সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

দুই শতাংশ ঘুষ দাবি করা সেই প্রকৌশলী ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’


প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

দুই শতাংশ ঘুষ দাবি করা সেই প্রকৌশলী ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ঘুষ দাবির অভিযোগে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ২ শতাংশ হারে ঘুষ দাবি এবং ঘুষ না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসানকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ (তাৎক্ষণিক বদলি) করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগে দৈনিক সংবাদে খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি এলজিইডি সদর দপ্তরের নজরে আসে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস আর ট্রেডার্স’ প্রধান প্রকৌশলী বরাবর এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছিল।

সাটুরিয়ায় ‘২ শতাংশ ঘুষ’ না পেয়ে কাজ বন্ধ করলেন প্রকৌশলী

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে ধুল্লা ভায়া খুনিরটেক বাজার সড়কের দুই হাজার মিটার উন্নয়নের জন্য ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার কাজ পায় এস আর ট্রেডার্স। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদার কাজ শুরু করতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসান ও উপসহকারী প্রকৌশলী তাতে বাধা দেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. রুমান অভিযোগ করেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলী কাজ শুরু করার শর্ত হিসেবে বরাদ্দের মোট টাকার ওপর ২ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। নির্ধারিত সময়ে ঘুষ দিতে না পারায় তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। দুই মাস কাজ বন্ধ থাকায় আমার কেনা ২০০ ব্যাগ সিমেন্ট জমাট বেঁধে নষ্ট হয়ে গেছে এবং সাইট থেকে নির্মাণসামগ্রী চুরি হয়ে আমি প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক লোকসানে পড়েছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরও কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, প্রতিটি কাজ থেকেই এই প্রকৌশলীকে ১ থেকে ৩ শতাংশ হারে কমিশন দিতে হয়। এমনকি কার্যাদেশ নিতেও প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে তিনি অগ্রিম অর্থ দাবি করতেন।

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে গত ৯ মার্চ প্রকৌশলী ইমরুল হাসানকে জয়পুরহাটে বদলি করা হয়েছিল। তবে রহস্যজনকভাবে ২৪ মার্চ তিনি আবার সাটুরিয়ায় বহাল হন। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ তার বিরুদ্ধে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ক্ষতিপূরণ ও বিচারের দাবিতে পুনরায় লিখিত অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগী ঠিকাদার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ইমরুল হাসান ঘুষ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। ঠিকাদার তাকে না জানিয়ে কাজ শুরু করায় তিনি তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

মানিকগঞ্জ জেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬


দুই শতাংশ ঘুষ দাবি করা সেই প্রকৌশলী ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ২ শতাংশ হারে ঘুষ দাবি এবং ঘুষ না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসানকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ (তাৎক্ষণিক বদলি) করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগে দৈনিক সংবাদে খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি এলজিইডি সদর দপ্তরের নজরে আসে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস আর ট্রেডার্স’ প্রধান প্রকৌশলী বরাবর এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছিল।

সাটুরিয়ায় ‘২ শতাংশ ঘুষ’ না পেয়ে কাজ বন্ধ করলেন প্রকৌশলী

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে ধুল্লা ভায়া খুনিরটেক বাজার সড়কের দুই হাজার মিটার উন্নয়নের জন্য ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার কাজ পায় এস আর ট্রেডার্স। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদার কাজ শুরু করতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসান ও উপসহকারী প্রকৌশলী তাতে বাধা দেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. রুমান অভিযোগ করেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলী কাজ শুরু করার শর্ত হিসেবে বরাদ্দের মোট টাকার ওপর ২ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। নির্ধারিত সময়ে ঘুষ দিতে না পারায় তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। দুই মাস কাজ বন্ধ থাকায় আমার কেনা ২০০ ব্যাগ সিমেন্ট জমাট বেঁধে নষ্ট হয়ে গেছে এবং সাইট থেকে নির্মাণসামগ্রী চুরি হয়ে আমি প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক লোকসানে পড়েছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরও কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, প্রতিটি কাজ থেকেই এই প্রকৌশলীকে ১ থেকে ৩ শতাংশ হারে কমিশন দিতে হয়। এমনকি কার্যাদেশ নিতেও প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে তিনি অগ্রিম অর্থ দাবি করতেন।

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে গত ৯ মার্চ প্রকৌশলী ইমরুল হাসানকে জয়পুরহাটে বদলি করা হয়েছিল। তবে রহস্যজনকভাবে ২৪ মার্চ তিনি আবার সাটুরিয়ায় বহাল হন। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ তার বিরুদ্ধে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ক্ষতিপূরণ ও বিচারের দাবিতে পুনরায় লিখিত অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগী ঠিকাদার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ইমরুল হাসান ঘুষ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। ঠিকাদার তাকে না জানিয়ে কাজ শুরু করায় তিনি তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

মানিকগঞ্জ জেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত