ঝিনাইদহের মহেশপুরে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বোরো ধানের আবাদ হলেও সেচ সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। জ্বালানি তেলের সংকট ও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে মাঠ পর্যায়ে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে ফলন বিপর্যয় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মোট ২১ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১৭০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ২১ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে মিনিকেট (১২,৬১৪ হেক্টর), ব্রিধান-২৯ (৬,২৩৯ হেক্টর) ও ব্রিধান-৮৯ (৫২৬ হেক্টর)।
মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে, ৫ হাজার ১২৫ হেক্টর জমি বিদ্যুৎচালিত এবং ১৬ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমি ডিজেলচালিত সেচের ওপর নির্ভরশীল। কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত তেল মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে একবারে ৫০০ টাকার বেশি ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না, যা সেচ পাম্প চালানোর জন্য একেবারেই অপ্রতুল।
আজমপুর ইউনিয়নের কৃষক জাহিদ ও মিন্টু জানান, তেলের সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া যাচ্ছে না।
পান্তাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুর রহিম ও যাদবপুর ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম বলেন, সেচ দিতে না পারায় ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ধানের অবস্থা এখন পর্যন্ত ভালো থাকলেও এই সংকট চলতে থাকলে ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। সেচ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কাঙ্ক্ষিত ফলন অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আবাদ হলেও দ্রুত সেচ সমস্যার সমাধান না হলে মহেশপুরের কৃষকেরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।
আপনার মতামত লিখুন