ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে অ্যাপ ও কার্ড আপগ্রেড করার কথা বলে প্রতারণার এক ভয়ংকর ফাঁদ পেতেছিলেন ডিজিটাল জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা। সেই ফাঁদে পা দিয়ে নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় থেকে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৫ টাকা খুইয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে
মো. রাকিবুল ইসলাম (২৩) নামে একজনকে
গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ঘটনার
বিবরণ দিয়ে সিআইডির বিশেষ
পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান
জানান, খুলনা বিদ্যুৎ বিভাগের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
গত ৬ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে
একটি কল পান। কলকারী
নিজেকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের
কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কার্ডের তথ্য
হালনাগাদ করার তাগিদ দেন।
সরল বিশ্বাসে ওই কর্মকর্তা তার
ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের
পিন ও ওটিপিসহ সংবেদনশীল
তথ্য শেয়ার করেন। এরপরই শুরু হয় টাকা
লুটের খেলা। ৭ থেকে ৯
জানুয়ারির মধ্যে মোট ১২টি অবৈধ
লেনদেনের মাধ্যমে ওই কর্মকর্তার অ্যাকাউন্ট
থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা
হয়।
প্রতারণার
বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী সোনাডাঙ্গা
থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) তদন্তে নেমে আধুনিক প্রযুক্তির
সহায়তায় অভিযুক্ত রাকিবুলকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাকিবুল নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, "আমি
একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে
এই কাজের সাথে জড়িত। ২০২৩
সাল থেকে টেলিগ্রাম অ্যাপের
মাধ্যমে অনলাইন কাজের লোভে পড়ে এই
চক্রে যোগ দেই। পরবর্তীতে
চক্রের নির্দেশনায় 'লাইন বেট' ও
'রেডি' নামক অ্যাপ ব্যবহার
করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণে নিতাম। এমনকি আত্মীয়-স্বজনের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেও অবৈধ লেনদেন
চালাতাম।"
সিআইডি
এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষকে
আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কোনো ব্যাংক বা
আর্থিক প্রতিষ্ঠান কখনোই ফোনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পিন বা ওটিপি
জানতে চায় না। অচেনা
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে
ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের কোনো গোপন তথ্য
শেয়ার না করার জন্য
বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং
চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে
অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে অ্যাপ ও কার্ড আপগ্রেড করার কথা বলে প্রতারণার এক ভয়ংকর ফাঁদ পেতেছিলেন ডিজিটাল জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা। সেই ফাঁদে পা দিয়ে নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় থেকে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৫ টাকা খুইয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে
মো. রাকিবুল ইসলাম (২৩) নামে একজনকে
গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ঘটনার
বিবরণ দিয়ে সিআইডির বিশেষ
পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান
জানান, খুলনা বিদ্যুৎ বিভাগের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
গত ৬ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে
একটি কল পান। কলকারী
নিজেকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের
কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কার্ডের তথ্য
হালনাগাদ করার তাগিদ দেন।
সরল বিশ্বাসে ওই কর্মকর্তা তার
ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের
পিন ও ওটিপিসহ সংবেদনশীল
তথ্য শেয়ার করেন। এরপরই শুরু হয় টাকা
লুটের খেলা। ৭ থেকে ৯
জানুয়ারির মধ্যে মোট ১২টি অবৈধ
লেনদেনের মাধ্যমে ওই কর্মকর্তার অ্যাকাউন্ট
থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা
হয়।
প্রতারণার
বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী সোনাডাঙ্গা
থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) তদন্তে নেমে আধুনিক প্রযুক্তির
সহায়তায় অভিযুক্ত রাকিবুলকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাকিবুল নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, "আমি
একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে
এই কাজের সাথে জড়িত। ২০২৩
সাল থেকে টেলিগ্রাম অ্যাপের
মাধ্যমে অনলাইন কাজের লোভে পড়ে এই
চক্রে যোগ দেই। পরবর্তীতে
চক্রের নির্দেশনায় 'লাইন বেট' ও
'রেডি' নামক অ্যাপ ব্যবহার
করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণে নিতাম। এমনকি আত্মীয়-স্বজনের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেও অবৈধ লেনদেন
চালাতাম।"
সিআইডি
এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষকে
আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কোনো ব্যাংক বা
আর্থিক প্রতিষ্ঠান কখনোই ফোনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পিন বা ওটিপি
জানতে চায় না। অচেনা
ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে
ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের কোনো গোপন তথ্য
শেয়ার না করার জন্য
বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং
চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে
অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন