সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

কিশোরীদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার প্রস্তাব

হামের প্রকোপ মোকাবিলায় গবেষণায় জোর


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

হামের প্রকোপ মোকাবিলায় গবেষণায় জোর

বিএমইউর উপাচার্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী হাম প্রতিরোধে নতুন কৌশল অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি জানান, বর্তমানে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও হামের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা আগে সচরাচর দেখা যেত না। এর অর্থ হলো মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সব ক্ষেত্রে শিশুর মধ্যে যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিশোরী মেয়েদের বুস্টার ডোজ প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

রবিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিল্টন হলে শিশু বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হামের পুনরুত্থান প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

বিএমইউর উপাচার্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, গোলটেবিল আলোচনা থেকে হাম প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় প্রাপ্ত বিষয়গুলো নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। টিকার জন্য বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহারের বিষয়টিও জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হাম প্রতিরোধে কিশোরীদের বুস্টার ডোজ দেওয়া যায় কিনা সেটা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। হাম প্রতিরোধে সার্ভেসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে করে বিজ্ঞানসম্মত তথ্য নীতি নির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করা যায়।

উপাচার্য সতর্ক করে বলেন, প্রতিটি মহামারি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। পরবর্তী বড় মহামারির জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত, তা এখনই বিবেচনার সময় এসেছে।

অনুষ্ঠানে বিএমইউর শিশু অনুষদের ডিন ডা. মো. আতিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু বিভাগের ডা. জেসমিন মোরশেদ। তিনি জানান, হামে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বিএমইউতে ইতিমধ্যে আইসোলেটেড ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সময়মতো টিকা দিলে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব, তাই চলমান টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় অ্যান্টিবায়োটিকের সচেতন ব্যবহার, কেসভিত্তিক নজরদারি এবং প্রাথমিক শনাক্তকরণ জোরদার করার বিষয়টি।

বিশেষজ্ঞ আলোচনায় বিএমইউর কোষাধ্যক্ষ ডা. নাহরীন আখতার নারীদের গর্ভবতী হওয়ার আগে ও পরে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন। বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ডিন ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, হামের প্রকোপ ভবিষ্যতে বড় ক্ষতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেন এই রোগের পুনরুত্থান হলো এবং টিকাদানে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবেদ হোসেন মোল্লা জানান, হাম একটি অতিসংক্রমণজনিত ভাইরাস যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে। আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে দৈনিক দুটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সংক্রমণের ব্যাপকতা রোধে আইসোলেশন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের জোগান নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

সভায় বিশেষজ্ঞরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে বলেন, জ্বর হলেই আতঙ্কিত হয়ে রোগীকে আলাদা করার প্রয়োজন নেই। তবে জ্বর হওয়ার চার দিন পর শরীরে র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবশ্যই রোগীকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিএমইউর উপ-উপাচার্য ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং আইসিডিডিআরবি’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে কার্যকর রোগ ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডা. আতিয়ার রহমান পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন, যেহেতু ৬ মাসের কম বয়সী শিশুরাও এখন আক্রান্ত হচ্ছে, তাই এই বিষয়ে দ্রুত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬


হামের প্রকোপ মোকাবিলায় গবেষণায় জোর

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিএমইউর উপাচার্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী হাম প্রতিরোধে নতুন কৌশল অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি জানান, বর্তমানে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও হামের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা আগে সচরাচর দেখা যেত না। এর অর্থ হলো মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সব ক্ষেত্রে শিশুর মধ্যে যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিশোরী মেয়েদের বুস্টার ডোজ প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

রবিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিল্টন হলে শিশু বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হামের পুনরুত্থান প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

বিএমইউর উপাচার্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, গোলটেবিল আলোচনা থেকে হাম প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় প্রাপ্ত বিষয়গুলো নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। টিকার জন্য বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহারের বিষয়টিও জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হাম প্রতিরোধে কিশোরীদের বুস্টার ডোজ দেওয়া যায় কিনা সেটা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। হাম প্রতিরোধে সার্ভেসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে করে বিজ্ঞানসম্মত তথ্য নীতি নির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করা যায়।

উপাচার্য সতর্ক করে বলেন, প্রতিটি মহামারি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। পরবর্তী বড় মহামারির জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত, তা এখনই বিবেচনার সময় এসেছে।

অনুষ্ঠানে বিএমইউর শিশু অনুষদের ডিন ডা. মো. আতিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু বিভাগের ডা. জেসমিন মোরশেদ। তিনি জানান, হামে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বিএমইউতে ইতিমধ্যে আইসোলেটেড ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সময়মতো টিকা দিলে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব, তাই চলমান টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় অ্যান্টিবায়োটিকের সচেতন ব্যবহার, কেসভিত্তিক নজরদারি এবং প্রাথমিক শনাক্তকরণ জোরদার করার বিষয়টি।

বিশেষজ্ঞ আলোচনায় বিএমইউর কোষাধ্যক্ষ ডা. নাহরীন আখতার নারীদের গর্ভবতী হওয়ার আগে ও পরে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন। বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ডিন ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, হামের প্রকোপ ভবিষ্যতে বড় ক্ষতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেন এই রোগের পুনরুত্থান হলো এবং টিকাদানে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবেদ হোসেন মোল্লা জানান, হাম একটি অতিসংক্রমণজনিত ভাইরাস যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে। আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে দৈনিক দুটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সংক্রমণের ব্যাপকতা রোধে আইসোলেশন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের জোগান নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

সভায় বিশেষজ্ঞরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে বলেন, জ্বর হলেই আতঙ্কিত হয়ে রোগীকে আলাদা করার প্রয়োজন নেই। তবে জ্বর হওয়ার চার দিন পর শরীরে র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবশ্যই রোগীকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিএমইউর উপ-উপাচার্য ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং আইসিডিডিআরবি’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে কার্যকর রোগ ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডা. আতিয়ার রহমান পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন, যেহেতু ৬ মাসের কম বয়সী শিশুরাও এখন আক্রান্ত হচ্ছে, তাই এই বিষয়ে দ্রুত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত