়নি, বরং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রাখা হয়েছে।

রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। সময় মন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ১৩৩টি অধ্যাদেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন আমরা অধ্যাদেশগুলো বাদ দিয়েছি, তারা মূলত এটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। আমরা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি হুবহু আগের মতোই পাস করেছি। আরও ১৩টি অধ্যাদেশ সামান্য সংশোধনের মাধ্যমে পাস করা হয়েছে এবং ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ হেফাজত করে পাস করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। সব মিলিয়ে আমরা ১১০টি অধ্যাদেশকে বিল আকারে সংসদে পেশ করেছি এবং ৯১টি বিল পাস হয়েছে। বাকিগুলোর বিষয়ে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন; এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা বিলের প্রস্তাবনাতেই পরিষ্কার করে বলেছি যে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ যাচাই-বাছাইয়ের জন্যই এই সময় নেওয়া হচ্ছে। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অস্পষ্টতা বা লুকোচুরি নেই। সংসদে বিল উপস্থাপনের মাধ্যমে এটি এখন আইনে পরিণত হয়েছে এবং জাতির কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

বিরোধীদলের সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি সংসদেও বলেছি যে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা আইনের সবকিছু পড়লেও সরকারের স্বচ্ছতা জবাবদিহির জায়গাগুলো এড়িয়ে গেছেন। আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে বিলগুলো এনেছি।

এমনকি ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ওই সময়ে ১২২টি অধ্যাদেশ জারি হলেও মাত্র ৫৪টি আইনে পরিণত হয়েছিল, বাকিগুলো তামাদি হয়ে যায়। সেই তুলনায় আমরা ১১৭টি অধ্যাদেশকে আইনের আওতায় এনেছি।

আগামী ১৫ মে পর মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই। একজন আইন বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেভাবে ঢালাওভাবে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তার মৌলিক প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। তবুও আমরা জনস্বার্থে সেগুলোকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনি রূপ দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছি। নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬


বাতিল অধ্যাদেশ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বিরোধীদল: আইনমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতারা সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসব অধ্যাদেশ পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায়নি, বরং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রাখা হয়েছে।

রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। সময় মন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ১৩৩টি অধ্যাদেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন আমরা অধ্যাদেশগুলো বাদ দিয়েছি, তারা মূলত এটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। আমরা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি হুবহু আগের মতোই পাস করেছি। আরও ১৩টি অধ্যাদেশ সামান্য সংশোধনের মাধ্যমে পাস করা হয়েছে এবং ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ হেফাজত করে পাস করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। সব মিলিয়ে আমরা ১১০টি অধ্যাদেশকে বিল আকারে সংসদে পেশ করেছি এবং ৯১টি বিল পাস হয়েছে। বাকিগুলোর বিষয়ে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন; এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা বিলের প্রস্তাবনাতেই পরিষ্কার করে বলেছি যে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ যাচাই-বাছাইয়ের জন্যই এই সময় নেওয়া হচ্ছে। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অস্পষ্টতা বা লুকোচুরি নেই। সংসদে বিল উপস্থাপনের মাধ্যমে এটি এখন আইনে পরিণত হয়েছে এবং জাতির কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

বিরোধীদলের সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি সংসদেও বলেছি যে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা আইনের সবকিছু পড়লেও সরকারের স্বচ্ছতা জবাবদিহির জায়গাগুলো এড়িয়ে গেছেন। আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে বিলগুলো এনেছি।

এমনকি ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ওই সময়ে ১২২টি অধ্যাদেশ জারি হলেও মাত্র ৫৪টি আইনে পরিণত হয়েছিল, বাকিগুলো তামাদি হয়ে যায়। সেই তুলনায় আমরা ১১৭টি অধ্যাদেশকে আইনের আওতায় এনেছি।

আগামী ১৫ মে পর মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই। একজন আইন বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেভাবে ঢালাওভাবে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তার মৌলিক প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। তবুও আমরা জনস্বার্থে সেগুলোকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনি রূপ দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছি। নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত