সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

কম খরচে বেশি লাভ, মুগডাল চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা


প্রতিনিধি, দুমকি (পটুয়াখালী)
প্রতিনিধি, দুমকি (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

কম খরচে বেশি লাভ, মুগডাল চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা
ছবি : সংবাদ

পটুয়াখালীর দুমকিতে চলতি মৌসুমে মুগডালের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। উপজেলার মাঠগুলোতে এখন সবুজের সমারোহ। অধিকাংশ খেত ফুল ও ফলে ভরে গেছে, কিছু এলাকায় ফল পাকতেও শুরু করেছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগা জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার মুরাদিয়া, শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া, লেবুখালী ও পাঙ্গাশিয়া-এই পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে মুগডাল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অল্প সময়ে ও কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহে এবার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দক্ষিণ মুরাদিয়ার কৃষক আবুল কালাম জানান, তিনি তিন একর জমিতে ‘বারি মুগ-২’ জাতের ডাল চাষ করেছেন। খেত ফলে ভরে গেছে। এখন তিনি আগাছা পরিষ্কার ও শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত।

আরেক কৃষক মাইনুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার তিনি সারিবদ্ধ পদ্ধতিতে ‘বারি মুগ-৬’ ও ‘বারি মুগ-৮’ জাতের প্রদর্শনী প্লট আবাদ করেছেন। তাঁর মতে, ছিটিয়ে বীজ বপনের চেয়ে সারিবদ্ধ পদ্ধতিতে আবাদ করলে ফলন অনেক বেশি পাওয়া যায়। দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তিন একর জমিতে মুগডাল বুনেছি। খরচ কম কিন্তু ফলন বেশ ভালো হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আবহাওয়া চাষের অনুকূলে রয়েছে। অতিবৃষ্টি বা বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার উপজেলায় মুগডালের রেকর্ড ফলন হবে।’ তিনি আরও জানান, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা লাভবান হতে পারেন।

কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হওয়ায় এবার উৎপাদনও অনেক বাড়বে। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের ডাল উৎপাদনেও দুমকি উপজেলা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬


কম খরচে বেশি লাভ, মুগডাল চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর দুমকিতে চলতি মৌসুমে মুগডালের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। উপজেলার মাঠগুলোতে এখন সবুজের সমারোহ। অধিকাংশ খেত ফুল ও ফলে ভরে গেছে, কিছু এলাকায় ফল পাকতেও শুরু করেছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগা জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার মুরাদিয়া, শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া, লেবুখালী ও পাঙ্গাশিয়া-এই পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে মুগডাল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অল্প সময়ে ও কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহে এবার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দক্ষিণ মুরাদিয়ার কৃষক আবুল কালাম জানান, তিনি তিন একর জমিতে ‘বারি মুগ-২’ জাতের ডাল চাষ করেছেন। খেত ফলে ভরে গেছে। এখন তিনি আগাছা পরিষ্কার ও শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত।

আরেক কৃষক মাইনুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার তিনি সারিবদ্ধ পদ্ধতিতে ‘বারি মুগ-৬’ ও ‘বারি মুগ-৮’ জাতের প্রদর্শনী প্লট আবাদ করেছেন। তাঁর মতে, ছিটিয়ে বীজ বপনের চেয়ে সারিবদ্ধ পদ্ধতিতে আবাদ করলে ফলন অনেক বেশি পাওয়া যায়। দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তিন একর জমিতে মুগডাল বুনেছি। খরচ কম কিন্তু ফলন বেশ ভালো হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আবহাওয়া চাষের অনুকূলে রয়েছে। অতিবৃষ্টি বা বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার উপজেলায় মুগডালের রেকর্ড ফলন হবে।’ তিনি আরও জানান, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা লাভবান হতে পারেন।

কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হওয়ায় এবার উৎপাদনও অনেক বাড়বে। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের ডাল উৎপাদনেও দুমকি উপজেলা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত