গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪১৮ জন। সব মিলিয়ে দেশে হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৯ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজার ২৯২ জনে পৌঁছেছে। মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে রবিবার হাম পরিস্থিতির এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১০ জনের মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে এবং
৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ ৫ জনের মৃত্যু
হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে নিশ্চিতভাবে ২৮ জন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে ১৫১
জনসহ মোট ১৭৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক আক্রান্তের
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৮০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত
হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীতে ২৪১ জন, চট্টগ্রামে ১৪৫ জন, খুলনায় ১০২ জন, বরিশালে ৭৬ জন,
সিলেটে ৪৯ জন, রংপুরে ৪১ জন এবং ময়মনসিংহে ৩৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সরকারি হিসাব
মতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭ হাজার ৬৫৬ জন।
শিশুদের সুরক্ষা
নিশ্চিত করতে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন
হামের এই ক্রমবর্ধমান
সংক্রমণ রোধে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার। রবিবার রাজধানীর কড়াইল
বস্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ড. এম এ মুহিত। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ চার সিটি কর্পোরেশনে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু
হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে এই বৃহৎ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, “শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে
সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়
সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।”
রাজনীতিবিদদের
প্রতি প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান
টিকাদান কর্মসূচিকে
সফল করতে রাজনীতিকদের মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জরুরি ক্যাম্পেইন
সফল করতে হলে সর্বস্তরের সবাইকে নিয়ে যে যার এলাকায় সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসুন।
এই ক্যাম্পেইন রাজনীতিবিদদের জন্য জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ। আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে
টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দিন।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“হাম যেমন দ্রুত ছড়ায়, টিকার মাধ্যমে তেমনি একে দ্রুত নির্মূল করা সম্ভব। আমরা যদি
অধিকাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারি, তবেই এই প্রাদুর্ভাব থামানো সম্ভব। শুধু নিজের
বাচ্চা টিকা নিল কি না, তাতেই হাম প্রতিরোধ সম্ভব নয়। সবার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
তৈরি করতে হবে। ১০০ জনের মধ্যে অন্তত ৯৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ঢাকা
উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ
আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪১৮ জন। সব মিলিয়ে দেশে হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৯ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজার ২৯২ জনে পৌঁছেছে। মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে রবিবার হাম পরিস্থিতির এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১০ জনের মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে এবং
৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ ৫ জনের মৃত্যু
হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে নিশ্চিতভাবে ২৮ জন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে ১৫১
জনসহ মোট ১৭৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক আক্রান্তের
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৮০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত
হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীতে ২৪১ জন, চট্টগ্রামে ১৪৫ জন, খুলনায় ১০২ জন, বরিশালে ৭৬ জন,
সিলেটে ৪৯ জন, রংপুরে ৪১ জন এবং ময়মনসিংহে ৩৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সরকারি হিসাব
মতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭ হাজার ৬৫৬ জন।
শিশুদের সুরক্ষা
নিশ্চিত করতে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন
হামের এই ক্রমবর্ধমান
সংক্রমণ রোধে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জোর দিচ্ছে সরকার। রবিবার রাজধানীর কড়াইল
বস্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ড. এম এ মুহিত। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ চার সিটি কর্পোরেশনে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু
হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে এই বৃহৎ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, “শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে
সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়
সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।”
রাজনীতিবিদদের
প্রতি প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান
টিকাদান কর্মসূচিকে
সফল করতে রাজনীতিকদের মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জরুরি ক্যাম্পেইন
সফল করতে হলে সর্বস্তরের সবাইকে নিয়ে যে যার এলাকায় সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসুন।
এই ক্যাম্পেইন রাজনীতিবিদদের জন্য জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ। আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে
টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দিন।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“হাম যেমন দ্রুত ছড়ায়, টিকার মাধ্যমে তেমনি একে দ্রুত নির্মূল করা সম্ভব। আমরা যদি
অধিকাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারি, তবেই এই প্রাদুর্ভাব থামানো সম্ভব। শুধু নিজের
বাচ্চা টিকা নিল কি না, তাতেই হাম প্রতিরোধ সম্ভব নয়। সবার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
তৈরি করতে হবে। ১০০ জনের মধ্যে অন্তত ৯৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে।”
অনুষ্ঠানে ঢাকা
উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ
আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

আপনার মতামত লিখুন