সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রংপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট

লাইনে দাঁড়িয়ে হৃদরোগে প্রাণ গেল শিক্ষকের, সংঘর্ষে আহত ৩


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

লাইনে দাঁড়িয়ে হৃদরোগে প্রাণ গেল শিক্ষকের, সংঘর্ষে আহত ৩
ছবি : সংবাদ

রংপুর নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার চলছে। তেল পাওয়ার আশায় পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

এর মধ্যে গতকাল শনিবার রাতে তেল নিতে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার একপর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, রোববার (১২ এপ্রিল ) দুপুরে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

নিহত শিক্ষকের নাম মেহেদী হাসান। তিনি নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে নগরীর কেন্দ্রীয় টার্মিনাল এলাকার সুরমা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে তেল নিতে যান তিনি। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকেরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই নগরীর শাপলা চত্বরের ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনে শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহনের ভিড়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তেল আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সিরিয়াল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এ সময় এক ব্যক্তি নিয়ম ভেঙে মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্য গ্রাহকেরা বাধা দেন। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে এক পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে শামসুল আলমসহ তিনজন আহত হন। আহত শামসুল আলম জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনগুলোতে কোনো শৃঙ্খলা নেই। শাহিদার রহমান ও মামুন নামের দুই গ্রাহক বলেন, তারা সকাল ৮টা থেকে দাঁড়িয়ে থাকলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ও দালালেরা ১০০ টাকার বিনিময়ে লাইন ভেঙে অনেককে তেল নিয়ে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের করার কিছু নেই। শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের, কিন্তু তাদের পাওয়া যাচ্ছে না।’

ভোক্তাদের আরও অভিযোগ, তেলের সংকটের সুযোগ নিয়ে প্রতি লিটারে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম তেল কম দিচ্ছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। বিএসটিআই, জেলা প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোনো তদারকি না থাকায় পাম্প মালিকেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

রংপুর মহানগরে প্রায় ৪০টি ফিলিং স্টেশন থাকলেও কোন পাম্পে কখন তেল পাওয়া যাবে, তা আগে থেকে না জানানোর ফলে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে 'ফুয়েল কার্ড' চালুর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬


লাইনে দাঁড়িয়ে হৃদরোগে প্রাণ গেল শিক্ষকের, সংঘর্ষে আহত ৩

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রংপুর নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার চলছে। তেল পাওয়ার আশায় পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

এর মধ্যে গতকাল শনিবার রাতে তেল নিতে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার একপর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, রোববার (১২ এপ্রিল ) দুপুরে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

নিহত শিক্ষকের নাম মেহেদী হাসান। তিনি নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে নগরীর কেন্দ্রীয় টার্মিনাল এলাকার সুরমা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে তেল নিতে যান তিনি। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকেরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই নগরীর শাপলা চত্বরের ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনে শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহনের ভিড়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তেল আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে সিরিয়াল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এ সময় এক ব্যক্তি নিয়ম ভেঙে মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্য গ্রাহকেরা বাধা দেন। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে এক পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে শামসুল আলমসহ তিনজন আহত হন। আহত শামসুল আলম জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনগুলোতে কোনো শৃঙ্খলা নেই। শাহিদার রহমান ও মামুন নামের দুই গ্রাহক বলেন, তারা সকাল ৮টা থেকে দাঁড়িয়ে থাকলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ও দালালেরা ১০০ টাকার বিনিময়ে লাইন ভেঙে অনেককে তেল নিয়ে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের করার কিছু নেই। শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের, কিন্তু তাদের পাওয়া যাচ্ছে না।’

ভোক্তাদের আরও অভিযোগ, তেলের সংকটের সুযোগ নিয়ে প্রতি লিটারে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম তেল কম দিচ্ছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। বিএসটিআই, জেলা প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোনো তদারকি না থাকায় পাম্প মালিকেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

রংপুর মহানগরে প্রায় ৪০টি ফিলিং স্টেশন থাকলেও কোন পাম্পে কখন তেল পাওয়া যাবে, তা আগে থেকে না জানানোর ফলে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে 'ফুয়েল কার্ড' চালুর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত