সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৈশাখ ঘিরে আশায় বুক বেঁধেছেন মৃৎশিল্পীরা


প্রতিনিধি, কালিহাতী (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, কালিহাতী (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

বৈশাখ ঘিরে আশায় বুক বেঁধেছেন মৃৎশিল্পীরা
ছবি : সংবাদ

‘সব ভুলে যাই, সব ভুলে যাই/ তাও ভুলি না বাংলা মায়ের কোল। টাকডুম টাকডুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল।’-এই গানের সুর আর ঢাকের শব্দের রেশ নিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে পয়লা বৈশাখ। সারাদেশের মতো টাঙ্গাইলেও এখন জোরেশোরে চলছে বর্ষবরণের প্রস্তুতি।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই উৎসবকে ঘিরে চারদিকে সাজ সাজ রব। আর এই উৎসবের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে দীর্ঘ ঐতিহ্যের মাটির তৈরি পণ্য নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বেতডোবা পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বাড়িতেই বৈশাখী মেলায় বিক্রির জন্য মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা।

নিপুণ হাতে কেউ কাদা তৈরি করছেন, কেউ চাকা ঘোরাচ্ছেন, আবার কেউ মাটির হাতি, ঘোড়া বা পুতুলে রং তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন। কোনো কৃত্রিম কেমিক্যাল ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব রং।

বেতডোবা পালপাড়ার প্রবীণ মৃৎশিল্পী পরেশ চন্দ্র পাল (৭৯) ও রঞ্জিত পাল জানান, একসময় মাটির হাঁড়ি-পাতিল ও থালা-বাসনের ব্যাপক চাহিদা ছিল। কিন্তু প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ভিড়ে সেই ঐতিহ্য অনেকটা হারিয়েছে। তবে বৈশাখ এলে শো-পিস ও খেলনা হিসেবে মাটির পণ্যের কদর কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা।

মৃৎশিল্পী সুচিন্দ্র পালকে দেখা গেল মাটির কুমির তৈরিতে ব্যস্ত। তিনি বলেন, ‘বৈশাখ উপলক্ষে বাড়তি উপার্জনের আশায় আমরা পশুপাখি ও নানা ধরনের খেলনা তৈরি করছি। পরিশ্রম অনুযায়ী দাম না পেলেও বংশপরম্পরায় এই কাজ আমরা টিকিয়ে রেখেছি।’

আরেক ব্যবসায়ী উত্তম পাল জানান, তার দোকানে ঢাকা, বরিশাল ও কুষ্টিয়া থেকেও মাটির পণ্য পাইকারি ও খুচরা বিক্রির জন্য আনা হয়। 

তাদের পালপাড়ার প্রায় ৭০০ পরিবারের মধ্যে এখনো অন্তত ১০০ পরিবার এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছে। ছোট খেলনা থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর সামগ্রী-সবই তৈরি হচ্ছে এখানে। মেলার মৌসুমে একেকটি খেলনায় এক থেকে দেড় টাকা লাভ হলেও শো-পিস বা বড় সামগ্রীতে লাভ থাকে ভালোই।

ঘাটাইল থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা রিমন ও রাব্বি বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে সোনার তরী পার্কে মেলা হবে। সেখানে বিক্রির জন্য আমরা এখান থেকে মাটির খেলনা ও শৌখিন জিনিস নিতে এসেছি।’

মৃৎশিল্পীদের আক্ষেপ, উপকরণ ও জ্বালানির দাম বাড়লেও সে তুলনায় পণ্যের দাম বাড়ছে না। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি বলে মনে করেন তাঁরা। সরকারি সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে বাংলার এই প্রাচীন মৃৎশিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬


বৈশাখ ঘিরে আশায় বুক বেঁধেছেন মৃৎশিল্পীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

‘সব ভুলে যাই, সব ভুলে যাই/ তাও ভুলি না বাংলা মায়ের কোল। টাকডুম টাকডুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল।’-এই গানের সুর আর ঢাকের শব্দের রেশ নিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে পয়লা বৈশাখ। সারাদেশের মতো টাঙ্গাইলেও এখন জোরেশোরে চলছে বর্ষবরণের প্রস্তুতি।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই উৎসবকে ঘিরে চারদিকে সাজ সাজ রব। আর এই উৎসবের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে দীর্ঘ ঐতিহ্যের মাটির তৈরি পণ্য নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বেতডোবা পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বাড়িতেই বৈশাখী মেলায় বিক্রির জন্য মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা।

নিপুণ হাতে কেউ কাদা তৈরি করছেন, কেউ চাকা ঘোরাচ্ছেন, আবার কেউ মাটির হাতি, ঘোড়া বা পুতুলে রং তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন। কোনো কৃত্রিম কেমিক্যাল ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব রং।

বেতডোবা পালপাড়ার প্রবীণ মৃৎশিল্পী পরেশ চন্দ্র পাল (৭৯) ও রঞ্জিত পাল জানান, একসময় মাটির হাঁড়ি-পাতিল ও থালা-বাসনের ব্যাপক চাহিদা ছিল। কিন্তু প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ভিড়ে সেই ঐতিহ্য অনেকটা হারিয়েছে। তবে বৈশাখ এলে শো-পিস ও খেলনা হিসেবে মাটির পণ্যের কদর কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা।

মৃৎশিল্পী সুচিন্দ্র পালকে দেখা গেল মাটির কুমির তৈরিতে ব্যস্ত। তিনি বলেন, ‘বৈশাখ উপলক্ষে বাড়তি উপার্জনের আশায় আমরা পশুপাখি ও নানা ধরনের খেলনা তৈরি করছি। পরিশ্রম অনুযায়ী দাম না পেলেও বংশপরম্পরায় এই কাজ আমরা টিকিয়ে রেখেছি।’

আরেক ব্যবসায়ী উত্তম পাল জানান, তার দোকানে ঢাকা, বরিশাল ও কুষ্টিয়া থেকেও মাটির পণ্য পাইকারি ও খুচরা বিক্রির জন্য আনা হয়। 

তাদের পালপাড়ার প্রায় ৭০০ পরিবারের মধ্যে এখনো অন্তত ১০০ পরিবার এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছে। ছোট খেলনা থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর সামগ্রী-সবই তৈরি হচ্ছে এখানে। মেলার মৌসুমে একেকটি খেলনায় এক থেকে দেড় টাকা লাভ হলেও শো-পিস বা বড় সামগ্রীতে লাভ থাকে ভালোই।

ঘাটাইল থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা রিমন ও রাব্বি বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে সোনার তরী পার্কে মেলা হবে। সেখানে বিক্রির জন্য আমরা এখান থেকে মাটির খেলনা ও শৌখিন জিনিস নিতে এসেছি।’

মৃৎশিল্পীদের আক্ষেপ, উপকরণ ও জ্বালানির দাম বাড়লেও সে তুলনায় পণ্যের দাম বাড়ছে না। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি বলে মনে করেন তাঁরা। সরকারি সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে বাংলার এই প্রাচীন মৃৎশিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত