সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

জামালপুরের কাঁচা মরিচ যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়, লাভে চাষিরা


প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

জামালপুরের কাঁচা মরিচ যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়, লাভে চাষিরা
ছবি : সংবাদ

জামালপুরের চরাঞ্চলে উৎপাদিত কাঁচা মরিচ এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে উৎপাদন কিছুটা কম হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে স্থানীয় কৃষকদের মুখে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, জামালপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে হাইব্রিড জাতের মরিচ চাষ হয়। মান ভালো হওয়ায় বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব মরিচ মালয়েশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাজারের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।

মাদারগঞ্জ উপজেলার গাবেরগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী মালেক মিয়া জানান, প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে উন্নত মানের মরিচ সংগ্রহ করেন।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ২৮ টাকায় বিক্রি হলেও রপ্তানির জন্য তারা কৃষকদের ৩৪ টাকা পর্যন্ত দিচ্ছেন। এসব মরিচ প্যাকেটজাত করে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। প্রতিটি কার্টুনে ৯ কেজি করে মরিচ থাকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এ পর্যন্ত জেলা থেকে প্রায় ৭০০ টন কাঁচা মরিচ রপ্তানি হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ কম হওয়ার পেছনে প্রতিকূল আবহাওয়া ও অতিরিক্ত বৃষ্টিকে দায়ী করছেন কৃষকরা।

মাদারগঞ্জের কৃষক আবদুল রহিম বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এবার ফলন আগের চেয়ে কম হয়েছে। তবে সারের দাম বাড়ায় আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। রপ্তানি শুরু হওয়ায় বাজারে দাম ভালো পাচ্ছি, এতে অন্তত খরচটা উঠে আসছে।’

আরেক কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, বিদেশে চাহিদা থাকায় এ বছর মরিচ বিক্রি করে তারা লাভের মুখ দেখছেন।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, মাদারগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার কাঁচা মরিচ বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তিগত রপ্তানিকারকের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। রপ্তানিযোগ্য মান বজায় রাখতে পারলে আগামীতে এ জেলার মরিচ বিদেশে আরও বড় বাজার তৈরি করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬


জামালপুরের কাঁচা মরিচ যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়, লাভে চাষিরা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জামালপুরের চরাঞ্চলে উৎপাদিত কাঁচা মরিচ এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে উৎপাদন কিছুটা কম হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে স্থানীয় কৃষকদের মুখে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, জামালপুরের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে হাইব্রিড জাতের মরিচ চাষ হয়। মান ভালো হওয়ায় বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব মরিচ মালয়েশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাজারের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।

মাদারগঞ্জ উপজেলার গাবেরগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী মালেক মিয়া জানান, প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে উন্নত মানের মরিচ সংগ্রহ করেন।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ২৮ টাকায় বিক্রি হলেও রপ্তানির জন্য তারা কৃষকদের ৩৪ টাকা পর্যন্ত দিচ্ছেন। এসব মরিচ প্যাকেটজাত করে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। প্রতিটি কার্টুনে ৯ কেজি করে মরিচ থাকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এ পর্যন্ত জেলা থেকে প্রায় ৭০০ টন কাঁচা মরিচ রপ্তানি হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ কম হওয়ার পেছনে প্রতিকূল আবহাওয়া ও অতিরিক্ত বৃষ্টিকে দায়ী করছেন কৃষকরা।

মাদারগঞ্জের কৃষক আবদুল রহিম বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এবার ফলন আগের চেয়ে কম হয়েছে। তবে সারের দাম বাড়ায় আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। রপ্তানি শুরু হওয়ায় বাজারে দাম ভালো পাচ্ছি, এতে অন্তত খরচটা উঠে আসছে।’

আরেক কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, বিদেশে চাহিদা থাকায় এ বছর মরিচ বিক্রি করে তারা লাভের মুখ দেখছেন।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, মাদারগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার কাঁচা মরিচ বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তিগত রপ্তানিকারকের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। রপ্তানিযোগ্য মান বজায় রাখতে পারলে আগামীতে এ জেলার মরিচ বিদেশে আরও বড় বাজার তৈরি করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত